ক্যারিয়ার আত্মউন্নয়ন

নিজেকে পরিবর্তন করার উপায়

সাফল্য

জীবনে সফল হতে সবাই চায়।তবে যারা নিজের কাজটা নিরলস ভাবে করেন, জীবনে তারাই অপেক্ষাকৃত দ্রুত গতিতে সাফল্য অর্জন করেন।কেউ সাফল্যের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করে যান, কেউবা খুব সহজেই সফলতার সোনার হরিণের খোঁজ পান। আবার কেউ সাফল্যের জন্য পরিশ্রম না করে একঘেয়ে জীবনের ঘানি টানেন। সফলতা আর ব্যর্থতার মধ্যে আসল পার্থক্যটা হলো দৃষ্টিভঙ্গিতে।তাই আমাদের সকলের উচিত সফল ব্যক্তিরা কি পন্থা অনুসরণ করছেন তা মনোযোগ সহকারে অনুধাবন করা, এবং যথাসম্ভব ইতিবাচক থেকে নিজের স্বপ্নের পথে ছুটে যাওয়া।বিশ্বের সফলতম ব্যক্তিদের জীবন থেকে তাঁদের কর্মপদ্ধতি পর্যালোচনা করে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন।

তেমন কিছু সফল মানুষের কর্মপদ্ধতি থেকে পাঁচটি সূত্র জেনে নেওয়া যাক :-

সঠিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

সঠিকভাবে লক্ষ্য নির্ধারণ করুন


নিজে জীবনে কী করতে চান সেই বিষয়ে যদি আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকে তবেই আপনি জীবনে সফল হতে পারবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের পুরো দিনটা মনে মনে ছকে ফেলুন। সারা দিনে কী করতে চান, কোন কাজটা আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে তা মনে মনে ভেবে নিন। নিজেকে সফল ভাবতে শিখুন।
সাফল্য পাওয়ার জন্য প্রত্যেক মানুষকে জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে চলা প্রয়োজন। জীবনে নির্ধারিত লক্ষ্য না থাকা বা সম্পূর্ণ দিশাহীনতা কোন ইতিবাচক তথা সার্থক জীবন নির্মাণ করতে অক্ষম। আশাবাদী হওয়া এবং নিজের ওপরে বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন সমস্যা মানুষের সামনে আসবেই কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে দৃঢ়চিত্তে, কঠিন মানসিক সংকল্পের দ্বারা জয় করতেই হবে। জীবনের প্রত্যেক সমস্যারই কিছু না কিছু সমাধান আছে, অনেক সময় মানুষ সমস্যার সম্মুখীন হয়ে বিচলিত হয়ে পড়েন, কিন্তু সমস্যা কিংবা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলে বিচলিত হওয়া চলবে না। বরং, মানুষকে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে সেই সমস্যাদীর্ন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতেই হবে। মনে রাখতে হবে, যে জীবন প্রত্যেক মানুষের নিজের, তাই সেই জীবনের লক্ষ্যে প্রত্যেক মানুষেকে নিজেকেই পৌছতে হবে।

অলসতা পরিহার করুন

অলসতা পরিহার করুন


সফল হতে চাইলে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন। খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে দিনে কাজ ও পরিকল্পনা করার প্রচুর সময় পাবেন। প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
জীবনে প্রতিজ্ঞ এবং প্রত্যয়ী হতে হবে, অলসতা পরিহার করতেই হবে।
আলস্য সাফল্যের পথে এক বিরাট বাধা। জীবনে আকাশ কুসুম কল্পনা নিয়েও কিন্তু বসে থাকা যাবে না। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে, প্রতিটা দিনকে কাজে লাগাতে হবে। তবে, সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনে নিয়মিতভাবে মানুষকে পর্যাপ্ত বিশ্রামও নিতে হবে।

নিজের কাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা

কাজের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখা


সফল ব্যক্তিরা নিজের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল হয়। তারা কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে না। মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাস থাকা জরুরি, কিন্তু অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করাটা বোকামি। কাউকে বিশ্বাস করার আগে তাদের সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণ যাচাই করা উচিত। সফল ব্যক্তিরা অন্ধভাবে শুধু নিজেকেই বিশ্বাস করে। 
মানুষকে ‘না’বলতে শিখতে হবে এবং দুঃখ বিলাসিতা পরিত্যাগ করতে হবে –
কোন কাজ না পারলে ইতিবাচক মনোভাবের মাধ্যমে খোলামনে নিজের অপারগতা সততার সঙ্গে নিশ্চিত ভাবেই প্রকাশ করতে হবে। ‘না’ বলতে দেরি করা মুর্খামির পরিচায়ক হয়ে যাবে, তাতে সমস্যার সমাধান না হয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। সেইজন্য কখনো কোন পরিস্থিতিতে সাময়িক ভাবে অপ্রিয় হলেও স্পষ্ট ভাষায় ‘না’ বলা শিখে নেওয়া এবং রপ্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয়ত নৈরাশ্যবাদী তথা নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ‘আমার কিছুই নেই’, ‘আমার কেউ নাই’, ‘আমার কি হবে’, ‘আমি খুব একা’, ‘অনেক বয়স হয়ে গেল, এখনও যৌবন থাকলে অনেক কিছুই করতে পারতাম’…. এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে দূর করতেই হবে। নিজেকেই নিজের জীবনের বোঝা ভাবা নিজের মানবিকতার প্রতি এক ঘোর অন্যায়। নিজের প্রতি আস্থা রাখা সফলতার অন্যতম শর্ত।

সর্বদা হাসি-খুশি থাকা

সর্বদা হাসি-খুশি থাকা


এটা সহজেই দৃশ্যমান যে, সফল ব্যক্তিরা সব সময় হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করে। আপনি সব সময় মনমরা থাকলে অন্যরা আপনার দুর্বলতার সুযোগ নেবে। হাসি-খুশি মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। কারণ হাসি-খুশি থাকা মানুষের স্বভাব একটি মহৎ গুন। 
হাসিমুখে নিজের সমালোচনা মেনে নিতে শিখতে হবে এবং যোগ্য সমালোচককে স্বাগত জানাতে হবে।
সবার কথা সর্বদা সাদরে গ্রহণ করতে হবে। সমালোচনাকারীর কথা ভালো না লাগলেও তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে এবং তা থেকে বিভিন্ন ভাবে করা ভুল সংশোধনের পথ খুঁজতে হবে।
বিল গেটস তাঁর “বিজনেস অ্যাট দ্য স্পিড অব থট” বইতে সমালোচনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন।
তার অভিমত —
“আমার বা আমার পণ্যের প্রতি অভিযোগ আর অসন্তুষ্টি আমার আরো উন্নতি করার সোপান মাত্র।” তিনি আরো বলেছেন,
“আপনার সবচেয়ে অসন্তুষ্ট ক্রেতাই কিন্তু আপনার ভ্রান্তি শোধরানোর এবং নতুন করে শেখার সবচেয়ে বড় উৎস।”

ব্যর্থতার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন

ব্যর্থতার প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন

জীবনটা মোটেই ফুলের বিছানো পথ নয়, বরং অনেক বেশিই কণ্টকাকীর্ণ। এটা মেনে নিয়ে ব্যর্থতার জন্যেও প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে।
জীবনের সব কাজেই সফলতা পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কোনো কারণে ব্যর্থতা আসতেই পারে। পৃথিবীতে সম্ভবতঃ এমন কোন মানুষ নেই যিনি কোনদিন ব্যর্থতার সম্মুখীন হন নি, তাই ব্যর্থতাকে অবিচল চিত্তে মেনে নেওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া একান্তই প্রয়োজন। ব্যর্থতায় নিরাশ না হয়ে বরং সেই ব্যর্থতা থেকেই মানুষকে শিক্ষা নিতে হবে। পূর্বেকার ব্যর্থতায় হতাশ হৃদয় হয়ে ঘরের কোণে মন মরা হয়ে বসে না থেকে পূর্ণোদ্যমে নতুন করে আবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

মানুষ যতই কঠোর পরিশ্রম করুক না কেন, এমন একটা সময় আসতে বাধ্য, যখন সবকিছু নিজের মনমতো, নিজের ইচ্ছানুসারে বা আশানুরূপ হবে না। একজন মানুষ বারংবার পতিত হতে পারেন, কিন্তু তাঁকে আবার উঠে দাঁড়াতেই হবে।
জীবনে সুঅভ্যাস, দৈনন্দিন অনুশাসনের তথা প্রাত্যহিক কর্মোদ্যমের মাধ্যমে নিজের শরীর এবং মনকে তরতাজা এবং সুখী রাখতে হবে। তবেই আপনি কাজ করে আনন্দ পাবেন। আর, প্রতিদিন যদি নিজের কাজেই আনন্দ না পান, তাহলে জীবনে সফলতা আসবে কি ভাবে?

দুরন্ত গতিতে ছুটে চলুন


তাই দুরন্ত গতিতে ছুটে চলুন নিজের লক্ষ্যপানে, মাঝেমধ্যে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলেও আবার উঠে দাঁড়াতে দেরি করবেন না।
কারণ:-
“চলার নামই জীবন,
পরিবর্তনের নামই জীবন
আর
থেমে যাওয়াই মৃত্যু,
সংকীর্ণতার কারণে পৃথিবীর পরিবর্তনকে মেনে না নেওয়াই প্রকৃত মৃত্যু।”

https://www.youtube.com/watch?v=oKWXQ-N0zJU&ab_channel=BeInspired-WorkoutMotivation

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI