ক্যারিয়ার

কিভাবে নিজের মধ্যে ডিসিপ্লিন গড়ে তুলবেন

ডিসিপ্লিন গড়ে তুলার উপায়

আপনি জীবনের যে কোনো ক্ষেত্রে যদি সফলতা অর্জন করতে চান তাহলে আপনাকে ডিসিপ্লিন হতে হবে। আমরা অনেক সময় মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে অনেক ইন্সপায়ার হই, এবং আমরা মনে ও করে ফেলি খুব সহজেই জীবন পরিবর্তন করে ফেলতে পারবো। সত্যি কথা বলতে মোটিভেশন হচ্ছে শুধু একটা ফিলিংস যা কখনো আসে আবার কখনো যায়। আমাদের জন্য সব সময় মোটিভেট থাকাটা প্রায় অসম্ভব। সেজন্যই জীবনে যে কোনো ক্ষেত্রে উন্নতি করতে হলে অবশ্যই ডিসিপ্লিন হতে হবে।আচ্ছা ডিসিপ্লিনের কথা শুনলে আপনার মাথায় কি ছোটবেলার সেই কথাটা মনে পড়ে, স্কুলে গেলে স্যার বলতো দুষ্টামি কেন করছো ক্লাসে ডিসিপ্লিন বজায় রাখ। তখন কি আপনার কাছে মনে হতো না ডিসিপ্লিন থাকাটা অনেক কষ্টের এবং একটা বোরিং কাজ। কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে ডিসিপ্লিন এমন কোন জিনিস না যেটাকে আমরা ভয় পাবো। প্রকৃতপক্ষে ডিসিপ্লিন এ থেকে আমরা আমাদের জীবনকে আরো সুন্দর এবং সহজ করে তুলতে পারি। এই আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব কিভাবে আপনারা খুব সহজেই ডিসিপ্লিনে থাকতে পারেন।

ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন

ছোট কিছু দিয়ে শুরু করুন

নিজেকে ডিসিপ্লিন রাখার প্রথম ধাপ হচ্ছে ছোট ছোট বিষয়গুলোতে প্রচুর প্র্যাকটিস করা। অনেক মানুষ আছে মোটিভেশনাল বই অথবা ভিডিও দেখার পর চিন্তা করে পুরো জীবনটা এক চুটকিতে পরিবর্তন করে ফেলবে। তাদের ভিতর হঠাৎ করে অনেক বেশি এনার্জি চলে আসে । তারা চিন্তা করে এখন থেকে আমি প্রতিদিন জিমে যাব, এখন থেকে আমি প্রতিদিন আট ঘন্টা পড়াশোনা করব। কিন্তু তারা যখন পড়তে বসে এবং জিমে যায় তখন অল্প কিছুক্ষণের ভিতরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, এমনটা কেন ? কারণ তারা শুরুটাই করে অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে। শুরুতেই যদি লক্ষটা অনেক বড় হয়ে তাহলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদি আপনার ভিতরে এত পরিমান ডিসিপ্লিন না থাকে যে আপনি আপনার প্রিয় গেম খেলা বাদ দিয়ে নিজেকে পরিবর্তন করার পিছনে সময় দিবেন তাহলে অবশ্যই আপনি কখনোই নিজের জীবন পরিবর্তনের জন্য যে স্টেপগুলা নিতে হয় সেগুলো কখনোই শুরু করতে পারবেন না। তাহলে এখন আপনার কি করা উচিত আপনার উচিত এতদিন থেকে আপনার কাছে যেটা প্রিয় মনে হচ্ছিল গেম খেলা, আড্ডা দেয়া, অযথা সময় নষ্ট করা, এগুলা বাদ দিয়ে নিজের জীবন পরিবর্তন করার জন্য কিছু করা লাগে তার পিছনে সময় দেয়া। অবশ্যই আপনাকে ছোট কিছু থেকেই শুরু করতে হবে। মনে করেন আপনি একটি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন আপনাকে প্রথমে কি করতে হবে, প্রথমে আপনাকে একটি সুন্দর ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে ভাবতে হবে তারপর আপনি আপনার আইডিয়া রিলেটেড নেটওয়ার্ক জেনারেট করবেন, তারপর আপনি ব্যবসার জন্য টাকা রেডি করবেন, ধীরে ধীরে শুরু হবে আপনার ব্যবসা। কখনই এক দিনে সবকিছু করে ফেলা সম্ভব না। নিজেকে আরো ডিসিপ্লিন রাখার প্রথম ধাপ হচ্ছে ছোট ছোট স্টেপ দিয়ে শুরু করা।

নিজেকে ডিসিপ্লিন রাখার দ্বিতীয় ধাপটি প্রথম পয়েন্টের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আপনাকে এমন কোন ছোট বিষয় দিয়ে শুরু করতে হবে যে বিষয়টি আয়ত্ত করতে পারলে আপনি অনেক বেশি সফল হতে পারবেন।

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা

ইতিমধ্যে আপনি যদি সকালে তাড়াতাড়ি উঠে থাকেন তবে আপনি খুব ভালো কাজ করছেন আর আপনি যদি না করে থাকেন তবে আপনি অনেক বড় ভুল করছেন। যদি আপনি এটা না করে থাকেন আপনি ব্যাপারটা করে দেখতে পারেন অবশ্যই আপনি আপনার জীবনে অনেক পরিবর্তন দেখবেন। প্রতিদিন সকাল পাঁচটা থেকে সাতটার ভিতরে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন। আপনি যদি ইতিমধ্যেই স্কুল-কলেজ অথবা অফিসের জন্য তাড়াতাড়ি উঠে থাকেন তাহলে চেষ্টা করুন আরও আধা ঘন্টা অথবা এক ঘন্টা আগে উঠার। চেষ্টা করুন সকাল বেলার একটা রুটিন তৈরি করার। আপনার পুরো দিনের কাজ কি ভাবে শুরু করবেন,কোনটা দিয়ে শুরু করবেন, কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ এভাবে করতে থাকুন। এগুলা করার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই আপনার জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

হার্ড লাইন

হার্ড লাইন

এই পয়েন্টেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এটাই আসল ব্যাপার। যারা নিজেদের জীবনে ডিসিপ্লিন মেনটেন করে চলেন তারা মনে করেন আপনি যদি এই ব্যাপারটি ঠিকঠাক ভাবে করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার জীবন পরিবর্তন হবেই ইনশাআল্লাহ। এবং এই ব্যাপারটি করার মাধ্যমে আপনার সম্পর্কে আপনার চিন্তাভাবনা পরিবর্তন হয়ে যাবে। আমি আপনাদেরকে বলছি হার্ডলাইন ব্যাপারটা মূলত কি? হার্ডলাইন হচ্ছে এমন কোনো নিয়ম যেটা আপনি আপনার জন্য তৈরি করেন এবং এই নিয়মটি আপনি কখনোই ব্রেকডাউন করবেন না।অবশ্যই মনে রাখবেন এটা এমন কোন নিয়ম না যা সমাজ আপনাকে তৈরি করে দিচ্ছে এটা আপনার জন্য আপনার নিজের তৈরি করা নিয়ম। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চান তাহলে ব্যাপারটা অবশ্য আপনাকে ফলো করতে হবে। একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝাচ্ছি, মনে করুন আপনার বাসায় একটি হোয়াইটবোর্ড আছে আপনি আগামী দিন কোন কাজ করবেন বলে হোয়াইট বোর্ডের লিখে রেখেছেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই ওই দিন ওই কাজটি যেকোনো ভাবে শেষ করতেই হবে।এটাই হচ্ছে আপনার জন্য হার্ডলাইন মনে করুন আপনি হোয়াইট বোর্ডে লিখে রেখেছেন আজকে আপনি জিমে যাবেন, কোন কারনে আপনি প্রতিদিন যে সময়ের জিমে যান ওই সময়টায় যেতে পারলেনা তাহলে আপনি কি করবেন? অবশ্যই আপনাকে নিজে নিজে হলেও ব্যায়াম করতে হবে। কোনভাবে হার্ডলাইন ব্রেকডাউন করা যাবে না

  • প্রথমদিকে একেবারে ছোট কিছু দিয়ে শুরু করবেন কোনভাবেই অনেক বড় গোল সেট করবেন না বড় গোল অনেক সময় কাজ করার গতি কমিয়ে দেয়।
  • যে হার্ডলাইন টি আপনি ঠিক করেছেন নিজের জন্য তা অবশ্যই করার চেষ্টা করবেন আপনার হার্ডলাইন যদি হয় ব্যায়াম করা তাহলে সময় বেশি না দিতে পারলে অল্প সময় দিয়ে হলেও করার চেষ্টা করবেন।
  • যদি কখনো হার্ডলাইন মিস করে ফেলেন তাহলে বেশি স্ট্রেস নেয়ার দরকার নেই কারণজীবনে অনেক সময় অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায় যার জন্য আপনি আপনার হার্ডলাইন নাও করতে পারেন।

রেস্পন্সিবিলিটি

রেস্পন্সিবিলিটি


এই পয়েন্টটা অবশ্যই আপনি মনে রাখবেন ডিসিপ্লিন এ থাকাটা সম্পূর্ণ আপনার রেস্পন্সিবিলিটি। আপনার আশে পাশে অনেক মানুষ থাকতে পারে যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন আপনি কেন ডিসিপ্লিন এ থাকতে পারছেন না,ম্যাক্সিমাম সময় যেটা দেখা যাবে ওই মানুষগুলি তাদের আশেপাশের অনেক কিছুকে ব্লেম দেয়া শুরু করবে। হয়তো সে বলবে তার মা তাকে সকালে ডেকে দেয় না, জিমে যাওয়ার জন্য সে কোন ভাল পার্টনার পাচ্ছে না, সত্যি ব্যাপারটা হচ্ছে আপনাকে যদি আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে হয় তাহলে এই সব দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। আপনি আপনার লাইফে যা চান ইতিমধ্যে যদি তা আপনার কাছে না থেকে থাকে আপনি কমপ্লেন করা বন্ধ করে ডিসিপ্লিন হয়ে যান।

জীবন পরিবর্তন করার জন্য একবার ডিসিপ্লিন হয়ে দেখুন অবশ্যই আপনি আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন মনে রাখবেন মোটিভেশন সামরিক আর ডিসিপ্লিন সারা জীবনের জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI