লাইফস্টাইল

অনলাইন গেমে আসক্তির ক্ষতিকর দিক

অনলাইন গেমে আসক্তির ক্ষতিকর দিক

অনুমান করা হয় আমেরিকার জনসংখ্যার অর্ধেক গেইমিং এ আসক্ত সম্প্রতি একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে গেইমিংয়ে শুধু কিশোরেরা আসক্ত নয়,মাত্র 21% গেইমার 18 বছরের কম বয়সি। গেমিং একটি শখ কখনো কখনো সেটা নেশায় রূপান্তরিত হয়। অনেক কলেজ ক্যাম্পাসে এটি প্রতিযোগিতামূলক খেলা হয়ে উঠেছে প্রচুর গেমিং করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই ক্ষতি কারণ থেকে বাঁচতে কি কি করা যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে

গেমিং আমাদের জন্য যেভাবে ভালো

গেমিং আমাদের জন্য যেভাবে ভালো

গেইমিং এর ক্ষতিকারক বিষয়গুলি সম্পর্কে আলোচনা করার আগে সুবিধাগুলি উল্লেখ করা উচিত। গেমিং বিনোদনের সাথে সাথে ভার্চুয়াল যোগাযোগ রক্ষা করার একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে, আমাদের সমাজ নিঃসঙ্গতার মহামারীতে ভুগছে ।গেমিং করার মাধ্যমে আপনি ভার্চুয়াল যোগাযোগ রাখতে পারবেন, ব্যস্ত জীবনে পরিবারের মানুষগুলো যখন নিজেদের কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত পরিবারের সবাই যখন একসাথে বসে কিছুক্ষণ মন খুলে কথা বলার হয়ে ওঠে না তখন অনেকেই বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ভার্চুয়াল জগতে গেম খেলা টা কে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।কিছু গবেষকদের মতে গেমিং এর প্রধান সুবিধা হচ্ছে মনোযোগ ভালো নিয়ন্ত্রণ,ঝুঁকি সম্পর্কে উন্নত ধারণা। যদিও গেইমিং এ মোটামুটি সবকিছুই কাল্পনিক বাস্তব জগতে তা কতটা কার্যকর তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

কীভাবে গেমিং আমাদের উপকার করে?

কীভাবে গেমিং আমাদের উপকার করে?

বলা হয়ে থাকে গেম খেলার সব থেকে বড় সুবিধা হচ্ছে মনোযোগ ধরে রাখার শক্তি বৃদ্ধি পাওয়া । আপনি যখন একটি ভিডিও গেম খেলবেন তখন আপনাকে আপনার স্ক্রিনে সব কোনায় সমান মনোযোগ রাখতে হবে এর সাথে সাথে আপনাকে শত্রুর অবস্থা, এই শত্রুর ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে হবে আর এই সবকিছু বার বার প্র্যাকটিস করার কারণে গেমারদের একটি নির্দিষ্ট কাজের প্রতি দীর্ঘক্ষন মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।খেলায় জেতার জন্য মনোযোগ ধরে রাখা খুবই জরুরী.

ভিডিও গেম খেলার স্বাস্থ্যের উপকারিতা

ভিডিও গেম খেলার স্বাস্থ্যের উপকারিতা

দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থ শিশুদের জন্য ভিডিও গেম থেরাপি হিসেবে কাজ করে।

Utah বিশ্ববিদ্যালয় গত বছর একটি গবেষণা প্রকাশ করেছিল যা অটিজম, হতাশা এবং পার্কিনসন রোগের মতো অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের নিয়মিত গেমিংয়ের প্রভাব পরীক্ষা করে। যেসব বাচ্চারা গবেষণার জন্য ডিজাইন করা গেমস খেলত তারা “স্থিতিস্থাপকতা, ক্ষমতায়ন এবং একটি ‘যুদ্ধের চেতনা’ উন্নতির লক্ষণ দেখিয়েছিল।” গেমের “স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া যা ইতিবাচক আবেগকে সক্রিয় করে তোলে এবং পুরষ্কার ব্যবস্থা “বাচ্চাদের আচরণকে উন্নত করতে সাহায্য করেছিল মনোযোগ দিয়ে গেমিং করার ফলে তারা তাদের অসুস্থতা ভুলে থাকতে পারতো।

ভিডিও গেম সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা উন্নত করে

ভিডিও গেম আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা উন্নত করে

বেশিরভাগ ভিডিও গেম খেলা অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত নিতে হয় কারণ এগুলোর উপরেই আপনার ভার্চুয়াল জীবন-মৃত্যু নির্ভর করে। নিউ ইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্টিস্টরা এই গেম খেলোয়াড়দের মস্তিষ্ককে বাস্তব বিশ্বে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রচুর অনুশীলন করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা পরামর্শ দিয়েছেন যে অ্যাকশন-ওরিয়েন্টেড গেমস সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটির জন্য একটি সিমুলেটর হিসাবে কাজ করে।

ভিডিও গেম মানুষকে বার্ধক্যে সুখী রাখে

ভিডিও গেম মানুষকে বার্ধক্যে সুখী রাখে

উত্তর ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ভিডিও গেমস খেলতো এমন মানুষদের মানসিক সুস্থতার মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কিনা তা দেখার জন্য বয়স্ক মানুষদের উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রেখেছিলেন তারা দেখতে পেলো সিনিয়র নাগরিক যারা বলেছিলেন যে তারা ভিডিও গেমস খেলেন তাদের তুলনায় “যাঁরা ভিডিও গেমস খেলেননি তারা বেশি নেতিবাচক আবেগের কথা জানিয়েছেন”এবং তাদের হতাশার সম্ভাবনা বেশি ছিল।

অনলাইন গেমে আসক্তি ক্ষতিকারক দিক

গেমিং মানসিক সমস্যার সাথেও যুক্ত হয়েছে। ভিডিও গেম আসক্তি, বা ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার গেমিং একটি মানসিক সমস্যা কিনা এটি এখনো একটি জটিল প্রশ্ন। আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে,আইজিডি 12 মাসের গবেষণায় গেইমিংয়ের কিছু ভালো,খারাপ বিষয় উঠে এসেছে

গেমিং মানসিক সমস্যার সাথেও যুক্ত হয়েছে। ভিডিও গেম আসক্তি, বা ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার গেমিং একটি মানসিক সমস্যা কিনা এটি এখনো একটি জটিল প্রশ্ন। আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে,আইজিডি 12 মাসের গবেষণায় গেইমিংয়ের কিছু ভালো,খারাপ বিষয় উঠে এসেছে

1 গেমিং আসক্তির কারণে অন্যান্য কাজে আগ্রহ হারানো
2 গেমিং আসক্তির কারণে সম্পর্ক, শিক্ষাগত বা ক্যারিয়ারের সুযোগ হারানো
3 উদ্বেগ, অপরাধবোধ বা অন্যান্য নেতিবাচক অবস্থা থেকে বাঁচতে বা মুক্তি দিতে গেমিং
4 গেমিং আসক্তির কারণে কখনো কখনো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়া

আমেরিকান জার্নাল অফ সাইকিয়াট্রির এক জরিপে দেখা গেছে, 0.3% থেকে 1.0% আমেরিকানদের মধ্যে ইন্টারনেট গেমিং ডিসঅর্ডার থাকতে পারে। এই সমস্যার চিকিৎসা হলো নিজেকে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে সম্পৃক্ত করে নেয়া । পড়াশোনা,চাকরি বাকরি,ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়া। ওই সমস্ত গ্রুপ থেকে নিজেকে বর্জন করা যে গ্রুপগুলো ভিজিট করলে আপনার ভিতরে গেম খেলার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

গেমিং আসক্তির কারণে ঘুমের সমস্যা অনিদ্রা,হতাশা,আগ্রাসন এবং উদ্বেগের সৃষ্টি হতে পারে, (যদিও এই বিষয়গুলোতে কোন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জটিল) অনেক সময় ভিডিও গেমে এ দেখা যায় যে চরম সহিংসতার,নিসংসতা এই বিষয়গুলি কিছু কিছু উৎসুক তরুণকে সহিংসতার জন্য অস্থির করে তুলতে পারে।

ভিডিও গেম কিভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি করে

ভিডিও গেম মস্তিষ্কের কিভাবে ক্ষতি করে

ভিডিও গেমিং স্পষ্টভাবে বিনোদনের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম ভিডিও গেমাররা তাদের পর্দার সামনে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে 3 বিলিয়ন ঘন্টা ব্যয় করে। তাদের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে, বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেছেন যে কীভাবে ভিডিও গেমগুলি মস্তিষ্ক এবং মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করে। এই প্রভাবগুলি কি ইতিবাচক বা নেতিবাচক?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেড় মিলিয়নেরও বেশি লোক নিয়মিত ভিডিও গেম খেলেন বা প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে তিন ঘন্টা ভিডিও গেমে এ সময় দেন । গেম খেলা লোকদের গড় বয়স 35 বছর 71% পিতা-মাতা মনে করেন ভিডিও গেম তাদের সন্তানদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভিডিও গেম বিক্রয় বছরের পর বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। 2016 সালে ভিডিও গেম ইন্ডাস্ট্রি ২৪.৫ বিলিয়ন এর গেম বেশি বিক্রি করেছিলেন।

ভিডিও গেমস এবং মস্তিষ্কের পরিবর্তন

বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি তাদের করা 116 টি গবেষণা পর্যালোচনা করে এই মতামত প্রকাশ করেছেন ” ভিডিও গেম গুলি কখনো কখনো প্রশংসিত আবার কখনো এগুলো খুবই অদ্ভুত বেশিরভাগ ভিডিও গেম বাস্তবের সাথে মিল নেই গেমিং একটি জনপ্রিয় ক্রিয়া-কলাপ তাই সবার এটির বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে” লেখাটি হিউম্যান নিউরোসায়েন্সের ফ্রন্টিয়ার্সে প্রকাশিত হয়েছিল।
গবেষক টিম সমস্ত গবেষণা পর্যালোচনা করে এই ব্যাপারটি বুঝার চেষ্টা করেছিলেন ভিডিও গেম কিভাবে মস্তিষ্কের গঠন এবং ক্রিয়া কে প্রভাবিত করে গবেষণা পরিচালনায় মোট বাইশটি মস্তিষ্কের কাঠামোগত পরিবর্তনগুলি অন্বেষণ করেছেন এবং 100 টি গবেষণায় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং আচরণের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে ভিডিও গেম খেলে আমাদের মস্তিস্ক কীভাবে কার্য সম্পাদন করে তা নয় কেবল তাদের গঠনও পরিবর্তন করে।

হতাশা এবং ভিডিও গেম আসক্তি

হতাশা এবং ভিডিও গেম আসক্তি

ভিডিও গেম আসক্তি এবং হতাশার মধ্যে সম্পর্ক সম্পর্কে সাম্প্রতিক দুটি গবেষণা মধ্যে একটি উদ্বেগজনক সম্পর্ক দেখা গিয়েছে আপনি যদি উভয় অবস্থাতেই ভোগেন তবে উচিত হবে দুটি সমস্যার চিকিৎসা একই সাথে করানো আপনি যদি উভয় সমস্যার (হতাশা এবং গেমিং আসক্তি) সমাধান না করে শুধু ভিডিও গেম আসক্তির চিকিৎসা করার চেষ্টা করেন তবে প্রচুর সম্ভাবনা আছে আসক্তিটি পুনরুক্ত হওয়ার ।

বাচ্চাদের ভিডিও গেমিং আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা-মা কি করতে পারে

বাচ্চাদের ভিডিও গেমিং আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে বাবা-মা কি করতে পারে

অভিভাবকরা কয়েকটি সাধারণ কৌশল অনুসরণ করে ভিডিও গেম থেকে তাদের বাচ্চাদের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন – বিশেষত যদি তারা উদ্বিগ্ন হন যে তাদের সন্তানরা হিংসাত্মক খেলায় মেতে উঠেছে এবং কোন নির্দিষ্ট ভিডিও গেমের কারণে বাচ্চার জীবনের ঝুঁকি আছে। নিচের এই সাধারণ সতর্কতাগুলি অভিভাবকদের কাজে আসতে পারে

  1. কোন ভিডিও গেম এ কী ধরণের সামগ্রী রয়েছে তা আরও ভালভাবে বুঝতে ESRB রেটিংটি পরীক্ষা করে দেখুন।
  2. বাচ্চা ভিডিও গেম খেলা অবস্থায় বাচ্চার সাথে সময় দিন ভিডিও গেমের কনটেন্ট সম্পর্কে ধারনা নিন গেমটি খেলার সময় আপনার বাচ্চার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন।
  3. বাচ্চাদের শোয়ার ঘরে গেম খেলার সামগ্রী এবং কম্পিউটার না রেখে বাড়ির সাধারন জায়গায় রাখুন।
  4. আপনার বাচ্চা কতক্ষণ ভিডিও গেম খেলতে পারবে তার একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দিন।
  5. খেলাধুলা বা স্কুলের ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণকে উত্সাহিত করুন যাতে বাচ্চারা অনলাইনের পরিবর্তে ব্যক্তিগতভাবে সমবয়সীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

ভিডিও গেম উপভোগ্য এবং লোভনীয়, এগুলির যেমন কিছু উপকারিতা রয়েছে তেমনই কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের সাথে জড়িত থেকে এবং প্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা এবং গাইডেন্স প্রদানের মাধ্যমে সর্বোত্তমভাবে তাদের সুরক্ষা দিতে পারে।

1 Comment

  1. আমি এটার কিছু ক্ষতিকর দিক কপি করলাম ।
    এবং আপনার নাম ও দিয়ে দিলাম ।
    আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI