বইয়ের রাজ্য

প্যাসিভ ইনকাম না লেভারেজ ইনকাম লক্ষ্য হবে কোনটা

প্যাসিভ ইনকাম

আপনাদের ভিতরে অনেকেই হয়তো রবার্ট কিয়োসাকির রিচ ড্যাড পুর ড্যাড বইটি পড়েছেন। তিনি বইয়ে অ্যাক্টিভ ইনকাম এবং প্যাসিভ ইনকাম সম্পর্কে বলেছেন। রবার্ট কিয়োসাকি বলেন আর্থিক স্বচ্ছলতা পাওয়ার জন্য আপনাকে যত বেশি সম্ভব সম্পদ তৈরি করতে হবে যা আপনাকে প্যাসিভ ইনকাম করে দিবে।কিন্তু গ্র‍্যাজুয়েট এবং তরুণরা এইসব কিছু জানার পরেও তাদের জীবনে ইজিলি এপ্লাই করতে পারে না, কেননা রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড বইতে আমাদের কিছু কথা শেখানো হয়নি। আমি আজকে আপনাদের জন্য ইন্টারনেট মার্কেটের এবং বিজনেস কনসালট্যান্ট ডেন লক এর নতুন বই আনলক ইট থেকে এমন কিছু কথা লিখব যা টাকা-পয়সা নিয়ে আপনাদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করে ফেলবে। ডেন লক এর বই আনলক ইট থেকে আমি প্রথম যে কথাটি শিখেছি তা হচ্ছে ।

প্যাসিভ ইনকাম – নাকি অন্য কিছু

প্যাসিভ ইনকাম - নাকি অন্য কিছু

এটা ঠিক আপনি কিছু করেন অথবা না করেন প্যাসিভ ইনকাম আসতেই থাকবে কিন্তু ওই প্যাসিভ ইনকামের রাস্তা তৈরি করতে যে সিস্টেম এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয় ওইটা শুয়ে শুয়ে তৈরি হয় না । এটা তৈরি করার জন্য অনেক পরিশ্রম এবং সময় লাগে যা তৈরি করার ধৈর্য অনেক মানুষেরই থাকে না। কেননা এই সিস্টেম তৈরি করার জন্য যে পরিশ্রম,সময় এবং যে প্লানিং এর দরকার হয় তরুণ সমাজ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা বিজনেসম্যান দের লাইফ স্টাইল এর সাথে মিলাতে পারে না। আজকের দুনিয়ায় বড় বড় বিজনেসম্যান যেমন জেফ বেজোস, বিল গেট, মুকেশ আম্বানি,জ্যাক মা তারা যদি চায় তাদের পুরো জীবন তাদের ব্যবসা দিয়ে আয় করা টাকায় খুব ভালোভাবে কাটিয়ে দিতে পারে কারণ তাদের ব্যবসায় এমন একটা সিস্টেমে হয় যাতে তাদের ব্যবসা তাদের অফিসে যাওয়া না যাওয়ার উপর নির্ভর করে না। আর এই কারণে তারা যদি চায় তাদের সারা জীবন শুয়ে শুয়ে দুনিয়া ঘুরে কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তাদের কাছে এত কিছু থাকার পরেও তারা প্রতিদিন অফিসে গিয়ে কাজ করে। অন্যদিকে একজন সাধারন মানুষ চিন্তা করে যদি কোন দিক থেকে একটা ভালো প্যাসিভ ইনকাম আসা শুরু হয় যার উপর নির্ভর করে সে কোন কাজ না করে তার বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারবে। আমরা যদি প্যাসিভ ইনকাম এর ডেফিনেশন দেখি তাহলে এর অর্থ দাঁড়ায় কোন কিছু না করে টাকা ইনকাম করা। দুনিয়াতে এমন কিছু নেই যা আপনাকে টাকা ইনকাম করে দিবে কোন কিছু না করেই। রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং অনলাইনে প্রোডাক্ট বিক্রি করা থেকে শুরু করে আপনি যে কাজেই করেন না কেন আপনাকে কন্টিনিউয়াসলি আপডেট থাকতে হবে। কাজ করে যেতে হবে কেননা প্রতিনিয়তই মার্কেট পরিবর্তন হয় সরকারের নিয়ম-কানুন পরিবর্তন হয় মানুষের চাহিদার পরিবর্তন হয়। অনলাইন মার্কেটার ডেন লক বলেন প্যাসিভ ইনকাম কে আমাদের রিপ্লেস করা উচিত নতুন শব্দ লেভারেজ ইনকাম দিয়ে যার মানে হচ্ছে অন্য মানুষের সময়, রিসোর্স এবং টেকনোলজি ব্যবহার করে আপনার ন্যূনতম সময় ব্যয় করে ম্যাক্সিমাম আয় করা। যেমন অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ড এদের জন্য ইন্টারনেট লেভারেজ হিসেবে কাজ করে। ফুড পান্ডা, এবং কুরিয়ার সার্ভিস গুলোর জন্য ডেলিভারি বয় লেভারেজ । উবার, পাঠাও এদের জন্য মানুষদের গাড়ি লেভারেজ এর মতো কাজ করে। তার মানে এখনকার সময়ে সম্পদ তৈরি করার উত্তম উপায় হচ্ছে টেকনোলজি এবং রিসোর্স এর লেভারেজ নিয়ে কাজ করা। শুধু প্যাসিভ ইনকাম এর আশায় বসে থাকা নয়।

ডেন লক বলেন সম্পদ সাধারণত দুই ভাবে তৈরি করা যায় একটি হচ্ছে স্নো ওয়ে এবং ফাস্ট ওয়ে।

স্লো ওয়ে

স্লো ওয়ে

স্নো ওয়ে হচ্ছে সম্পদ তৈরি করার ট্রেডিশনাল ওয়ে যা আপনার রিলেটিভ থেকে শুরু করে আপনার কলেজের প্রফেসর পর্যন্ত মোটামুটি সবাই ফলো করে । মোটামুটি সবাই আপনাকেও বলবে স্নো ওয়ে ফলো করার জন্য । উনারা বলবে ভালো পড়াশোনা করো ভালো ফলাফল করো যাতে ভালো একটি চাকরি করতে পারো। এবং চাকরি করে টাকা জমিয়ে আলাদা আলাদা প্রজেক্টে ইনভেস্ট করতে পারো যাতে করে 30 – 40 বছর পরে যখন তুমি বয়স্ক হয়ে যাবে যেন এই জমানো এবং ইনভেস্ট করা টাকা তোমাকে একটি ভালো জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। এই আয়ের পদ্ধতির দুইটি প্রধান সমস্যা। এইটা অনেক ধীর গতিতে টাকা আয় করার পদ্ধতির ,এবং দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে অন্য কিছুর উপর নির্ভরশীল হওয়া। মানে আপনার স্যালারি দেয়া বস, আপনি যেই কোম্পানির শেয়ার কিনেছেন ওই কোম্পানির শেয়ারের দামের উপর আপনার আয়-রোজগার নির্ভর করবে।

ফাস্ট ওয়ে

ফাস্ট ওয়ে

ফাস্ট ওয়ে মানে হচ্ছে এমন একটি সিস্টেম তৈরি করা যার মধ্যে প্রথম হচ্ছে হাই ইনকাম স্কিল। আপনার এমন একটি স্কিল তৈরি করা উচিত যা আপনাকে প্রতিমাসে 5000 ডলার অথবা তার থেকে বেশি ইনকাম করতে সাহায্য করবে। আপনি যদি খেয়াল করেন দেখবেন আজকাল অনেক জায়গায় মানুষের পরিবর্তে রোবট কাজ করছে এবং কোম্পানি গুলু ফুলটাইম কর্মচারী দিয়ে কাজ করানোর পরিবর্তে নিজেদের কাজ কনট্রাক এর মাধ্যমে আউটসোর্স করে দিচ্ছে কেননা মার্কেটে স্কিল এর ডিমান্ড আছে , ডিগ্রির নয়। লেখক বলেন আপনি যদি আর্থিক স্বচ্ছলতা চান তাহলে নিজের ব্যবসা শুরু করার আগে হাই ইনকাম স্কিল ডেভেলপ করুন যাতে করে আপনি ওই হাই স্কিল ব্যবহার করে আপনার ব্যবসা সম্প্রসারিত করতে পারেন। ডেন লক বলেন আপনি মার্কেটে যত ভ্যালু প্রোভাইড করবেন আপনি তত বেশি টাকা আয় করতে পারবেন। আপনি অনেক সময় দেখবেন একজন পাবলিক স্পিকারের কয়েক ঘণ্টার ফি নরমাল জব করা লোকের এক বছরের বেতন এর তুলনায় বেশি হয় কারণ ওই পাবলিক স্পিকার কয়েক ঘন্টার ভিতরে একটি কোম্পানিকে বুদ্ধি পরামর্শ দিয়ে এত ইনকাম করিয়ে দিতে পারে যা ওখানে চাকরি করা কর্মচারী সম্ভবত পুরো বছরের করতে পারবে না।

স্কিল এবল বিজনেস

স্কিল এবল বিজনেস

স্কিল এবল বিজনেস মানে এরকম একটা ব্যবসা যা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য অল্প পুঁজি এবং খুব সামান্য রিসোর্সের দরকার পডে মানে হচ্ছে আপনার হাই ইনকাম স্কিলকে ইন্টারনেটে নিয়ে আসুন যাতে করে ইন্টারনেট এর সুবিধা ভোগ করে আপনার ব্যবসা পুরা পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারেন। ভবিষ্যতে ইন্টারনেট রিলেটেড বিজনেস অনেক তাড়াতাড়ি সম্প্রসারিত হবে যেখানে আপনার সামাজিক মূলধন আর্থিক মূলধনের রূপান্তরিত হতে পারে। এটার একটি পারফেক্ট উদাহরণ হতে পারে কাইলি জেনার যে শুধুমাত্র তার সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার ব্যবহার করে দুনিয়ার সবথেকে তরুণ বিলোনিয়ার হয়েছিলেন। রিচ ড্যাড বই পড়ে অনেকেই মানতে শুরু করেছিলেন রিয়েল এস্টেট প্রোজেক্ট এ ইনভেস্ট করে সম্পদ তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি করা যায়। আসলে ব্যাপারটা এরকম না সম্পদ অনেক রকমের হতে পারে যেমন আপনার কাছে থাকা ইনফর্মেশন আপনার, কাস্টমারদের ডাটাবেজ আপনার ব্র্যান্ডের রেপুটেশন আপনার সম্পদ হতে পারে।

হাই রিটার্ন ইনভেস্টমেন্ট

হাই রিটার্ন ইনভেস্টমেন্ট

হাই রিটার্ন ইনভেস্টমেন্ট মানে এরকম ইনভেস্টমেন্ট যা আপনাকে রিয়েল এস্টেট, গোল্ড স্টক মার্কেট , ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে বেশি আয় করে দেয়। হয়তো আপনি চিন্তা করছেন এরকম কি ইনভেস্টমেন্ট যা আপনাকে এর থেকে বেশি আয় করে দিবে সেটা হচ্ছে নিজের উপর ইনভেস্ট করা এই বিষয়টা মোটামুটি পৃথিবীর সব বিলোনিয়ার মেনে থাকেন আপনার টাকাপয়সা কোনো ব্যাংকে ডিপোজিট করার আগে আপনার নিজের উপর ইনভেস্ট করা উচিত । কারণ টাকা হচ্ছে কিছুটা বিড়ালের মত আপনি যদি তার পেছনে ছোটেন খুব সহজে আপনার কাছে ধরা দিবে না আপনার কাছে যদি এমন কিছু থাকে যেটা বিড়ালের খুব পছন্দের তাহলে সে নিজে থেকে আপনার কাছে চলে আসবে। আপনার অন্য অন্য ইনভেস্টমেন্ট হয়তো লস হয়ে যেতে পারে মার্কেট পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে কিন্তু আপনার নিজের কোন স্কিল এর ভ্যালু কখনো শেষ হয়ে যাবে না ।

টাকা ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে

টাকা ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে

অনেকেই বলে ধনী মানুষ তেমন একটা সুবিধা হয়না কিন্তু একথা তাদের ধনী হওয়ার সাথে কোনো সম্পৃক্ততা রাখে না এটা তাদের পার্সোনালিটি যেমন কিছু গরিব মানুষও কিন্তু খারাপ হয় । ঠিক ঐ রকমই কিছু ধনী মানুষও খারাপ হতে পারে। একজন খারাপ এবং অসৎ ব্যক্তির কাছে যদি টাকা আসে হতে পারে সে খারাপ কাজ করবে কিন্তু একজন ভালো মানুষের কাছে যদি টাকা আসে তাহলে সে ভালো কাজটি করবে । বিল গেটস , ওয়ারেন বাফেট , জেফ বেজোস এই মানুষগুলো তাদের নেট সম্পত্তির অনেক বড় একটি অংশ দাতব্য সংস্থায় দান করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI