স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা

পেয়ারা

পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidium guajava। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে পেয়ারা কখনই বিতরণ করা উচিত নয়। যদি কেউ পেয়ারা খায় তাহলে তাকে পরিপূর্ণ খাবার দিন। এটি বিশ্বাস করা হয় যে পুরো পেয়ারাতে একটি বীজ রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে। যদিও পেয়ারার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো, তবে বীজের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

অনেক ধরনের পেয়ারা আছে, যেমন আপেল পেয়ারা, এলাহাবাদ সাদা পেয়ারা, রেড গুজবেরি, স্পেকল্ড ইত্যাদি। শুধু জাতই নয়, বিভিন্ন ভাষায় পেয়ারারও বিভিন্ন নাম রয়েছে, যেমন ইংরেজিতে Guava, বাংলায় পেয়ারা এবং মারাঠিতে পেরু, ইত্যাদি। পেয়ারার উপকারিতা জানার এখনই সময়।

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পেয়ারার উপকারিতা

পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা কার্বোহাইড্রেট শোষণকে উন্নত করে এবং ইনসুলিনের মাত্রায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখে। গবেষণায় বলা হয়েছে, পেয়ারা শরীরকে টাইপ-২ সুগারের সমস্যা থেকে রক্ষা করে।

চোখের স্বাস্থ্যের জন্য পেয়ারা

ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পেয়ারা ভিটামিন এ এর ​​একটি খুব ভালো উৎস। এটি ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন এবং চোখের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ করে। এটি দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করতে এতটাই সক্ষম যে একবার দৃষ্টিশক্তির অবনতি শুরু হলে ও এটি উন্নতি করতে পারে।

ক্যান্সারের জন্য পেয়ারা

আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা যোগ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল যে এটি ক্যান্সার কোষের বিকাশ বন্ধ করে। এই ক্ষেত্রে করা প্রচুর গবেষণা প্রমাণ করে যে পেয়ারা পাতার তেল ক্যান্সারের বিকাশ বন্ধ করতে আধুনিক ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকর। যেহেতু পেয়ারা একটি ভালো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং এতে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন রয়েছে, তাই এটি প্রোস্টেট এবং স্তন ক্যান্সার কমাতে ও প্রতিরোধ করতেও খুবই সহায়ক। এছাড়া পেয়ারায় কমলালেবুর চেয়ে চারগুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা দেয়।

পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পেয়ারা

পেয়ারা ভিটামিন সি, ক্যারোটিনয়েড এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যা পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং এর কার্যকারিতা উন্নত করে। এছাড়াও, পেয়ারার ভাল অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এটি ক্ষারীয়, এইভাবে ডায়রিয়া এবং আমাশয় প্রতিরোধ করে।

ডায়রিয়া নিরাময়ে এক মুঠো চালের আটা এক বা দুই গ্লাস পানিতে মিশিয়ে তাতে ৩০ গ্রাম পেয়ারা পাতা ফুটিয়ে নিন। দিনে দুবার এই ক্বাথ পান করুন।পেয়ারা পাতা এবং শিকড় 90 ডিগ্রি সেলসিয়াসে 20 মিনিটের জন্য সিদ্ধ করুন আমাশয় নিরাময়ের জন্য। এই রস পান করলে আমাশয় থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

থাইরয়েডে পেয়ারা ফলের উপকারিতা

পেয়ারা তামার একটি চমৎকার উৎস যা থাইরয়েডের উৎপাদন ও শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর পুষ্টির সাথে থাইরয়েডের উপাদান উন্নত করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে পেয়ারার উপকারিতা

পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা মলত্যাগকে খুব সহজ করে তোলে। এর বীজ রেচক হিসেবে কাজ করে এবং শুধু হজমশক্তিই উন্নত করে না, অন্ত্র পরিষ্কার করতেও সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পেয়ারার উপকারিতা

পেয়ারা ভিটামিন B3 এবং B6 এর একটি প্রচুর উৎস যা মস্তিষ্কে রক্ত ​​​​প্রবাহকে ব্যাপকভাবে পুষ্ট করে এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা উন্নত করে। এটি সেবন করলে আপনার মন যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি মনোযোগও উন্নত হয়।

উচ্চ রক্তচাপে পেয়ারা উপকারী

পেয়ারার পুষ্টিগুণ শুধু উচ্চ রক্তচাপ কমায় না, কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণ করে। এটি পটাসিয়ামের একটি ভালো উৎস যা রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে খুবই সহায়ক। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায় যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

পেয়ারার ঔষধি গুণাবলী

আয়ুর্বেদ অনুসারে, পেয়ারা সুস্বাদু, ভারী, ঠাণ্ডা, অম্লীয়, বাত-পিটা নিরাময়কারী, শুক্রনাশক, তীক্ষ্ণ, তৃষ্ণা, কৃমি, অজ্ঞানতা, বিভ্রান্তি, উন্মাদনা, প্রদাহ, অপ্রতিরোধী ফল। পেয়ারা পেট পরিষ্কার করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। পেয়ারার খাবারের পর খাওয়া হজমশক্তির উন্নতি ঘটায় এবং খাবারের আগে খাওয়া ডায়রিয়ায় উপকারী।

ইউনানী চিকিৎসা অনুসারে, পেয়ারার ঠাণ্ডা প্রথম ডিগ্রি এবং দ্বিতীয় স্তরের উষ্ণ প্রকৃতি রয়েছে। ফুসকুড়ি, দূষিত আলসার এবং মাড়ির ফোলা দূর করতে এটি সর্বোত্তম।

বৈজ্ঞানিক মতামত অনুযায়ী পেয়ারার রাসায়নিক গঠনে পানি ৮৯.৯, কার্বোহাইড্রেট ১৪.৯, প্রোটিন ১.৫, চর্বি ১.২, খনিজ-লবণ ১.৮ শতাংশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘সি’, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রনও পাওয়া যায়। পেয়ারা পাতায় রজন, চর্বি, ল্যাকটোজ, ট্যানিন, দাহ্য তেল এবং খনিজ লবণ থাকে।

পেয়ারা খাওয়ার অপকারিতা

পেয়ারা খাওয়ার অপকারিতা

পেয়ারা খাওয়ার অসুবিধার কথা বললে, পুষ্টিকর পেয়ারা সেই খাবারগুলির মধ্যে একটি যার প্রায় কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। শুধুমাত্র গর্ভাবস্থায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আপনাকে একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে। এ সময় বেশি পেয়ারা খাবেন না! এ সময় মাত্র ১ থেকে ২টি পেয়ারা খেতে হবে। আসুন জেনে নিই বেশি করে পেয়ারা খেলে কী কী ক্ষতি হতে পারে।

  • বেশি পেয়ারা খাওয়ার ফলে ফুলে যাওয়া, পেট ফাঁপা এবং গ্যাসের মতো সমস্যাও হতে পারে।
  • যাদের ঠান্ডা লেগেছে বা যাদের হজমশক্তি দুর্বল তাদের পেয়ারা কম খাওয়া উচিত। এই ধরনের লোকেরা এটি সঠিকভাবে হজম করে না এবং ক্ষতি করে।
  • পেয়ারা বেশি খেলে পেট খারাপ হতে পারে কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।
  • শুধু পেয়ারা নয়, এর পাতাও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের বিশেষ করে এগুলি খাওয়া এড়ানো উচিত।
  • পেয়ারা পাতার অত্যধিক সেবনে রক্তস্বল্পতা, মাথাব্যথা, এমনকি কিডনির সমস্যাও হতে পারে।

পেয়ারা খাওয়ার সঠিক সময়

পেয়ারা খাওয়ার সঠিক সময়

আমি আপনাকে বলে রাখি যে পেয়ারা খাওয়ার জন্য সকালের সেরা সময় যদিও আপনি এটি দুপুরে বা খাওয়ার আগে খেতে পারেন। আপনি চাইলে সকালে খালি পেটে নাস্তায়ও খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন পেয়ারা খাওয়ার পরপরই পানি পান করবেন না।

পেয়ারা খাওয়ার সঠিক উপায়

এই ফলটি অনেক উপায়ে খান, এটি খাওয়া হয়, ফলের রস হিসাবেও খাওয়া যায়, এবং কাটা পেয়ারা লবণ দিয়েও খাওয়া যায়। পেয়ারাকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে সালাদে যোগ করে আপনি একটি স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট তৈরি করতে পারেন।

আমরা আপনাকে বলি যে এই পেয়ারার ক্ষতি তখনই হয় যখন বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় বা ভুলভাবে যদি আপনি সাবধানে এবং সতর্কতার সাথে পেয়ারা খান তবে পেয়ারার ক্ষতি এড়ানো যায়। পেয়ারা একটি সহজ ফল, যা উপকারী, সস্তা এবং সহজলভ্য। এবং এটি আপনার জন্য সবচেয়ে পুষ্টিকরও বটে। পেয়ারায় রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি, যা অনেক রোগে পেয়ারা খেলে উপকার হয়, তাই আজ থেকেই পেয়ারা খাওয়া শুরু করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI