বইয়ের রাজ্য

ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর: বেঞ্জামিন গ্রাহাম

ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর

আপনি যদি বড়লোক হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে একজন ইনভেস্টর হতে হবে। এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন আপনিতো ইনভার্টার নয় কখনোই আপনি কোন কিছুতে ইনভেস্ট করেন নাই। কিন্তু বিষয়টা সত্যি নয় কারণ আমরা সবাই একজন ইনভেস্টর। কেউ টাকা ইনভেস্ট করে আবার কেউ সময় বা এনার্জি ইনভেস্ট করে। আমরা কিছু না কিছু ইনভেস্ট করে টাকা ইনকাম করি। এজন্য খুবই প্রয়োজন একজন ভালো ইনভেস্টর হওয়া। যদি আপনি অনেক বড়লোক হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কখনো না কখনো টাকা ইনভেস্ট করতেই হবে সেটা আপনি ব্যবসা করে আয় করা টাকা হোক অথবা চাকরি করে আয় করা টাকা। ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে আপনি যদি কোন বই পড়তে চান তাহলে অবশ্যই আমি আপনাকে বলবো ( দ্য ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর) বইটি পড়ুন। এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত মতামত নয়, বইটি পড়ার জন্য বিশ্বের অন্যতম ধনী এবং অন্যতম ইনভেস্টর ওয়ারেন এডওয়ার্ড বাফেট সাজেস্ট করে থাকেন। অনেক গ্রেট ইনভেস্টর এই বইটিকে ইনভেস্টমেন্টের বাইবেল বলে থাকেন। বইটি সত্যিই অনেক দারুন আমরা আজকে এই বইটি নিয়ে আলোচনা করব।

ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর কে

এই বিষয়ে আলোচনা করার আগে আরও একটি বিষয়ে আলোচনা করা খুবই দরকার, বিষয়টি হচ্ছে ইনভেস্ট কেন করবেন?

সাধারণত প্রত্যেক বছর বাজেটে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়তেই থাকে এ অবস্থায় যারা ফিক্সট সেলারিতে চাকরি করে তাদের জন্য সার্ভাইভ করাটা একটু টাফ হয়ে যায়। অন্যদিকে যারা রেগুলার ইনভেস্ট করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সময়ও তাদের ইনভেস্ট থেকে যে সাপোর্ট তারা পায় তা দিয়ে তারা ভালোভাবে চলতে পারে। শুরুতেই যদি আপনি খেয়াল করে থাকেন বলেছিলাম আমরা ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর নিয়ে আলোচনা করব আপনি যেনতেন স্থানে ইনভেস্ট করে ওই ইনভেস্টমেন্ট থেকে আউটকাম পাবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যেহেতু বইটি আমাদেরকে শিখায় কিভাবে একজন ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর হওয়া যায় তাই ইনভেস্টমেন্ট করার আগে অন্তত একবার হলেও এ বইটি পড়া উচিত। যদিও বইটি অনেক বড় আর আপনার যদি যথেষ্ট সময় না থাকে পুরো বইটি পড়ার আপনি খুব অল্প সময়ে এই আর্টিকেল থেকে বইয়ের মূল অংশ গুলো জেনে নিতে পারবেন সুতরাং পড়া চালিয়ে যান।

ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর মানে কি

বেঞ্জামিন গ্রহাম ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর বলতে বুঝিয়েছেন শান্ত এবং ডিসিপ্লিন থেকে নতুন কিছু শিখার তীব্র মন-মানসিকতা রাখাকে। আপনাকে আপনার অনুভূতির উপরে কন্ট্রোল রেখে আপনার নিজের সম্পর্কে চিন্তা করতে শিখতে হবে।আপনি যতই সতর্ক থাকুন না কেন মাঝেমধ্যে আপনার ইনভেস্টমেন্টের ভ্যালু নিচের দিকে নামতে থাকবে।আপনি ইচ্ছে করলেও এ বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারবেন না আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে আপনি বিষয়টা ম্যানেজ করতে পারবেন।

একজন ইনভেস্টর এর সবথেকে বড় সমস্যা এবং শত্রু সে নিজেই। বিষয়টি মাথায় রেখে আপনাকে তিনটি বিষয়ের উপর নজর দেওয়া উচিত

  • অপ্রত্যাশিত লস আপনি কিভাবে কমিয়ে আনবেন।
  • প্রত্যাশিত লাভ কিভাবে আরো বাড়ানো যায়।
  • নিজের সমস্যা সৃষ্টি কারি বিহেভিয়ার গুলি কিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবেন। যে বিহেভিয়ার গুলি বেশিরভাগ ইনভেস্টরদের কে তাদের পুরা সক্ষমতা ব্যবহার করতে বাধা প্রদান করে।

ইনভেস্টমেন্ট হওয়া উচিত এমন একটা বিষয় যা আপনাকে নিরাপত্তার সাথে আপনার ইনভেস্টমেন্টের আউটকাম প্রধান করে। যদি এমন না হয় তাহলে বিষয়টা কিছুটা জুয়া খেলার মত অবস্থা। ইনভেস্টর সাধারণত দুই রকমের হয় ১ ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর ২ এগ্রেসিভ ইনভেস্টর, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানা যাক।

অ্যাগ্রেসিভ vs ডিফেন্সিভ

মনে করুন দুইজন বন্ধু যারা বড়লোক হতে চায়। অনেক বিষয় তাদের দুজনেরই বেশ মিল। ১ তারা দুজনে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ২ দুজনের সম্পদের পরিমাণ ও কাছাকাছি.
কিন্তু এই দুজনের ভিতরে সবথেকে বড় পার্থক্যটি হচ্ছে একজন অ্যাগ্রেসিভ ইনভেস্টর অন্যজন ডিফেন্সিভ ইনভেস্তর

অ্যাগ্রেসিভ ইনভেস্টর বন্ধু বিশ্বাস করে আমরা যত রিক্স নিব আমরা তত বেশি টাকা ইনকাম করতে পারব। এজন্য সে এমন শেয়ারে টাকা ইনভেস্ট করে যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি বেশি টাকা লাভ দেয়।অনেক সময় সে বিষয়টিও খেয়াল করেনা, সে যে কোম্পানিতে ইনভেস্ট করছে ওই কোম্পানি যথেষ্ট রেপুটেড কিনা, তার কথা হচ্ছে সে ইনভেস্ট করবে এবং অল্প সময়ের ভিতর খুব বেশি লাভ তুলে নিবে।

অন্যদিকে ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর বন্ধু এমন কিছু জায়গায় ইনভেস্ট করে যেগুলোতে খুব কম রিক্স নিয়ে সে আয় করতে পারে,যদি আয়ের পরিমাণ কম ও হয় তাও সে এমন টাই করে।

একদিন আগ্রেসিভ ইনভেস্ট করা বন্ধু ডিফেন্সিভ ইনভেস্ট করা বন্ধুর কাছে এসে বলে জানো বন্ধু আমি এই মাসে একটি স্টক কিনেছিলাম যেখানে আমার 60 শতাংশ লাভ হয়েছিল । ডিফেন্সিভ বন্ধু মনে মনে চিন্তা করে আমি যে চার জায়গায় ইনভেস্ট করেছি সবকিছু মিলিয়ে আমার তার একটা স্টকের সমপরিমাণ লাভ ও হবে না।আমরা যদি দুই বন্ধুর এই কথোপকথন এর উপর ভিত্তি করে বিচার করি তাহলে অবশ্যই আমাদের কাছে মনে হবে এগ্রেসিভ ইনভেস্ট করা বন্ধুটি সঠিক। কিন্তু আমরা যদি এদের দুজনের ইনভেস্টমেন্ট একটু ডিটেইলস আলোচনা করি তাহলে আমরা প্রকৃত অবস্থান জানতে পারবো।

ডিফেন্সিভ বন্ধুটি চার মাসে চারটি ইনভেস্টমেন্ট করেছিল। চারবার সে 10000 টাকা করে ইনভেস্ট করেছিল।

  • যার প্রথম 10000 থেকে 5 % প্রফিট
  • দ্বিতীয় 10000 থেকে 2% লস
  • তৃতীয় 10000 থেকে 12% লাভ
  • চতুর্থ 10000 থেকে 20% লাভ

মানে সে টোটাল 43 হাজার 500 টাকা পেয়েছিল,তার মানে দাঁড়ালো সে টোটাল ৮ দশমিক 75 শতাংশ লাভ পেয়েছিল

অন্যদিকে এগ্রেসিভ ইনভেস্টর বন্ধু চারমাসে টোটাল ৮ টি স্টক কিনেছিল যার মধ্যে তার

  • প্রথম স্টক থেকে 50% লস হয়েছিল
  • দ্বিতীয় স্টক থেকে 60 % লাভ
  • তৃতীয় স্টক থেকে 5% লাভ
  • চতুর্থ স্টক থেকে 10% লস

সব লাভ লস হিসাব করে সর্বোপরি তাঁর কাছে ছিল 40 হাজার 800 টাকা,তার মানে দাঁড়ালো তার সর্বোপরি 2% লাভ হয়েছিল

এগ্রেসিভ ইনভেস্টমেন্ট কিছুটা জুয়ার মত। জুয়াখেলায় আপনি একবার তো জিতবেন কিন্তু এত বার হেরে যাবেন না আপনার জীবন শেষ করে দিতে পারে।

বেঞ্জামিন গ্রহাম বলেন লো রিক্স ইনভেস্টমেন্ট আপনি লো প্রফিট ই পাবেন। যখনই আপনি হাই রিটার্ন এর কথা চিন্তা করবেন ঠিক তেমনি রিক্স অনেক হাই হতে থাকবে ( যদি ক্রিকেট খেলা দেখে থাকেন আফ্রিদির কথা তো মনেই আছে বুমবুম আফ্রিদি হয়তো ছক্কা নয়তো………………..)

মিস্টার মার্কেট

 শেয়ার বাজার

এই বইতে বেঞ্জামিন গ্রহাম শেয়ার মার্কেটের খুব দারুণ একটি কনসেপ্ট শেয়ার করেছেন। মনে করুন আপনি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং আপনার একজন পার্টনার রয়েছে যার নাম মিস্টার মার্কেট। মিস্টার মার্কেট প্রতিদিন আপনার ঘরে আসে এবং আপনাকে বিভিন্ন অফার দিতে থাকে।অফারটা এরকম হয়তো আপনি তার কাছ থেকে কিছু কিনবেন অথবা আপনি তার কাছে কিছু বিক্রি করবেন। মজার বিষয় হচ্ছে মিস্টার মার্কেট অনেক ইমোশনাল। নরমালি সে ঠিকই থাকে কিন্তু মাঝেমধ্যে উত্তেজিত হয়ে সে আপনাকে অনেক ভালো দাম দিবে অথবা অনেক কম। উদাহরণস্বরূপ মনে করুন মিস্টার মার্কেটের কাছে বিক্রি করতে চাওয়া পণ্যের দাম 1000 টাকা।কিন্তু এতে মিস্টার মার্কেটের কিছুই যায় আসে না। সে যখন খুশি থাকে তখন সে আপনাকে 1000 এর পরিবর্তে 2000 টাকা দিতে রেডি থাকে কিন্তু যখন তার মন খারাপ থাকে তখন সে 1000 টাকার বিজনেসের জন্য 500 ও টাকা দিতে চাইবে না। সব থেকে মজার বিষয় হচ্ছে মিস্টার মার্কেট কখনোই আপনাকে জোরাজুরি করবে না তার সাথে ব্যবসা করার জন্য। সে শুধু আপনাকে সুযোগ দিবে। কখনো কখনো স্টক মার্কেট ইলজিক্যাল হয়। কখনো কখনো সেটা মানুষের ইমোশন দ্বারা পরিবর্তিত হয়। কখনো কখনো স্টক তাদের নির্ধারিত দামের থেকে কম অথবা বেশিতে বিক্রি হয়।বেঞ্জামিন গ্রহাম বলেছেন আপনি যদি ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্ট হতে চান তাহলে আপনি মিস্টার মার্কেটর সাথে ব্যবসা তখনই করুন। যখন সে তার বিজনেস নির্ধারিত ভ্যালু থেকে কম দামে বিক্রি করছে। আর তখনই বিক্রি করুন যখন সে আপনার বিজনেসের জন্য নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দিচ্ছে।

ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর

Defensive investor

ডিফেন্সিভ ইনভেস্টরদের কে প্যাসিভ ইনভেস্টর বলা যায়। বেঞ্জামিন গ্রহাম আমাদেরকে ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর ই হতে বলেছেন। সত্যি কথা বলতে অনেক মানুষের কাছে এত বেশি সময় নেই, সে প্রত্যেকটা কোম্পানি এনালাইসিস করবে সবকিছু ঠিকঠাক ভাবে রিচার্জ করে বের করবে কখন তার শেয়ার কেনা উচিত এবং কখন কেনা উচিত নয়। এজন্য আমি আপনাদেরকে সাজেস্ট করব আপনি একজন ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর হয়ে উঠুন। ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর অনেক লম্বা সময় ধরে খেলেন এবং অনেক নিরাপদে খেলেন। এখন আমি আপনাদেরকে নয়টি পয়েন্ট বলবো যেগুলো আপনাদেরকে একজন ভাল ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর হতে সাহায্য করবে ।

  • আলাদা আলাদা কোম্পানিতে ইনভেস্ট করা: 10 থেকে 30 টি কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন সেটি অবশ্য আলাদা আলাদা ইন্ডাস্ট্রির কোম্পানি হতে হবে ।
  • বড় কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন: বড় বড় কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন যারা অনেক বছর থেকেই স্ট্যাবলিস্ট ।
  • কংসেরভেটিভলি ফিনান্সড: এমন কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন যারা কংসেরভেটিভলি ফিনান্সড যাদের কারেন্ট রেশিও 2০০ শতাংশ। যদি সহজ করে বলি, যে কোম্পানির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ কোম্পানির দায়ের তুলনায় ডাবল।
  • লভ্যাংশের ইতিহাস: ঐরকম কোম্পানিতে ইনভেস্ট করা উচিত যে কোম্পানিগুলো লাগাতার প্রফিট করছে।
  • উপার্জন ইতিহাস: এমন কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন যে কোম্পানির লাস্ট ১০ বছরে উপার্জন নিচের দিকে নামেনি।
  • গ্রোথ: এমন কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন যারা প্রতিবছর কমপক্ষে 3 শতাংশ করে গ্রো আপ করছে লাস্ট 10 বছর থেকে।
  • চিপ এস্টেস: এমন কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন যাদের স্টপ প্রাইস নেট অ্যাসেট ভ্যালু থেকে 1.5 টাইমস থেকে বেশি নয়।
  • চিফ আর্নিং: শুধু আর্নিং দেখে ইনভেস্ট করা ঠিক হবে না। ঐরকম কোম্পানিতে ইনভেস্ট করুন যাদের পিই রেশিও 15 থেকে কম লাস্ট এক বছর থেকে।

এন্টারপ্রাইজ ইনভেস্টরস

প্রকৃতপক্ষে ইনভেস্টর তিন রকমের হয়। ডিফেন্সিভ, এগ্রেসিভ,এন্টারপ্রাইজ ইনভেস্টরস। এন্টারপ্রাইজ ইনভেস্টর ডিফেন্সিভ ইনভেস্টরদের মত এভারেজ ইনকাম করতে চায়না আবার তারা আগ্রেসিভ ইনভেস্টরদের মত উরাধুরা ইনভেস্ট করে রিক্স ও নিতে চায়না । সাধারণত তারা এমন লোক হয় যারা অনেক সময় নিয়ে, অনেক রিচার্জ করে ইনভেস্ট করে। তারা অনেক একটিভ থাকে এবং মার্কেটে তারা সফল হয় অনেক বেশি। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে এরকম ইনভেস্টর হতে গেলে অনেক ধৈর্য , সময় এবং রিচার্জ করতে হয়। এন্টারপ্রাইজ ইনভেস্টরস হতে গেলে যে চারটি বিষয় অবশ্যই লাগবে তা হচ্ছে

  • ধৈর্য
  • ডিসিপ্লিন
  • আগ্রহ
  • প্রচুর সময়

অনেক মানুষের পক্ষেই এ বিষয়গুলো ঠিকঠাক ভাবে করা সম্ভব নয় এজন্যই বেঞ্জামিন গ্রহাম উপদেশ দেন ডিফেন্সিভ ইনভেস্টর হতে।

যদি কোন ব্যক্তি কে এন্টারপ্রাইজ ইনভেস্ট হতেই হয় তাহলে নিম্নলিখিত চারটা বিষয় মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।

  • গো এগেইনস্ট দি মার্কেট: এর মানে হচ্ছে স্টক তখন কিনুন যখন সবাই বিক্রি করছে যখন মার্কেট ডাউন থাকে। স্টক তখন বিক্রি করবেন যখন সবাই কিনছে এবং স্টক প্রাইস ভালো পাচ্ছেন।
  • বায়িং গ্রোথ স্টক: গ্রোয়িং স্টক কিনার জন্য ইনভেস্টর কে এমন কোম্পানির স্টক কিনতে হবে যে কোম্পানিটি হবে অনেক বড় কিন্তু অত বেশি পপুলার নয়।
  • বায়িং বার্গইন স্টক: এগুলো ঐরকম স্ট্রোক হয় যেগুলো তাদের প্রকৃত মূল্য থেকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে বিশেষ কোনো কারণে। চেষ্টা করবেন সেটি যেন কম দামে পান এবং কোম্পানিটি যেন ওয়েল স্ট্যাবলিস্ট হয়।
  • বায়িং স্পেশাল কেসেস: স্পেশাল কেইসে আসে ঐ সমস্ত ছোট কোম্পানির স্টক যেগুলোকে কোন বড় কোম্পানি অধিগ্রহণ করতে যাচ্ছে ।

মার্জিন অফ সেফটি

মনে করুন একটি জাহাজ কোম্পানির এরকম একটি জাহাজ তৈরি করতে হবে যেটি 50 জন মানুষ বহন করতে সক্ষম। জাহাজ কোম্পানি কি ঠিক 50 জন যাত্রী বহন করতে পারে এরকম জাহাজ তৈরি করবে? না। কেন? কারণ জাহাজ কোম্পানি খুব ভাল করেই জানে যদি কখনো জাহাজে ওজন এদিকসেদিক হয় তাহলে জাহাজ ডুবে যাবে অবশ্যই তারা এমন একটি জাহাজ তৈরি করবে জেটিতে ইজিলি 70,80 অথবা 100 জন মানুষ বহন করতে পারে। জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সট্রা ওয়েট কনসিডার করে যে জাহাজ তৈরি করে মনে করুন এটাই মার্জিন অফ সেফটি। যে সেম বিষয়টা ইনভেস্ট করার সময় আপনার খেয়াল রাখা উচিত। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন স্টক মার্কেটে স্টকের দাম তার প্রকৃত মূল্যের সমান কখনোই হয় না। এজন্যই মার্জিন অফ সেফটি মাথায় রেখে বেঞ্জামিন গ্রহাম উপদেশ দেন আপনি যেন কোন স্টকের জন্য তার ২/৩ বেলু থেকে বেশি ইনভেস্ট না করেন। বেশিরভাগ মানুষের সমস্যা হচ্ছে তারা 50 ডলার সমপরিমাণ স্টক 50 ডলার দিয়ে কিনে আর আশা করে ভবিষ্যতে স্টকের দাম বাড়বে এবং তারা এতে লাভবান হবে। কিন্তু একজন ইন্টেলিজেন্ট ইনভেস্টর সে হয় যে 50 ডলারের স্টক মার্জিন অফ সেফটি মাথায় রেখে 40 ডলারে কিনে থাকে যেটা কিনার সময় সে লাভবান হয়। যাতে করে তাকে ভবিষ্যতের উপরে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয় না।

এই বইটি সত্যিই অনেক দারুন সম্পূর্ণ বইটি পড়া ছাড়া আপনি এর মহাত্ম্য গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি বুঝতে পারবেন না। আমার কাছে যে বিষয়গুলো খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে আমি সেগুলি নিয়ে আলোচনা করেছি বিস্তারিত জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে বইটি সম্পুর্ন পড়তে হবে।
আমার লেখা বইয়ের রিভিউ টি পড়ে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে পারেন।

1 Comment

  1. Pingback: AQWorlds

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI