ক্যারিয়ার আত্মউন্নয়ন

সঞ্চয় করার উপকারিতা,অর্থ সঞ্চয় করার সহজ উপায়

অর্থ সঞ্চয়

আমরা সবাই জানি ‘সঞ্চয় সমৃদ্ধি নিয়ে আসে’। কিন্তু এই সঞ্চয় করা অনেক বেশি কঠিন একটি কাজ। আর বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় সবার দ্বারা সহজে সঞ্চয় করা সম্ভব হয়না।
কথায় আছে “অর্থই অনর্থের মূল”, কিন্তু অর্থই আবার জীবিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। অর্থ ছাড়া যেমন মানুষের জীবিকা নির্বাহ সম্ভব নয় তেমনি অর্থের কারণেই অনেকে শ্রান্ত হয়।

জীবনের একটা পর্যায়ে গিয়ে মোটামুটি সবাই উপার্জন শুরু করে। কিন্তু কীভাবে ওই উপার্জিত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করতে হয় তা অনেকেই জানেনা।
আপনি হয়তো এখন আপনার জীবনের মধ্যবর্তী স্থানে আছেন। আপনার বয়স ধরে নিচ্ছি ২০ থেকে ৩০ এখনও আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ যুবক ভাবছেন কিন্তু এটাও সত্যি যে আপনি আপনার জীবনের অর্ধেক সময় অলরেডি পার করে ফেলেছেন, তাই এখনই সময় কিভাবে আপনার অর্থ সঞ্চয় করতে হবে এবং কিভাবে নিজের ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে হবে তা নিয়ে ভাবা।
এই আর্টিকেলে আমরা এমন কিছু আর্থিক সঞ্চয়ের অভ্যাস সম্পর্কে জানবো, যেগুলো আপনার অর্থকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।চলুন শুরু করা যাক

অর্থ ব্যয়ের বাজেট তৈরি করুন

বাজেট তৈরি করবেন এমন ভাবে যাতে আগে থেকেই মোটামুটি ধারণা করতে পারেন কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার অর্থ ব্যয় হতে পারে। এখন সেখানে এক টাকারও হিসাব করে রাখবেন। কোন খাতে কত ব্যয় করেছেন তা পরিপূর্ণভাবে উল্লেখ করবেন। অপ্রয়োজনীয় খাত নির্ধারণ করে ব্যয়ের পরিমাণ দেখে বাজেটে সে অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ কমিয়ে দিতে পারেন।
আপনি যদি জানতে পারেন আপনার কোন খাতে অযথা ব্যয় হচ্ছে তাহলে আপনি সেখানে ব্যয় কমাতে পারবেন।
আর ব্যয় কমাতে পারলেই আপনার অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হবে।

সব রকমের ঋণ পরিশোধ করে ফেলুন

আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে ব্যাংক অথবা অন্য কোন মাধ্যম থেকে ঋণ বা লোন নিতে হয়, এই ঋণ সুদ ভিত্তিক হওয়ার কারণে মূল অর্থের বেশি পরিমাণ টাকা আমাদের পরিশোধ করতে হয়। ঋণ যত দীর্ঘমেয়াদী হয় সেই অনুযায়ী সুদ তত বেশি হয়। অনেকেই আছে যারা এক জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে অন্য ঋণ শোধ করেন। কিন্তু এটা মোটেও সঠিক উপায় নয়। এতে করে আমাদের আর্থিক দুর্গতি আরো বৃদ্ধি পায়।
যদি আপনি অর্থ সঞ্চয় করতে চান তাহলে সবার আগে আপনাকে সব ধরণের ঋণ পরিশোধ করে ফেলতে হবে। নিজের সব রকমের বিলাসিতা ত্যাগ করে হলেও আগে ঋণ বা লোন মুক্ত হতে হবে। যদি আপনি আপনার সব ঋণ পরিশোধ করে ফেলতে পারেন তাহলে ইচ্ছামতো সঞ্চয় করতে পারবেন।

সঞ্চয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করুন

অর্থ সঞ্চয় এর অন্যতম মোটিভেশন হতে পারে আপনি কেন সঞ্চয় করছেন তা আগে থেকে ঠিক করে ফেলা।
হতে পারে আপনি আপনার পছন্দের কোন জায়গায় ভ্রমণ করতে চান কিংবা নিজের কোন বিজনেস শুরু করতে চান। তো ওই ক্ষেত্রে আপনাকে একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে, এই সময়ের মধ্যে আমি এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করবো কারণ আমি ওই অর্থ দিয়ে এই কাজটা করতে চাই। এভাবে নিজেকে মোটিভেশন দিতে পারলে আপনার অর্থ সঞ্চয় অনেক বাড়বে।

ধূমপান অথবা অন্য যে কোনো বাজে অভ্যাস ত্যাগ করুন

এ কথা আমরা সবাই জানি ধূমপান ত্যাগ করা কতটা কঠিন। কিন্তু আপনি যখন চিন্তা করবেন একটা সিগারেট দৈনিক করে হলেও আপনি মাসে কত টাকা ওই সিগারেটের পেছনে নষ্ট করছেন। যখন দেখতে পারবেন ওই একটা সিগারেট না খেলে আপনি ঠিক কত টাকা সঞ্চয় করতে পারছেন তখন আপনার হয়তো ওই অভ্যাসটা ছাড়া সহজ হবে।
তাই ধূমপান কিংবা অন্য কোনো অভ্যাস যেগুলো আপনার অর্থ বিনষ্ট করছে সেগুলো পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন।

প্রত্যাহিক ব্যয় কমান

আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবনে খেয়াল করুন যে কিভাবে আপনি প্রতিটা টাকা খরচ করছেন। যদি দেখেন আপনি এই সামান্য পথ হেঁটে গেলে আপনার পাঁচ টাকা লাভ হবে তাহলে ওই পথটা হেঁটে যান। আর যদি দেখেন বাইরে খাবার না খেয়ে আপনি বাসায় গিয়ে রান্না করা খাবার খেলে আপনার সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে তাহলে ওটাই করুন।
নিজের সব রকমের ব্যক্তিগত খরচ হিসাব করে দেখুন যে কোথায় আপনি অতিরিক্ত খরচ করছেন। যে কাজ টা আপনি নিজ হাতে করতে পারবেন সেটার জন্য অন্য কাউকে হায়ার করবেন না। বিদ্যুৎ পানি গ্যাস ইত্যাদি প্রয়োজনীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার করুন এতে আপনার ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হবে।
ভালো কোয়ালিটির জিনিসপত্র ব্যবহার করুন এতে আপনার সাময়িক খরচ বেশি হলেও ভবিষ্যৎ খরচ কমে যাবে।

একটা ইমারজেন্সি ফান্ড গঠন করুন

মানুষের জীবনের গতিপথের সঠিক কোনো নিশ্চয়তা নেই। যে কোন সময় যে কোন বিপদ আপদ আসতে পারে। তাই আগে থেকে ওই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য একটা ইমারজেন্সি ফান্ড গঠন করুন যেখান থেকে আপনি একেবারে অপারগ না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলবেন না। একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রাখুন যে আপনার ইমারজেন্সি ফান্ডে কমপক্ষে ৫০ হাজার কিংবা এক লক্ষ টাকা রাখতে পারবেন। এতে করে আপনার হঠাৎ দুর্যোগ কিংবা অন্য কোন বিপদ-আপদ অথবা প্রয়োজন আসলে আপনি সেটা সহজেই অতিক্রম করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে একটা ভালো উপায় হতে পারে আপনি একটা ভালো প্যাকেজ দেখে ব্যাংকে টাকা জমা রাখলে। তাহলে আপনার ওই দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের কারণে আপনি কিছু এক্সট্রা বেনিফিটও পাবেন। আর যখন ইচ্ছে হবে কিংবা যখন প্রয়োজন হবে তখন ওই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

উপরোল্লিখিত এইসব উপায় আপনি ফলো করলে আশা করি আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন করা সহজ হবে আর অর্থ সঞ্চয় অভ্যাস তৈরি হবে। তাই সঞ্চয় করুন সমৃদ্ধ জীবন গড়ে তুলুন।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI