বইয়ের রাজ্য

টাকা ছাড়া ব্যবসা করার উপায়

টাকা ছাড়া ব্যবসা করার উপায়

অনেকের কাছে মনে হয় ব্যবসা শুরু করা অনেক জটিল একটি কাজ একজন উদ্যোক্তা হওয়া অনেক কঠিন একটি কাজ। তারা মনে করে উদ্যোক্তা হতে অনেক টাকা লাগে অনেক পরিশ্রম করতে হয় চাকরি ছেড়ে দিতে হয় ফাইন্যান্সিয়াল রিস্ক নিতে হয় আরো অনেক বড় বড় কাজ করতে হয় যা সবার পক্ষে করা সম্ভব না। কিন্তু লেখক যে একজন সফল ব্যবসায়ী এবং 20 বছর ধরে একটি মিলিয়ন ডলার সফটওয়্যার কোম্পানি পরিচালনা করছেন উনি বলেন এইসব কথা একেবারেই সত্যি নয় সমস্যাটা হচ্ছে মানুষ যখন বিজনেস এর কথা চিন্তা করে তখন তারা ইলন মাস্ক, বিল গেটস, আম্বানির মতো করে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা তৈরি করার কথা চিন্তা করে। লেখক বলেন বেস্ট হয় যদি কেউ তার ব্যবসাটাকে কোন সাইট ব্যবসা হিসেবে চিন্তা করে যা প্রফিটেবল এবং সাসটেইনেবল যা আপনাকে একটি ভালো সাইট ইনকাম করে দিবে। লেখক আরও বলেন এই ব্যাপারটা সবাই খুব ইজিতে করতে পারে খুব বেশি ইনভেস্ট না করে এবং চাকরি বা পড়াশোনা না ছেড়ে দিয়ে। লেখক নিজের অনেক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এই বইটিতে অনেক উপায়ে লিখেছেন, যা ফলো করে যে কেউ একটি সফল ব্যবসা শুরু করাতে পারে।

লেখক প্রিন্সিপাল গুলা একটি ম্যাজিক সেন্টেন্স এ রূপান্তর করেছেন “Scratch the itch with core minimum fight passionately with less.” এই সেন্টেন্স এ চারটি বড় প্রিন্সিপাল আছে যা আমি আপনাদেরকে এক এক করে বলবো

স্ক্র্যাচ দা ইচ

বিগ ফাথ যে একজন খুব ভালো ড্রামার ছিলেন ,সে অনেক বছর ড্রাম বাজাতে-বাজাতে একটি বিষয় খেয়াল করল , যে বিষয়টা তাকে অনেক হতাশ করত ব্যাপারটা ছিল সে যে ড্রামস্টিক ব্যবহার করত তাদের ভিতর দুইটা স্টিক কখনোই সেম ছিলনা। মানে স্ট্রিক গুলির ওয়েট এবং ডেনসিটি পারফেক্টলি সেম ছিল না। যার কারণে তাদের থেকে একদম সেম পিচ এবং সেম লেভেলের আওয়াজ বের হতো না। আর বিষয়টা তাকে অনেক অস্থির করে তুলতো ।এর জন্য সে কি করলো?সে তার বেসমেন্টে গেল এবং রিসার্চ করতে লাগলো এবং রিসার্চ করে সে নিজে সেম বিট ডেনসিটি পিচ ম্যাচ করে এমন ড্রামস্টিক তৈরি করল এবং এটার নাম দিল দা পার্ফেক্ট পেয়ার। তার স্ট্রিক এত জনপ্রিয় হয়েছিল যে আজ তার কোম্পানি যারা ড্রামস্টিক বানায় তাদের মধ্যে তার কোম্পানি একাই ৬২% ড্রামাস্ট্রিক মার্কেট ক্যাপচার করে থাকে।
বিল বোভারম্যান যে একজন ট্র‍্যাক কোচ ছিলেন। সে যখন তার স্টুডেন্টদের জন্য মার্কেটে পারফেক্ট লাইট ওয়েট স্ট্রং জুতা খুঁজে পাচ্ছিলনা । তখন সে জুতা বানানোর সরঞ্জাম কিনে নিজেই জুতা বানানো শুরু করে দিল যা অনেক মজবুত ছিল এবং পারফেক্ট লাইট ওয়েট ছিল যা তৈরি করার পরে সবার অনেক পছন্দ হচ্ছিল আর এখান থেকেই নাইকি কোম্পানির শুরু হয়েছিল যে কোম্পানির নাম আজকাল মোটামুটি সবাই জানে। সিমিলারলি লেখক একটি কনসাল্টিং ফার্ম শুরু করেছিল যে ফার্ম বিভিন্ন কোম্পানির প্রজেক্ট হ্যান্ডেল করত কাজ করতে করতে লেখক খেয়াল করল কোম্পানিদের এতসব প্রজেক্ট হ্যান্ডেল করার জন্য মার্কেটে কোন ভালো টুলস এভেলেবেল নেয়। লেখক তার পার্টনারের সাথে একত্রিত হয়ে একটি টুলস তৈরি করল যা প্রজেক্ট গুলোকে ইজিলি ম্যানেজ করতে পারতো।টুলস অনেক ইজি করে দিল কোম্পানিদের প্রজেক্ট ম্যানেজ করতে কম্পানি গুলো যখন দেখল সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাদের প্রজেক্ট ইজিলি ম্যানেজ করা যায় তখন কোম্পানিগুলো লেখক এর কাছ থেকে সফটওয়্যার কিনা শুরু করে দিল আর এতেই তার ব্যবসা বাড়তে থাকলো যা দিয়ে সে মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা দাঁড় করিয়ে ফেলল । আপনি যদি এই তিনটা প্রবলেম ভালভাবে লক্ষ করেন তাহলে আপনি দেখবেন প্রত্যেকটা মানুষ শুরুতে কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল আর তারা কি করেছিল তারা সুদু সমস্যা সমাধান করার জন্য একটা সলিউশন বের করেছিল ঠিক ঐরকম আপনিও খেয়াল করুন প্রতিদিনকার জীবনে আপনাকে কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে আর কিভাবে আপনিও সমস্যার সমাধান করছেন কোন ভালো প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস দিয়ে। আপনার মেইন গোল এটাই হওয়া উচিত আপনি কিভাবে একটি সমস্যার সমাধান করতে পারেন । সবথেকে ভালো হয় যদি সমস্যাটা আপনার নিজের হয় কেননা আপনার নিজের সমস্যার সমাধান আপনি ভালো বুঝতে পারবেন যাতে করে আপনি অনেক তাড়াতাড়ি এবং ভাল সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস তৈরি করার জন্য। অন্য মানুষের সমাধান সমস্যার খোঁজা মাঝে মাঝে অন্ধকারে ঢিল মারার মতো হতে পারে।

উইথ কোর মিনিমাম

আচ্ছা আপনাকে একটা প্রশ্ন করি! মনে করেন আপনি সিঙ্গারা বিক্রি করার ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন এখন এই আইডিয়াকে একটি সফল ব্যবসায় রূপান্তর করার জন্য সবথেকে বেশি কোন জিনিসটা দরকার? যেটা ছাড়া আপনার ব্যবসা হবেই না। আপনার উত্তরটা কি এরকম (একটা ভালো পজিশনে দোকান নেয়া, অনেক ভালো ভালো কর্মচারী রাখা) উদাহরণস্বরূপ লেখক যখন তার বেইজ ক্যাম্প ব্যবসা শুরু করেছিল লেখক তখন আসল পয়েন্ট খেয়াল রেখে মিনিমাম টাকা খরচ করে নিজের অফিস খোলার পরিবর্তে শেয়ার অফিস স্পেইস ব্যবহার করে অনেকগুলো সার্ভার ইউজ করার পরিবর্তে একটিমাত্র বেস্ট সার্ভার ব্যবহার করে কাস্টমার সাপোর্ট টিম রাখার পরিবর্তে নিজে সকল ইমেইল এর আন্সার করত ঐরকম আপনিও শুরুতেই মাস্ট হ্যাভ জিনিসে ফোকাস করুন নাইস টু হ্যাভ জিনিস এ নয় । একটা ভালো ডিগ্রী থাকা নাইস টু হ্যাভ আপনি যদি ইচ্ছা করেন গুগল এবং ইউটিউব থেকেও অনেক কিছু শিখতে পারেন। জব ছেড়ে ব্যবসা শুরু করা ভালো জিনিস কিন্তু আপনি এক্সট্রা টাইম বের করে টিভি শো না দেখে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় ব্যয় না করে,কম ঘুমিয়ে ব্যবসা হ্যান্ডেল করতে পারেন । অন্যের কাছ থেকে ধার করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন । তবে আজকাল ঘরে বসে ইন্টারনেটে ফ্রী রিসোর্স ব্যবহার করে আপনি ভালো কিছু তৈরি করতে পারেন কারন আজকাল টেকনোলজির কারণে অনেক কিছু করা আগের থেকে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে ১০/১৫ বছর আগেও যা অসম্ভব ছিল প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে আজ তা মোটামুটি সবার হাতের নাগালে চলে এসেছে । এজন্যই আপনি আপনার নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে আসলে আপনার ব্যবসা শুরু করার জন্য কি কি জিনিস লাগবে এবং সিরিয়াসলি চিন্তা করে দেখুন সত্যিই কি আপনার এই বিষয়গুলোতে ইনভেস্ট করার দরকার আছে কিনা । নাকি আপনি ফ্রী বা কোন সস্তা অল্টারনেটিভ জিনিস ব্যবহার করে আপনার ব্যবসা শুরু করে দিতে পারেন।

ফাইট প্যাশন্যাটলি

কোন সমস্যার মিনিমাম খরচ এবং সলিউশন বের করার পর যখন আপনি ব্যবসা শুরু করবেন তখন পরবর্তীতে যেই মেইন প্রশ্নটা আসবে সেটা হচ্ছে আপনি কিভাবে এত কম্পিটিটরদের মাঝে আলাদা হতে পারবেন যাতে মানুষ আপনার ব্যবসা কে পছন্দ করবে । ওইটার একটা খুব ভালো উপায় আছে যাতে আপনি সফল হতে পারেন। তা হচ্ছে আপনার কম্পিটিটর ব্যান্ডের সাথে ফাইট করা। উদাহরণস্বরূপ অডি নিজেকে Anty old luxury car বলে বিজ্ঞাপন প্রচার করে । বিজ্ঞাপনে অডি তার কম্পিটিটরদের থেকে এগিয়ে থাকার জন্য প্রচার করে যে অডি তাদের মতো নয়, অডি অন্য সবার থেকে অনেক আধুনিক । আপনি অনেকগুলো বিজ্ঞাপনেই দেখবেন যে দুইটা কোম্পানি একটি আরেকটির সাথে কিভাবে প্রতিযোগিতা করছে । আমরা কিন্তু ঠিকই যেকোনো একটি কোম্পানিকে বেছে নেই। কেন?
কারণ আমাদের যেকোনো একটা সাইড নিতে ভালো লাগে আর আমরা যখন কোন সাইড নেই তখন আমরা ইমোশনালি অনেক কানেক্টেড হয়ে যাই ওই কোম্পানির সাথে । এজন্যই আপনি যখন কোন কিছু মন থেকে বিশ্বাস করবেন এবং প্রচার করবেন যারা আপনার মত চিন্তা করেনা বা বিশ্বাস করে না তাদের সাথে চ্যালেঞ্জ করবেন , তখন ওই মানুষগুলো যারা আপনার মত চিন্তা করে তারা আপনাকে অনেক বেশি সাপোর্ট করবে আর আপনার ব্র্যান্ডের ইউজ করবে।

উইথ লেস

হার্ভার্ড, ক্যামব্রিজ এগুলো হচ্ছে পৃথিবীতে টপ লেভেল এর ইউনিভার্সিটি কিন্তু আপনি কি কখনও চিন্তা করেছেন এই ইউনিভার্সিটিগুলো এত সাকসেসফুল হওয়ার পরেও কেন তারা বিভিন্ন দেশে নিজেদের ব্রাঞ্চ চালু করে না । তাদের জন্য এটা কোন ব্যাপারই না কিন্তু কেন তার পরেও তারা এটা করে না । কারণ তারা খুব ভাল করেই জানে অল্পকিছুর সাথে ফাইট করা অনেক ভালো । কারন তারা খুব ভাল করেই জানে তারা যদি অনেকগুলো ব্রাঞ্চ খুলে ফেলে ভিন্ন ভিন্ন দেশে তখন তাদের ওই কোয়ালিটি থাকবেনা যা এখন আছে । অনেক ব্যবসায়ীকে দেখবেন যারা শুধু নাম্বারের সাথে কম্পিটিশন করে। তাদের কাছে মনে হয় অনেক বেশি নাম্বার হওয়া মানে অনেক ভালো হওয়া অনেক বেশি কর্মচারী হওয়া মানে অনেক ভালো হওয়া । রেস্টুরেন্টের মেনুর ভিতর অনেক আইটেম হওয়া মানে তাদের রেস্টুরেন্ট অনেক বেশি চলবে । কিন্তু লেখক বলেন এসব একেবারেই ভুল চিন্তা ভাবনা।
উদাহরণস্বরূপ লেখক যেখানে বসবাস করত সেখানে অনেক কফির দোকান ছিল প্রথমে সে যে কফিশপে যেত সেখানে মেনু দেখে কনফিউজড হয়ে যেত কেননা ওখানে অনেক অদ্ভুত কফির নাম লেখা থাকতো । লেখক সবরকম কফি টেস্ট করার পরও মজা পাচ্ছিল না কারণ তাদের কোয়ালিটি এত ভাল ছিলনা ।কিন্তু লেখক যখন অন্য দোকানে গেল ওখানে তারা শুধু চার রকমের কফি বিক্রি করতো যেখান থেকে কফি পছন্দ করা অনেক সহজ ছিল এবং যে ব্যাপারটা সবথেকে ভালো লাগছিল লেখক এর কাছে সেটা হচ্ছে ওখানকার কফির কোয়ালিটি অনেক ভাল ছিল কারণ তারা অনেক কম আইটেম রাখার কারণে প্রোডাক্টের দিকে মনোযোগ দেয়া অনেক সহজ ছিল তাদের জন্য । যার রেজাল্ট লেখক সব সময় ওই দোকানে যেত । আপনি দেখবেন অনেক মানুষ সিমিলার টাইপের ভুল করে , কোন প্রোডাক্ট বানানোর সময় কম্পিটিটর যদি দুইটা ফিচার দেয় সে চেষ্টা করে তার প্রোডাক্টে ৩ অথবা ৪ টা ফিচার দিতে এরকম করে কম্পিটিশন করতে থাকে শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রোডাক্টই ভাল হয় না এবং কোয়ালিটি অনেক খারাপ হতে থাকে । যদি সে অল্প কিছুতে মনোযোগী হয়েএ একেবারে হাই কোয়ালিটির ফিচার দিত তাহলে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যেত । তখন সে ছোট কোম্পানি হয়ে ও অনেক বড় বড় কোম্পানির সাথে টক্কর দিতে পারবে । এজন্যই আপনিও শুরুতে ছোট দের সাথে কম্পিটিশন করুন এতে আপনার টাকা বাঁচবে , প্রফিট বেশি হবে , এবং আপনি অনেক তাড়াতাড়ি সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন।

লেখা শেষ করার আগে আপনাদেরকে একটি বোনাস প্রিন্সিপাল দিয়ে যাই আর তা হচ্ছে, লেখক বলেন মানুষ আপনাকে বলবে ব্যর্থ মানুষদের কাছ থেকে শিখতে কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে ব্যর্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে ” কি করতে হবে তা শিখতে পারবেন না ” আর আপনি যদি সফল ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিখেন “আপনি কি করতে হবে তা শিখতে পারবেন ” লেখক বলেন আপনি সফল ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিখুন যারা সফল ব্যবসা দাঁড় করিয়েছে আপনি যদি সফল ব্যক্তিদের কাছ থেকে শেখেন তাহলে আপনি খুব তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে পারবেন।

এই ছিল কিছু অসাধারণ কথা যা আমি Rework by Jason Fried বই থেকে বলেছি । যে বই সম্পর্কে বিলোনিয়ার ইনভেস্টর বাক কিউ ব্যান বলেন যদি আমার সামনে দুজন মানুষ আসে যাদের মধ্যে একজন এমবিএ করেছে এবং অন্যজন রি-ওয়ার্ক বই পড়েছে আমি আমি সব সময় ওই মানুষটাকে প্রাধান্য দিব যে রি-ওয়ার্ক বইটা পড়েছে , এতই ভালো বইটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI