স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

আপেলের স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং অপকারিতা

আপেল

আপেলের উপকারিতা এবং গুণাবলী জেনে আপনি এটিকে আপনার জীবনের একটি অংশ করে ফেলবেন। তবে এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে যা আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

আপেল সম্পর্কে কিছু নির্দিষ্ট তথ্য

আপেল একটি জনপ্রিয় ফল যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল হিসেবে বিবেচিত হয়। আপেল ব্যাপকভাবে পছন্দ করা হয়, এটি সহজেই প্রতিটি বাজারে পাওয়া যায়। আপেল খেতে সুস্বাদু হলেও এর উপকারিতাও অতুলনীয়, তাই ইংরেজিতে একটি বিখ্যাত উক্তি আছে “an apple a day keeps doctor away” এর মানে হচ্ছে প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়া ডাক্তারকে দূরে রাখতে পারে। নিয়মিত খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। আপনি এটিকে আপনার খাদ্যতালিকায় ফলের শালদ বা জুস হিসেবেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। আপেলকে স্বাস্থ্যকর উপাদানে পূর্ণ সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়, এর রস সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয়।

আপেলের বৈজ্ঞানিক নাম- malus domestica। আস্ত আপেল খাওয়া হয়, ৭৫০০ জাতের আপেল পাওয়া যায়। লাল রঙের আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই লাল রঙের আপেলকে অ্যান্টি-ইঞ্জিন ফল বলে মনে করা হয়। এছাড়াও হলুদ ও সবুজ আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ‘কারসেটিন’ যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে। এছাড়াও আপেল ত্বককে সুস্থ, সুন্দর, কোমল ও চকচকে করে। তবে আপেলের বীজ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করা হয়।

আপেলে প্রচুর পরিমাণে ‘অ্যান্টোসায়ানিন’ এবং ‘ট্যানিন’ থাকে। এতে রয়েছে ‘ভিটামিন’, ‘ফাইবার’ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান যা সমৃদ্ধ ঔষধি গুণসম্পন্ন। আপেল খেলে কোলেস্টেরল কমে এবং হার্ট সুস্থ থাকে। এটি দাঁতকে শক্তিও দেয়। ক্যান্সার প্রতিরোধ ও ডায়াবেটিস কমাতে আপেল খান।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা

আপেল খাওয়ার উপকারিতা

হৃদরোগীদের জন্য আপেল খাওয়ার উপকারিতা

আপেলে সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামের ভালো ভারসাম্য রয়েছে যা শরীরে কমবেশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আপেলে অনেক ধরনের ‘ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস’ রয়েছে যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে রক্ষা করতে অত্যন্ত সক্ষম। এটি হৃৎপিণ্ডে ‘অক্সিডেশন’ দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি বন্ধ করে হৃদরোগের অগ্রগতি রোধ করে। আপেলে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম হার্টের পেশী প্রসারিত করতে সাহায্য করে। এতে নিয়াসিন এবং ফাইবার রয়েছে যা খারাপ কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরল তৈরি করে। এইভাবে এটি হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক থেকে আমাদের রক্ষা করে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, প্রতিদিন দুটি আপেল খেলে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

ক্যান্সার প্রতিরোধে আপেলের উপকারিতা

ফল এবং শাকসবজিতে আপেল সহ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আপেল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোকেমিক্যাল দিয়ে লোড করা হয়। যা ক্যান্সারকে শরীর দখল এবং টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করে। এবং ক্যানসারের কোষও বৃদ্ধি রোধ করে। আপেলগুলিতে অ্যাসিটোজেনিন এবং অ্যালিসাইডের মতো যৌগও রয়েছে যা ক্যান্সার এবং কিডনি সম্পর্কিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। পাকস্থলী, স্তন, লিভার, ফুসফুসের ক্যান্সারে আপেল বিশেষ উপকারী। আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ ক্যান্সারের মতে, প্রতিদিন একটি আপেল খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি 23% কমে যায়।

হাড় মজবুত করতে আপেলের উপকারিতা

ক্যালসিয়ামের অভাবে হাড় ও দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে। হাড় ও দাঁত মজবুত করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। যার মধ্যে অন্যতম হল সর্বোত্তম ডায়েট। ক্যালসিয়াম ‘অস্টিওপোরোসিস’ এবং ‘রিউমাটয়েড’ আর্থ্রাইটিসের মতো রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায় যা হাড়কে মজবুত করে। আপেলের খোসার উপরিভাগে পাওয়া ফ্যাভানয়েড ফ্লোরিজিন মেনোপজের সঙ্গে যুক্ত হাড়ের সমস্যা রোধ করতেও সাহায্য করে। কারণ এটি হাড়ের ক্ষতি করে এমন প্রদাহ এবং ফ্রি র‌্যাডিকেল তৈরিতে বাধা দেয়।

হজমের জন্য আপেলের উপকারিতা

আপেল খেতে সুস্বাদু কিন্তু একই সাথে এটি আপনার হজম শক্তিও বাড়ায়, এটি আপনার পাকস্থলীর ক্ষতিকারক উপাদান দূর করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতায় সাহায্য করে। আপেলে উপস্থিত পুষ্টি অন্যান্য সমস্যা যেমন আলসার, অ্যাসিডিটি এবং গ্যাসের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। ডায়রিয়া, আমাশয় এবং পেট সংক্রান্ত অন্যান্য রোগ নিয়মিত আপেল খেলে এড়ানো যায়।

হাঁপানি থেকে বাঁচতে আপেলের উপকারিতা

আপনি নিশ্চয়ই মিষ্টি স্বাদ উপভোগ করেছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন যে আপনারা সবাই হাঁপানি তাদের উপসর্গের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আপেলে ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ফেনোলিক অ্যাসিড থাকে যা ফুসফুস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সুস্থ করে তোলে। এটি হাঁপানিতে আক্রান্ত রোগীকে অবাধে শ্বাস নিতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে আপেলের উপকারিতা

আপনি যদি স্থূলতায় ভুগছেন এবং ওজন কমাতে চান, তাহলে আপনার এমন খাবার খাওয়া উচিত যাতে ফাইবার এবং ক্যালরি থাকে, সেক্ষেত্রে আপেল একটি ভালো খাবার। আপেলে ক্যালরি কম কিন্তু ফাইবার খুব বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়, আপেলে চর্বি নেই। তাই যাদের ওজন বেশি তাদের অবশ্যই আপেল খেতে হবে। আপনি যদি আপেল এবং দুধ একসাথে খান তবে এটি আপনার জন্য খুব উপকারী হবে। একটি ছোট আপেলে মাত্র 60 ক্যালোরি থাকে কিন্তু এক গ্লাস দুধে 100 ক্যালোরি থাকে। এইভাবে আপেল এবং দুধের মিশ্রণ আপনাকে ক্যালোরি সমৃদ্ধ শেক দেয় যা আপনার ওজন কমাতে সক্ষম।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য আপেলের উপকারিতা

বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেড়ে ওঠা মানসিক রোগের জন্য নিয়মিত আপেল খাওয়া উপকারী। আপেল ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের একটি ভাল উৎস যা মস্তিষ্কে GABA নিউটনের রাসায়নিক স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখে, যার ফলে মানসিক চাপ, বিরক্তি, বিষণ্নতা ইত্যাদি কমায়। এটি পারকিনসন রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ‘আলঝেইমার’ বা ভুলে যাওয়া রোগে আপেল খাওয়া খুবই উপকারী। সেরা ফলাফলের জন্য, আপেলের রস পান করুন।

মজবুত দাঁতের জন্য আপেলের উপকারিতা

আপেল আমাদের দাঁতকেও রক্ষা করে। আপেলে থাকা পানি এবং ফাইবার আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিস্কারে সাহায্য করে। আপেলে রয়েছে ম্যালিক অ্যাসিড যা লালার উৎপাদন বাড়ায় যা মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। যা দিয়ে পায়েরিয়ার অভিযোগ বন্ধ করা যায়। আপেল আমাদের দাঁতের হলদে ভাব দূর করতেও সাহায্য করে, আপেলে উপস্থিত ফাইবার আমাদের মাড়িকে শক্তি জোগায়। যেহেতু আপেলে চিনি এবং অ্যাসিড থাকে, তাই এটি খাওয়ার পরপরই কুলি করে ফেলতে হবে।

চর্মরোগে আপেলের উপকারিতা

আপেলে উপস্থিত বিটামিন সি ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। আপেলের পেস্ট আলসার, ফোঁড়া ইত্যাদির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত আপেল ফলের রস আমাদের ত্বকের কোষের জন্য স্বাস্থ্যকর করে তোলে। আপেল খাওয়া ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ায়। এটি প্রদাহ এবং একজিমা প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

আপেল খাওয়ার সঠিক সময়

সকালে আপেল খাওয়া সবচেয়ে ভালো বলে মনে করা হয় কারণ আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং পেকটিন পাওয়া যায়। অনুপযুক্ত ঘুম এবং দেরি করে খাওয়ার কারণে বেশিরভাগ মানুষেরই হজমের সমস্যা হয়। এমন অবস্থায় সকালে খাবার খাওয়ার পর একটি আপেল খেলে আপনার হজমের সমস্যা দূর হয়।

আপেল খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

আপেল খাওয়ার কিছু বিশেষ অসুবিধা থাকলেও আপেল সম্পর্কিত কিছু অপকারিতা সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। আসুন জেনে নিই ক্ষতির পরিমাণ।

আপেলে অ্যাসিড বেশি থাকে। এই অ্যাসিডগুলি কার্বন-সমৃদ্ধ পানীয়ের চেয়ে চারগুণ বেশি ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলতে পারে, নিয়মিত আপেল খাওয়া উপকারী, তবে এটি অতিরিক্ত খাওয়া আপনার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

আপেলের বীজে সায়ানাইড থাকে, যা একটি শক্তিশালী বিষ, কিছু বীজ খেয়ে আপনি মারাত্মক ফল পেতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI