ক্যারিয়ার

অনলাইন থেকে আয় করার সহজ উপায়

অনলাইন থেকে টাকা উপার্জনের উপায়

অনলাইন থেকে আয় করা এখন আগের থেকে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। আপনি কি ঘরে বসে কিভাবে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করা যায় তা শিখতে চাচ্ছেন? তাহলে আসুন এই বিষয়ে আলোচনা করা যাক।

ঘরে বসে অর্থ উপার্জন করার অনেকগুলো মাধ্যম রয়েছে, বর্তমান বিশ্বে ঘরে বসে টাকা উপার্জন করার অনেক চাকরি ও ব্যবসা রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি ধারাবাহিকভাবে আরো বাড়বে। আপনি আপনার রেগুলার কাজ করার পাশাপাশি অনলাইনে বসে অন্য কারো জন্য কাজ করে দিতে পারেন অথবা অনলাইনে নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং আপনি যদি চান আপনি ঘরে বসে ফুলটাইম কাজও করতে পারেন। সুতরাং আপনি যদি বাড়তি ইনকাম করতে চান অথবা অনলাইনে নিজের ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে চান তবে নিচের তালিকাটি আপনার জন্য অনেক হেল্পফুল হবে, আমি সবসময় চেষ্টা করি অনলাইন থেকে আয় করার সহজ এবং নিরাপদ মাধ্যমগুলি তুলে ধরার জন্য, আপনি যদি অন্য কোন মাধ্যম জেনে থাকেন দয়া করে কমেন্ট বক্সে লিখুন অথবা আমাদেরকে মেইল ও করতে পারেন-

ফ্রিল্যান্সিং

image source pexels.com

অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করার সব থেকে জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং করা। ফ্রিল্যান্সিং এমন একটা ব্যাপার যেটা হচ্ছে আপনি যেকোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে অন্যের জন্য কাজ করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অনেকগুলি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে আপনাকে যা করতে হবে তা হল ওই প্ল্যাটফর্ম গুলোতে গিয়ে আপনি যে বিষয়ে দক্ষ ওই ক্যাটাগরি খুঁজে নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করা এবং আপনার উপযুক্ত কাজের জন্য আবেদন করা। আপনি সুন্দর করে নিজের একটি প্রোফাইল তৈরি করার মাধ্যমে ক্লায়েন্টদেরকে জানাতে পারবেন আপনি কোন বিষয়ে দক্ষ, যেন ক্লায়েন্টরা আপনার প্রোফাইলে এসে খুব সহজে বুঝতে পারে এবং আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য সবথেকে জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে আপওয়ার্ক ডটকম,ফাইবার ডটকম,ফ্রিল্যান্সার ডটকম,ইত্যাদি। আপনাকে মনে রাখতে হবে ক্লায়েন্ট যদি আপনাকে কোন কাজ দিয়ে থাকে আপনি কাজ শেষ করে কাজ জমা দেয়ার পরে ক্লায়েন্ট যদি স্যাটিসফাই না হয় তাহলে ক্লাইন্ট কাজের রিভিশন চাইতে পারে এবং আপনাকে ক্লায়েন্টের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কাজটি সংশোধন করে দিতে হবে। বেশিরভাগ সময়য়ে আপনি যে প্ল্যাটফর্মের মাধ্যম হয়ে কাজ করবেন ক্লায়েন্ট আপনাকে ওখানেই পে করবে। আপনাকে প্ল্যাটফর্ম থেকে টাকাটা নিয়ে আসতে হবে পাইনিওর অথবা পেপাল অথবা ব্যাংক ট্রান্সফার করে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

image source pexels.com

স্মার্ট উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য এবং সেবার বিক্রয় বৃদ্ধির জন্য সব সময় নতুন উপায় খুঁজতে থাকেন যাতে করে তাদের পণ্য এবং সেবা একটি নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়া যায়। এর অর্থ এই নয় যে নতুন ব্যবসা শুরু করা, উদ্যোক্তাদের কাছে থাকা পণ্য এবং সেবা আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে আরো বেশি লাভবান হতে পারেন। ইতিমধ্যে আপনি যদি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের যুক্ত না হয়ে থাকেন তবে আপনি অনেক বড় একটি সুযোগ মিস করছেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি: মনে করেন আপনার একটি মুরগির দোকান আছে। আপনি প্রতিদিন 100 টাকা করে দশটি মুরগি বিক্রি করছেন এবং এতে আপনার লাভ হচ্ছে প্রতি মোরগে 5 টাকা। আপনি চিন্তা করলেন আপনার বিক্রি আরও বৃদ্ধি করবেন কিন্তু কোন বেতনভুক্ত কর্মচারী না রেখে, তখন আপনি একটি প্রোগ্রাম চালু করলেন যেখানে বলে দিলেন আমার একটি মুরগি দোকান আছে কেউ যদি 100 টাকা করে মুরগি বিক্রি করে দিতে পারেন আপনি তাকে প্রতি মুরগিতে দুই টাকা দিবেন। দুই তিন জন লোক আসলো যারা অফলাইনে অথবা অনলাইনে মানুষের কাছে গিয়ে অথবা অনলাইনে ক্যাম্পেইন করে প্রতি জন পাঁচটি করে মোরগ বিক্রি করছে এতে করে আপনার লাভ হল আপনি কোন বেতনভুক্ত কর্মচারী না রেখে অতিরিক্ত আরো ৪৫ টাকা লাভ করতে পারলেন এবং যারা আপনার মোরগ বিক্রি করে দিল তারা নিজেদের কোনো পণ্য তৈরি না করে তাদের সুবিধামত সময়ে তাদের সুবিধা মত জায়গায় আপনার পণ্য মার্কেটিং করে প্রতি জন 10 টাকা ইনকাম করতে পারল। এটাই হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কনসেপ্ট।

অনলাইন জরিপ

শিক্ষার্থীরা তাদের অতিরিক্ত সময়ে অনলাইন ব্যবহার করে টাকা উপার্জন করার একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে অনলাইনে বিভিন্ন জরিপে অংশ নেয়া। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের নতুন পণ্য পরীক্ষা করার জন্য বিশ্বব্যাপী জরিপ পরিচালনা করে থাকে। মাত্র কয়েক মিনিটে কিছু ফরম পূরণ করার জন্য আপনি নগদ পুরস্কার পেতে পারেন। কিছু জরিপের জন্য আপনি 3 ডলার থেকে 5 ডলার অব্দি আয় করতে পারেন। নিচে কিছু ওয়েবসাইটের নাম দেয়া আছে আপনি চেষ্টা করে দেখতে পারেন। LifePoints, Branded Surveys, InboxPounds, Onepoll, i-Say, Opinion Outpost, YouGov, Pinecone, SurveyBods, এছাড়াও আপনি Swagbucks জন্য সাইন আপ করতে পারেন এটি অনলাইন জরিপের পাশাপাশি ওয়েব সার্চিং ভিডিও দেখা এবং গেম খেলার জন্য টাকা দিয়ে থাকে।

নিজের ওয়েবসাইট শুরু করুন

image source pexels.com

গুগল এডসেন্স টার্গেট করে একটি ওয়েবসাইট বানাতে পারেন।ওয়েবসাইট মাল্টি নিস অথবা একটি নিস টার্গেট করে প্রতিনিয়ত কন্টেন্ট আপলোড করতে পারেন। যখন আপনার ওয়েবসাইটে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিজিটর আসা শুরু করবে তখন গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করতে পারেন। ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে আসার পর যখনই অ্যাডে ক্লিক করবে তখনি আপনার ইনকাম শুরু হবে। আপনি ওয়েবসাইটে যত বেশি ট্রাফিক আনতে পারবেন ততো বেশি ইনকাম করতে পারবেন।

অনলাইনে নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারেন

image source pexels.com

আপনার নিজের কোন প্রোডাক্ট অনলাইনে বিক্রির মাধ্যমে ভালো একটা এমাউন্ট আর্ন করতে পারেন। অনলাইনে পণ্য বিক্রি করার মাধ্যম হতে পারে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে অথবা ফেইসবুকে একটা পেজ খোলার মাধ্যমে। আপনাকে মনে রাখতে হবে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অনেক জনপ্রিয় এবং অনেক কম্পিটিশন। আপনি যদি ইউনিক কোন পণ্য/সেবা অথবা সার্ভিস অফার করতে পারেন তাহকে অনলাইন থেকে একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট ইনকাম করতে পারবেন।

ডাটা এন্ট্রি

যদিও বিভিন্ন প্লাটফর্মে ডাটা এন্ট্রির চাহিদা রয়েছে তারপরেও আমি বলবো এটি কখনোই আপনার ক্যারিয়ার হতে পারে না। আপনি সাময়িক কিছু টাকা উপার্জন করতে পারেন, যদিও বাংলাদেশএ এটি এখনও অনেক জনপ্রিয়।
ডাটা এন্ট্রি হচ্ছে অনলাইনে করা কাজগুলোর মধ্যে সবথেকে সহজ কাজ, এটি করার জন্য আপনার তেমন কোন স্কিল এর দরকার হবে না , যা দরকার হবে তা হচ্ছে একটি কম্পিউটার, ইন্টারনে সংযোগ,দ্রুত টাইপিং করার ক্ষমতা এবং কোন একটি বিষয়ে অনেকক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস। বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে ঢুকে প্রোফাইল তৈরি করে আপনি খুব সহজে ডাটা এন্ট্রি কাজের জন্য বিড করা শুরু করতে পারেন।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট

image source pexels.com

ভার্চুয়াল সহকারী যাকে ব্যক্তিগত অফিস সহকারী অথবা ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে বলা যায়।
ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এর কাজ কি ? মূলত এমন একটি কাজ যা হচ্ছে আপনি বাড়িতে বসে আপনার ক্লায়েন্টের ভার্চুয়াল কাজগুলা করে দিবেন। যা আপনার ক্লায়েন্ট ব্যস্ততার কারণে করতে পারছে না ,আরেকটু পরিষ্কার করে বলা যায় একজন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আপনি ক্লায়েন্টের পরবর্তী মিটিং সম্পর্কে জানানো, ইমেইল পরিচালনা করা, মেসেজ পাঠানো, ক্লায়েন্ট এর পরবর্তী ভ্রমণ সম্পর্কে জানানো, ডাটা এন্ট্রি এবং ইভেন্ট প্ল্যানিং করে দিবেন। ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে গেলে আপনাকে প্রয়োজনীয় কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হবে ।

  • ভালো কমিউনিকেশন করার ক্ষমতা
  • ভালো গ্রামার জানতে হবে এবং বানান শুদ্ধ করে লিখতে জানতে হবে
  • এক্সেল এবং অফিস প্রোগ্রাম গুলো জানতে হবে
  • ড্রপবক্স বা গুগোল ড্রাইভ এর মত প্ল্যাটফর্ম গুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে
  • ইন্টারনেটে কোন কিছুর রিচার্জ করার এবিলিটি থাকতে হবে

কিছু ক্লায়েন্ট আপনাকে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে হায়ার করার পূর্বে আপনার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং আপনার পূর্বের ক্লায়েন্টদের রিভিউ চাইতে পারে । অবশ্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট তেমন কিছুই চায় না শুধু যদি ক্লায়েন্ট সাথে ভালো কমিউনিকেশন করে আপনি বুঝাতে পারেন ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে আপনার যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে।

ফটোগ্রাফি বিক্রয়

আপনি যদি ফটোগ্রাফিতে আগ্রহী হন বা আপনার ড্রাইভে প্রচুর ফটোগ্রাফ থেকে থাকে তবে কেন সেগুলো অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করছেন না? বর্তমানে ওয়েবসাইটগুলি প্রচুর পরিমাণে ফটোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আপনার কাছে যদি তাদের ব্যবহার উপযোগী ফটোগ্রাফ থাকে তাহলে সেগুলো বিক্রি করে কিছু টাকা উপার্জন করতে পারেন। আপনি বিজনেস ওয়েবসাইট ,নিউজ ওয়েবসাইট এবং ব্লগ ওয়েবসাইটে যে ধরনের ফটোগ্রাফ ব্যবহার করা হয় সেগুলো ভালো করে দেখুন এবং ওই ফটোগ্রাফি গুলার মত করে ছবি তুলুন এবং অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করুন । আপনি আপনার ফটোগ্রাফি বিক্রির জন্য এই সাইট গুলো ব্যবহার করতে পারেন,Alamy,Getty,iStock .

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI