জানা-অজানা

ইংরেজি কেন শিখবো? কিভাবে শিখবো?

ইংরেজি কেন শিখবো

কখনো কি ভেবে দেখেছেন দক্ষিণ ভারতের মানুষগুলো পৃথিবীব্যাপি উন্নতির শিখরে অবস্থান করছে কেন?
কিভাবে বড় বড় সব প্রতিষ্ঠানে আজ ভারতীয়দের জয়জয়কার?
এর কারণ একটিই, কর্মদক্ষতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির ওপর এদের সুনিপুণ দক্ষতা। ওরা ইংরেজিতে অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজ কিংবা আমেরিকানদের চেয়েও বেশি দক্ষতা দেখাচ্ছে।
আমাদের দেশে অনেকেই বলেন ইংরেজি শিখলে মানুষ বিদেশীদের মতােই চরিত্র শূন্য হয়ে যায়। এমনকি তাদের ধর্মও নাকি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আসলেই কি তাই? বর্তমানে আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজি শেখার বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা চলছে। আপনারা হয়তাে ভাবতে পারেন ব্রিটিশ-ভারতের শিক্ষা উপদেষ্টা জন ম্যাকলের মতাে আমিও কেন ইংরেজির পক্ষে ওকালতি করছি। আসলে কারণ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জন ম্যাকলে চেয়েছিলেন তৎকালীন ভারত বর্ষকে শাসন করার জন্য এমন একদল ইংরেজি শিক্ষিত লােক তৈরি করতে যারা রক্তে বর্ণে হবে ভারতীয় কিন্তু চিন্তা কর্মে হবে বৃটিশ। এককথায় পশ্চিমাদের দালাল। বর্তমান ভারতের পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে এক্ষেত্রে সফল বলা যেতে পারে।
আর আমরা চাই, মানুষের জ্ঞান, যােগ্যতা আর অভিব্যক্তি প্রকাশে যেহেতু ভাষার কোন বিকল্প নেই সুতরাং শক্তিশালী ভাষাসমূহ আমাদের দক্ষতার সাথে আয়ত্তে থাকা উচিত।

আচ্ছা, আপনারা কি জানেন বর্তমান বিশ্বের সর্বাধিক মানুষ কোন ভাষায় কথা বলে? চোখ বন্ধ করে একটু চিন্তা করেই দেখুন। কি খুঁজে পেলেন মনের বিশাল ভূবনে এর উত্তর? আচ্ছা বলছি- তাহলে শুনুন, সেটি হচ্ছে মান্দারিন (চাইনিজ) ভাষা। আপনি কি অন্যকোনোটি ভেবেছিলেন? আসলে জাতি হিসাবে সংখ্যায় চাইনিজরা বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ (পৃথিবীর চার ভাগের এক ভাগ) হওয়ায় এ ভাষার অবস্থা এমন। কিন্তু জাতি হিসাবে দেখলে দেখা যাবে পৃথিবীতে ইংরেজি ভাষাভাষি জাতির সংখ্যা সর্বাধিক। অপরদিকে বিশ্বের প্রায় সকল দেশই বর্তমানে তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে ইংরেজির ব্যবহার করে থাকে। সে হিসাবে ইংরেজি এখন আর শুধুমাত্র ইংরেজ আমেরিকানদের ভাষা নয় বরং এটি এখন বিশ্বজনীন ভাষা।

অন্যদিকে যে মিডিয়া ও তথ্যপ্রযুক্তি আজ সারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করছে তার পঁচানব্বই ভাগই ইংরেজিতে। শুধু কি তাই, ব্যবসা বলুন, উচ্চশিক্ষা বলুন, যোগাযোগ বলুন, বিজ্ঞান বলুন, সাহিত্য বলুন সব কিছুই এখন ইংরেজি ভাষার করায়ত্তে। এমনকি এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও গীতাঞ্জলির জন্য নোবেল পুরস্কার পেতেন না যদি তা ইংরেজিতে অনুবাদ না হতো। এক কথায় ইংরেজি ছাড়া বর্তমান পৃথিবীতে আমরা অচল। আমি বলছি না প্রত্যেককেই ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতাে বহু ভাষাবিদ হতে হবে। তবে বাংলার পাশাপাশি একজন যোগ্য মানুষ হিসেবে আমাদের ইংরেজি জানা দরকার। আজকে আমরা ইংরেজির গুরুত্বের বিষয়েই কথা বলবাে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্বারােপ করেছেন। তিনি মহাগ্রন্থ পবিত্র কোরআনে বলেছেন “আল্লামা হুল বায়ান’ অর্থাৎ তিনি মানুষকে কথা বলার (ভাষা ব্যবহারের) শিক্ষা দিয়েছেন। রাসূল (সা) তাঁর নিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী যায়েদ ইবনে সাবেত আনসারীকে ইহুদীদের ভিতর দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্যে তাদের ভাষা হিব্রু শিখতে বলেছিলেন। প্রখর মেধাবী সাহাবী যায়েদ (রা) মাত্র তেরদিনে হিব্রু ভাষা আত্মস্থ করেন। এছাড়াও তিনি অপরাপর চারটি ভাষায় কথা বলতে পারতেন। সুতরাং বর্তমান সময়ে নিজেদের মতকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যও ইংরেজি ভাষা জানা দরকার। বিশ্ববিখ্যাত, জ্যামিতির জনক পিথাগোরাস বলতেন, মানুষের জীবন অলিম্পিক গেমসের মতাে। কিছু লােক পুরস্কার নেয়ার জন্য মাঠে খেলতে নামে, অন্যরা দর্শকের কাছে ছােটখাট রঙচঙে জিনিস বিক্রি করে সামান্য লাভের আশায়। আর এক ধরনের লােক আছে যারা , কেবল তামাশা দেখে’। এখন আপনাদের ভাবতে হবে আপনারা কোন দলে থাকতে চান!

১. চ্যাম্পিয়ান হওয়া প্রত্যাশী খেলোয়াড়দের দলে?
২. সামান্য লাভ প্রত্যাশী বিক্রেতাদের দলে?
৩. নাকি শুধু হাততালি দেয়া দর্শকদের দলে?

যদি জয়প্রত্যাশী খেলোয়াড়দের দলে যেতে চান তাহলে কষ্ট করতে হবে, সাধনা করতে হবে।

একটি করুণ ঘটনার কথা

১২ নভেম্বর ১৯৯৭ সালে ভারতের মাটিতে দুটি সৌদি ও কাজাখস্তানের বিমান মুখােমুখি সংঘর্ষে বিমানদুটি বিধ্বস্ত হয়। এতে উভয় বিমানের প্রায় ৩৪৯ যাত্রীর সবাই মারা যায় । আপনারা কি ধারণা করতে পারেন এ ভয়াবহ সংঘর্ষের কারণ কি? দূর্ঘটনার পূর্বমুহূর্তে কাজাকাস্তানের পাইলটকে কন্ট্রোলরুম থেকে বলা হচ্ছিল সে যেন তার বিমানকে আরও ওপরে না তুলে, কারণ সেই অপর দিক থেকে সমান্তরালে একটি সৌদি বিমান আসছে। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য! কাজাক পাইলট ইংরেজি সেই নির্দেশটি সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি। যার ফলে ঘটে গেলো এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ।

ভাষা না বোঝার ফলে ঘটা সবচেয়ে করুণতম ঘটনা

আপনারা তাে জানেনই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে আমেরিকা ফেলে বিশ্বের সর্বপ্রথম এটমবােমা ‘লিটল বয়’। কিন্তু তার পিছনে প্রকৃত কারণ ছিল কয়েকদিন আগে মার্কিন নৌ বন্দর পার্ল হারবার করা জাপানের ধ্বংসযজ্ঞ । আর সেই বিখ্যাত পার্ল হারবারের আক্রমণের পিছনে কারণ ছিল ঐ ইংরেজি না বুঝা। মিত্রবাহিনীর একটি গােপন বেতার বার্তা জাপানীরা ধরতে পেরেছিল। ফলে তারা ধরে নেয় আমেরিকা পার্লহারবার থেকে জাপান আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই ইংরেজি বুঝে, ভুল ধারণার ভিত্তিতেই তারা আগেভাগে পার্ল হারবার হামলা করে। যার ফলশ্রুতিতে সংঘটিত হয় স্মরণকালের ভয়াবহতম হিরোশিমা ও নাগাসাকির বােমা হামলা। সুতরাং বুঝতেই পারছেন বর্তমান সময়ে ইংরেজি না জানাটা শুধু উন্নতি থেকে পিছিয়ে থাকাই নয় বরং অনেকক্ষেত্রে আত্মহত্যার শামিল।

ইংরেজি শেখা কিভাবে শুরু করা যায়।

ইংরেজি শেখা কিভাবে শুরু করা যায়।

শুরু করার বিষয়টিই সবচেয়ে কঠিন। বেশ কয়েক বছর আগে ইতালীতে দুই বন্ধুর ভিতর ‘ডিম আগে না মুরগী আগে এ নিয়ে প্রথমে বিতর্ক, অতঃপর ঝগড়া তারপর একজন কর্তৃক আরেক প্রিয় বন্ধুকে গুলি করে হত্যা করে। সুতরাং এখানেও ইংরেজি বিশেষজ্ঞদের ভিতর বিতর্ক আছে গ্রামার আগে না স্পােকেন আগে?
আমরা যেহেতু সাধারণ মানুষ তাই এ ধরনের উচ্চামার্গীয় বিতর্কে যেতে চাইনা। তবে সব কিছুরই একটি প্রাকৃতিক দিক আছে যেমন একটু চিন্তা করলে আমরাই খুঁজে পাব কিভাবে আমরা ছােট্টবেলায় ভাষা শিখেছি। যেমন আমরা যখন কথা বলি তখন ছােট্ট শিশুরা চোখ বড় বড় করে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে তার মানে মনােযােগ দিয়ে শােনে। তারপর ধীরে ধীরে মা-আ, মামা, বাবা ইত্যাদি শব্দ দিয়ে তার কথা বলা শুরু করে। এর অনেক পরে সে পড়তে শিখে, ধীরে ধীরে লিখতে এবং সবশেষে শেখে গ্রামার বা ব্যকরণ অর্থাৎ নিয়মকানুন। এ কথাটি প্রমাণের দরকার নেই, একটি ছােট্ট শিশুর দিকে তাকালেই বুঝা যায়। আমরা সকলেই মাতৃভাষা শিক্ষার এ পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। সুতরাং আমরা ইংরেজিও শিখবাে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে। ইংরেজি শেখার জন্য আপনাকে নিরলসভাবে পরিশ্রম করতে হবে।
যে কোন ভাষা ভালভাবে আয়ত্ত করার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার ভােকাবুলারী বা শব্দ ভান্ডার। তারপর শব্দ সাজিয়ে বাক্য তৈরি সহজ হয়ে যাবে! এবার আমরাও ইংরেজীতে দক্ষতা বাড়ানাের জন্য ১৮টি ম্যাজিক ফর্মুলা আলােচনা করবো।

photo from Unplash

১. ভুল হােক শুদ্ধ হােক বেশি বেশি ইংরেজি বলবেন। আগ্রহী বন্ধুদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলবেন। বলার দক্ষতা বাড়ানোর জন্যে নির্দিষ্ট পার্টনার থাকলে এবং সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন পর্যালােচনা বা বিতর্কের ব্যবস্থা থাকলে সবচেয়ে ভালাে হয়। বর্তমানে স্মার্টফোন সবার হাতে হাতে। OpenTalk, English Talk, Speaklar সহ অন্যান্য আরো কিছু এপ ব্যবহার করেও দক্ষতা বাড়াতে পারেন।বিদেশীদের সাথে কথা বলার সকল সুযোগ কাজে লাগাবেন।

২. বহুল ব্যবহৃত ইংরেজি ভদ্রতাসূচক বাক্যগুলির ব্যবহার করা শুরু করুন; যেমন স্যরি, থ্যাঙ্ক ইউ, ওয়েলকাম, হাউ আর ইউ।

৩. ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে কয়েকজন বিদেশী ফ্রেন্ড তৈরি করুন এবং তাদের সাথে নিয়মিত যােগাযােগ রাখার চেষ্টা করুন।

৪. কোন ভাল মুভি, ডকুমেন্টারি বা প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের ভিডিও বারবার দেখবেন। প্রথমদিকে সাবটাইটেল দিয়ে দেখবেন পরে সাবটাইটেল ছাড়া দেখবেন। শব্দের গঠন ও ব্যবহার খুব ভালোভাবে খেয়াল করবেন।

৫. বেশি বেশি ইংরেজি লিখবেন। কোনো ভালো বই কিংবা মুভি নিয়ে ইংরেজিতে রিভিউ লেখার চেষ্টা করুন। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ইংরেজিতে চ্যাট করবেন। ইংরেজি পত্রিকার চিঠিপত্র কলামে লেখা পাঠান। বিভিন্ন লেখালেখিতে প্রতিনিয়ত নতুন শব্দ লেখার চেষ্টা করবেন এতে করে বানান শুদ্ধ হবে।

photo from Unplash

৬. বেশি বেশি শুদ্ধ ইংরেজি শুনবেন। টিভিতে ইংরেজি সংবাদ, বিবিসি নিউজ, বিবিসি, সিএনএন, স্পােকেন ইংলিশের ইউটিউব ভিডিওগুলো দেখবেন। ইংরেজি অডিওবুকগুলো শুনতে পারেন অবসরে।

৭. মাঝে মাঝে গ্রামারটাও দেখবেন। লেখনী, কথাবার্তাকে সঠিক রাখার জন্যে মাঝে মাঝেই গ্রামার বই দেখা উচিত।

৮. একই সাথে একটি শব্দের নাউন, ভার্ব ও অ্যাডজেক্টটিভ শিখবেন; খাতার ভিতর সারি সারি করে লিখে শিখলে আরো ভাল হয়।

৯. ভোকাবুলারি অর্থাৎ শব্দভাণ্ডার বাড়ানাের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১০টি শব্দ মুখস্থ করুন এবং দৈনন্দিন কথাবার্তায় নিয়মিত সেগুলির ব্যবহার করুন।

১০. কিছু ইংরেজি কবিতা, গান বা উদ্ধৃতি মুখস্থ করুন এবং কথাবার্তায় কাজে লাগান।

১১. একটি ভােকাবুলারী নােট খাতা অথবা ফোনে নোট বানান এবং অবসরে সেই খাতা পড়ুন, যেমন বাসের জন্যে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বা যানজটে থাকলে সেটি খুলে পড়তে পারেন।

১২. ব্যক্তিগত সকল কর্মসূচি বা বাজারের তালিকা ইংরেজিতে করার চেষ্টা করুন।

১৩. নিজের পরিবারের ভিতরে এবং বন্ধুদের নিয়ে একটি গ্রুপ করে স্পােকেনের নিয়মিত চর্চা শুরু করুন।

English Books from Unplash

১৪. সর্বদাই একটি পকেট ডিকশনারী কাছে রাখার চেষ্টা করুন এবং তা কাজে লাগানাে। এখন মোবাইলে ডিকশনারি এপ রেখেও কাজ করতে পারেন।

১৫. না বুঝলেও ইংরেজি পড়ুন। পাঠ্যবই, প্রতিদিনই নিউজ পেপার, অনলাইন আর্টিকেলস, বিশ্বের সেরা সেরা লেখকদের লেখা গল্পের বই ইত্যাদি নিয়মিত পড়বেন।

photo from Unplash

১৬. ইংরেজি পত্রিকা বা আর্টিকেল পড়ে অপরিচিত শব্দ গুলো দাগিয়ে রাখবেন অথবা হাইলাইট করে রাখবেন এবং ডিকশনারী থেকে অর্থ ও ব্যবহার জেনে নিবেন।

১৭. একটি ইংরেজি শিক্ষার ভিডিও দেখে তার সংক্ষিপ্ত অংশ শুনে তা বন্ধ করে, নিজে বলার চেষ্টা করুন।

১৮. ইংরেজি সঠিকভাবে শেখার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিন এবং প্রতিদিন শােয়ার সময় ও সপ্তাহে কমপক্ষে একবার সময় নিয়ে তার পর্যালােচনা করুন।

ভাষা নিয়ে সেই জাপানের আরো একটি মজার ঘটনা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী মি. মরি গিয়েছিলেন জি-এইটের লিডারদের ফর্মাল দাওয়াত এবং যে সব বিষয়ে আলােচনা হবে তার আইডিয়া দিতে। তখন তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এটাই ছিল তার ক্লিনটনের সাথে প্রথম সাক্ষাৎ। সাক্ষাৎকারের আগে মরিকে তার সহযােগীরা পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রথম সাক্ষাতে মরি যেন দু’একটি কথা ইংরেজীতে বলেন। উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী অন্য কোন দেশের নেতাদের সাথে কথা বলার সময় সর্বদা দোভাষীর সাহায্য নেন। যাই হােক, মরিকে কয়েকটি ইংরেজি বাক্য শেখানাে হয়। আমেরিকায় গিয়ে ক্লিনটনের সাথে দেখা করার সময় মরি প্রথম ইংরেজি বাক্যটিই শুদ্ধ করে বলতে পারেন। তাকে শেখানাে হয়েছিল হ্যান্ডশেক করার সময় “How are you?” বলতে। উত্তরে ক্লিনটন বলবেন, “I am Fine and you?” মরি সংক্ষেপে বলবেন “Mee too!” এ পর্যন্তই। তারপর দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলবেন। তিনি যখন ক্লিনটনের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করছিলেন তখন মরি বলেন, “Who are you?”(তিনি How ভুলে গিয়ে Who বলে ফেলেন)। বিচক্ষণ ক্লিনটন হেসে উত্তর দেন, “I am Husband of Hillary” মরিও না বুঝে তােতাপাখির মতাে তার শিখানাে ‘Mee too!” (অর্থাৎ আমিও হিলারীর হাসব্যান্ড) বলাই বাহুল্য, উল্লেখিত দুই নেতার এ আলােচনার কথা হাসতে হাসতে জাপান রেডিও-র একটি ন্যারেটর কৌতুক করে ২২ জুলাই ২০০০ তারিখ সকালে প্রচার করে।

আপনি প্রধানমন্ত্রী মরির মতো ভুল করতে না চাইলে বিশ্বব্যাপী নেতৃত্ব দেয়ার জন্য উপরে উল্লিখিত ফর্মুলা অনুসরণ করে ইংরেজি ভাষা ভালভাবে আয়ত্ত করার দিকে এগিয়ে যান। শুভকামনা।

1 Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI