স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

পিঠে ব্যথার কারণ,ব্যথার লক্ষণ,পিঠে ব্যথার সমাধান

পিঠে ব্যথার কারণ

পিঠে ব্যথা হলো ঘন ঘন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার অন্যতম একটি কারণ , বেশিরভাগ পিঠে ব্যথার প্রতিরোধ আপনি ঘরে বসেই করতে পারবেন । যদি প্রতিরোধ ব্যর্থ হয় তবে সাধারণ ঘরোয়া চিকিৎসা এবং কিছু শারীরিক ব্যায়াম কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত করার মাধ্যমে আপনি পিঠে ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন, সাধারণত পিঠে ব্যথার চিকিৎসার জন্য সার্জারি খুব একটা প্রয়োজন হয় না।

পিঠে ব্যথার লক্ষণ

image source pixabay.com

পিঠে ব্যথার অনেকগুলো লক্ষণ থাকতে পারে এদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে :

  • পেটের ফুলে ওঠা কখনো কখনো পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • এক বা উভয় পায়ে অসাড়তা, কাতরতা বা দুর্বলতা।
  • জ্বর এবং বমির সাথে যুক্ত প্রচন্ড পেটের ব্যাথা সহ পিঠে ব্যথা।
  • বসা , শুয়ে থাকা, ভারী ওজন তোলা, অনেকক্ষণ ঝুঁকে কাজ করা।

পিঠে ব্যথার ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলি

শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যে কেউ পিঠের ব্যথায় ভুগতে পারে, নিচের কারণগুলি আপনাকে পিঠে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

  1. বয়স : বয়স বাড়ার সাথে সাথে পিঠের ব্যথা হতে পারে, সাধারণত 30 বা 40 বছর বয়স থেকে পিঠে ব্যথা শুরু হয়।
  2. ব্যায়ামের অভাব : পিঠের পেশীর পরিপূর্ণ ব্যায়ামের অভাবে পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  3. অতিরিক্ত ওজন :অতিরিক্ত শরীরের ওজন আপনার পিঠকে অতিরিক্ত চাপে রাখে আর এ জন্য আপনার পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  4. মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা : হতাশা এবং উদ্বেগজনিত মানুষ ব্যাক পেইনের ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

পিঠে ব্যথার প্রতিরোধ

আপনি আপনার শারীরিক অবস্থার উন্নতি করে এবং শারীরিক অনুশীলন করে পিঠের ব্যথা এড়াতে বা এর পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারেন,আপনার পিঠ কে স্বাস্থ্যকর এবং শক্তিশালী রাখতে যেই কাজ নিয়মিত করতে পারেন।

  • ব্যায়াম : যে ব্যায়ামগুলো করলে আপনার পেশী আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারে সেগুলো করার চেষ্টা করুন, হাঁটা এবং সাঁতার এই ক্ষেত্রে ভালো পছন্দ হতে পারে। এছাড়া আপনি কোন কোন ব্যায়ামগুলো করতে পারেন সে সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
  • শরীরের ওজন ঠিক রাখুন : আপনার ওজন যদি খুব বেশি হয় চেষ্টা করুন কিছুটা কমিয়ে আনতে, কারণ অতিরিক্ত ওজন পিঠে অতিরিক্ত চাপ পেলে যার কারনে আপনার পিঠে ব্যথা হতে পারে।
  • ধুমপান ত্যাগ করুন : ধূমপান পিঠে ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়, যত বেশি সিগারেট খাবেন পিঠে ব্যথা বাড়ার সম্ভাবনা তত বেশি। তাই পিঠে ব্যথার ঝুঁকি হ্রাস করতে ধূমপান ত্যাগ করুন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

বেশিরভাগ পিঠের ব্যথা বাড়ির চিকিৎসা এবং সযত্নে ধীরে ধীরে উন্নতি হয়, যদি ব্যথা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে তাহলে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।ঠিক কখন আপনি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চিন্তা করবেন?

অনেক ক্ষেত্রে পিঠে ব্যথা একটি গুরুতর চিকিৎসার সংকেত হতে পারে , তাই আপনার পিঠে ব্যথা হলে তাৎক্ষণিক যত্ন নিন।

  • কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যথা থাকলে।
  • ব্যথা যদি এক বা একাধিক পায়ে ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে যদি হাটুর নীচ পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
  • এক বা একাধিক পায়ে দুর্বলতা অনুভব করা এবং অবশ অবশ অনুভব করা।
  • যদি অস্বাভাবিক ভাবে ওজন কমতে থাকে।
  • যদি ব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকে এবং বিশ্রাম নেয়ার পরেও কোনো উন্নতি না হয়।

রোগ নির্ণয়

image source pixabay.com

আপনার চিকিৎসক আপনার পিঠ পরীক্ষা করবে এবং আপনার বয়স, হাঁটাচলার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করবেন। আপনার চিকিৎসক আপনার পিঠের ব্যথা কতটা তীব্র সেটা যাচাই করবে । চিকিৎসক আপনার পিঠের ব্যথা মূল্যায়ন করবে ব্যথার আগে আপনি কতটা স্বাচ্ছন্দে নাড়াচাড়া করতে পারেন সেগুলো জানতে চাইবে এবং আপনার পেশির কোথায় সমস্যাটা হচ্ছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে, যদি সব কিছু করার পরেও চিকিৎসক কনফার্ম না হতে পারে তাহলে আপনাকে এক বা একাধিক পরীক্ষা করার জন্য বলবে।
*এক্স-রে
*এমআরআই বা সিটি স্ক্যান।
*রক্ত পরীক্ষা
*হাড় স্ক্যান

পিঠে ব্যথার ঘরোয়া চিকিৎসা

ঘরোয়া চিকিৎসায় এক মাসের ভিতরে বেশিরভাগ পিঠের ব্যথা ভাল হয়ে যায় । তবে একেক জনের সমস্যা এক এক রকম, অনেকের ব্যথা ভাল হতে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। ব্যথা কমানোর জন্য আপনি ঘরোয়াভাবে কয়েকটি ফর্মুলা এপ্লাই করতে পারেন।

  1. গরম শেক এবং ম্যাসাজ : এটি পেশির শক্তভাব শিথিল করে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
  2. যোগ ব্যায়াম : যোগব্যায়াম আপনার পেশিগুলোকে বিভিন্ন দিকে প্রসারিত করতে এবং আপনার পেশীর শক্তভাব শিথিল করতে সাহায্য করবে।
  3. মন শান্ত করা : মন শান্ত করার কৌশল যেমন বায়োফিডব্যাক এবং আচরণের কিছু পরিবর্তন করার কৌশল ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে।

পিঠে ব্যাথার ঔষধ

  1. প্যারাসিটামল : সামান্য পিঠের ব্যথার জন্য প্রাথমিকভাবে আপনি প্যারাসিটামল ব্যবহার করতে পারেন।
  2. পেশী শিথিল কারি : ডাক্তাররা পেশীগুলির শক্তভাব কমাবার জন্য এনএসএআইডিএস-এর সাথে সাইক্লোবেঞ্জাপ্রিন এবং মেথোকার্বামল-এর মত পেশী শিথিলকারী ওষুধের পরামর্শ দেন।
  3. স্টেরয়েডস : কর্টিকোস্টেরয়েডস, যেমন প্রেডনিসোলোন, পায়ের নীচের দিকে বিকীর্ণ হওয়া ব্যথা উপশম করতে সাহায্য করে। এগুলি আঘাতের স্থানে প্রদাহ এবং ফোলাভাব যেগুলি পিঠে ব্যথার কারণ ঘটায়, সেগুলিও কমায়।

Reference

https://www.myupchar.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI