স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

দন্ত চিকিৎসা সম্পর্কে যে বিষয়গুলো আপনার জানা দরকার

দন্ত চিকিৎসা

দাঁত মানুষের অমূল্য সম্পদ।দাঁত থাকতে আমরা অনেকেই এর মূল্য বুঝতে পারিনা।একমাত্র তারাই এর গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন যারা দন্ত জাতীয় বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হয়েছেন তবে সুসংবাদটি হ’ল দাঁতের বেশিরভাগ সমস্যা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। দিনে দুবার ব্রাশ করা, প্রতিদিন ফ্লসিং করা, সঠিকভাবে খাওয়া এবং ডেন্টাল সমস্যা রোধে নিয়মিত দাঁতের চেক-আপগুলি করানোর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারবেন ।

চলুন জেনে নেয়া যাক বাচ্চাদের দুধ দাঁত সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং চিকিৎসা সম্পর্কে

বাচ্চাদের দুধ দাঁত

1 বাচ্চাদের দুধ দাঁত সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত উঠে থাকে
2 বাচ্চাদের স্থায়ী দাঁত উঠার বয়স সাড়ে পাঁচ বছর বয়স থেকে 13 বছর বয়স পর্যন্ত
3 বাচ্চাদের দুধ দাঁত সাধারণত সাড়ে পাঁচ বছর বয়স থেকে ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করে
4 বাচ্চাকে অবশ্যই দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়াবেন এতে করে বাচ্চার দাঁত এবং চোয়ালের গটনে সহায়তা করবে
5 সাধারণত ছোট বাচ্চাদেরকে ব্রাশ করানো অনেক কষ্ট কর, তাই বাচ্চাদের কে দুধ খাওয়ানোর পর তুলার সাথে হালকা পানি ভিজিয়ে দাঁতের ভিতরে বাইরে ঘষে দেবেন এতে করে আপনার বাচ্চা দাঁতের ক্ষয়রোগ থেকে রক্ষা পাবে
6 আপনার বাচ্চার দাঁতের পরিচর্যা নিন নিয়মিত ব্রাশ করান,প্রথম ছয় বছরে কমপক্ষে তিন থেকে চারবার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না দুধ দাঁত ঠিক সময়ে উঠছে কিনা এবং ঠিক সময় পড়ছে কিনা ডাক্তার দেখিয়ে সিওর হয়ে নিন অন্যথায় আপনার বাচ্চার মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে
7 আপনার বাচ্চার দাঁত যদি আঁকাবাঁকা উঠে থাকে আপনি ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করিয়ে নিতে পারবেন
8 আঁকাবাঁকা দাঁতের এই ধরনের চিকিৎসা কে দন্ত চিকিৎসার ভাষায় অর্থোডেন্টিক অ্যাপস্নায়েন্স ট্রিটমেন্ট বলে
9 তুলনামূলক স্বল্প খরচে রিমুভাল অ্যাপস্নায়েন্স চিকিৎসার মাধ্যমে যথা সময়ে চিকিৎসা করা সম্ভব
10 আপনার বাচ্চার বয়স বেশি হয়ে গেলে রিমুভাল অর্থোডেন্টিক অ্যাপস্নায়েন্স পদ্ধতি কার্যকর হবে না সে ক্ষেত্রে দাঁতের ফিক্সট অর্থোডেন্টিক অ্যাপস্নায়েন্স ট্রিটমেন্ট অথবা ব্রেইস পদ্ধতি ব্যবহার করে চিকিৎসা করাতে হবে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল

Image source pixabay.com

11 আপনার বাচ্চাকে চকলেট চিপস জাতীয় খাবার খেতে নিষেধ করুন কারণ এগুলা দাঁতের ক্ষয় রোগ সৃষ্টি করে

প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁত সম্পর্কে

নিয়মিত দাঁতের চেকআপ করানোর মাধ্যমে আপনি আপনার দাঁতের ছোট ছোট সমস্যাগুলো খুব সহজেই চিহ্নিত করতে পারবেন এতে করে আপনি দাঁতের বড় সমস্যা এবং ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন, মনে রাখতে হবে দাঁতের চিকিৎসা থেকে প্রতিকার করাটাই ভালো

Image source pixabay.com

1 প্রাপ্ত বয়স্কদের দাঁতের মধ্যে যদি কালো দাগ বা ক্ষয়রোগ অথবা ডেন্টাল ক্যারিজ দেখা দেয় তাহলে ব্যথা ওঠার সম্ভাবনা আছে এইরকম কিছু দেখা দেয়ার সাথে সাথে যত দ্রুত সম্ভব হয় ডাক্তারের কাছে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করিয়ে নিবেন মনে রাখবেন যত দেরি করবেন বিপদ তত বারবে অর্থাৎ দাঁতে ব্যথা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে
2 যেই দাঁতে গর্ত আছে কিন্তু কোনো ব্যথা নেই সেই দাঁতের ফিলিং করতে পারবেন কিন্তু যে দাতে গর্ত আছে এবং ব্যথাও আছে ওই দাঁত ফিলিং করা যায়না ওই দাঁতের রুট ক্যানেল করতে হয়
3 রুট ক্যানাল একটি জটিল এবং সূক্ষ্ম দাঁতের ব্যথা নাশক চিকিৎসা এটি করতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যায়
4 রুট ক্যানাল করতে গেলে দাঁতের মুকুট বা ক্রাউন ক্ষতিগ্রস্ত হয় সে ক্ষেত্রে ফিলিং দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে সফলভাবে রুট ক্যানাল করার পরে দাঁতের উপরে কৃত্তিম মুকুট পরিয়ে দেয়া হয় যা দাঁতকে দীর্ঘস্থায়ী রূপ দেয়
5 দাঁতের ক্রাউন /ক্যাপ কয়েক ধরনের হয়ে থাকে
(ক) পোরসেলিক ক্রাউন (সিরামিক মুকুট)
(খ) মেটালিক ক্রাউন (স্টিলের মুকুট)
(গ) মেলিনেটেড মেটাল ক্রাউন (স্টিলের উপর আস্তরিত)
(ঘ) অ্যাক্রালিক জ্যাকেট ক্রাউন (শুধুমাত্র সামনের দাঁতের প্লাস্টিক মুকুট)
(ঙ) পাইরেস ক্রাউন
6 উপরে বর্ণিত ক্রাউন গুলোর মধ্যে পোর্সেলিন ক্রাউন সবথেকে ভালো দীর্ঘস্থায়ী এবং উন্নত মানের
7 বছরে অন্তত দুইবার আপনার ডেন্টিস্টের সাথে যোগাযোগ করুন ডেন্টিস্ট যদি আপনার দাঁত চেকআপ করার পর মনে করে স্কেলিং করার দরকার আছে তাহলে স্কেলিং করে নিন
8 আজকাল বাজারে অনেক উন্নত মানের ফিলিং পাওয়া যায় যা দাঁতের কালারের সাথে ম্যাচিং করে করা যায়
9 দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগ হয়ে থাকলে যদি ফিলিং করা সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে দাঁতের ক্যাপ করার প্রয়োজন হতে পারে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই রুট ক্যানেল চিকিৎসা করে ক্যাপ বা ক্রাউন করে নেয়া ভাল তাতে ভবিষ্যতে দাঁতে ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না
10 দাঁত স্কেলিং করলে দাঁতের মাড়ি শক্ত এবং সুস্থ থাকে
11 অনেকের ধারণা স্কেলিং করলে দাঁতের মাডি হালকা হয়ে যায় আসলে ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল বরং দাঁতের গোড়ায় পাথর থাকলে দাঁতের মাড়ি আলগা করতে থাকে এবং দীর্ঘদিন এ রকম পাথর জমে থাকলে মাটির প্রধা জনিত রোগ হয়
12 আপনার দাঁতের মাড়িতে যদি ভাঙ্গা দাঁতের শিকড় থেকে থাকে তাহলে পেলে দিন কারণ দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকলে মারাত্মক রোগ হতে পারে যেমন চোয়ালে সিস্ট,টিউমার এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে
13 দাঁত তোলার পর অন্তত এক ঘণ্টা গরম এবং শক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা দাঁত তোলার এক ঘন্টা পর তুলা পেলে দিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলি করবেন এবং নরম খাবার খাবেন
14 দাঁত তোলার পরে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ওষুধ খেতে হবে

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI