ক্যারিয়ার আত্মউন্নয়ন

বড় হওয়ার স্বপ্ন কেন দেখবেন

বড় হওয়ার স্বপ্ন

স্বপ্ন বলতে আমরা সাধারণত ঘুমের সময় দেখা অবাস্তব কিছু দৃশ্যের কথা ভাবি। কিন্তু এই লেখায় আমি জেগে দেখা স্বপ্নের কথা বলবো, বলবো কেনো আপনারও স্বপ্ন দেখা শুরু করা উচিত।

©randy-tarampi

আপনি যদি সত্যিই সুন্দর ক্যারিয়ার গঠন করতে চান তাহলে স্বপ্ন দেখা শিখতে হবে। এ স্বপ্ন হচ্ছে বড় হওয়ার স্বপ্ন। অনেক অনেক বড় হওয়ার স্বপ্ন।
সেই সব স্বপ্ন যেগুলো আপনাকে ঘুমাতে দিবে না, নিজের লালিত স্বপ্নের পানে ছুটে যাবেন। আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সঠিক স্বপ্ন দেখা কতটা জরুরি তা এই লেখায় বর্ণনা করার চেষ্টা করবো আর নিজের ওপর সুদৃঢ় আত্মবিশ্বাসের ফলে অর্জিত চমৎকার সব অর্জনের কথা শুনাবো। চলুন শুরু করা যাক-

©mika-baumeister

এক. হাজার বছর ধরে দৌড়বিদরা ৪ মিনিটে এক মাইল দৌড়ানাের প্রচেষ্টা চালিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, এটা অসম্ভব। দৈহিক গঠনের কারণেই তা মানুষের পক্ষে কস্মিনকালেও সম্ভব নয় মানুষের হাড়ের কাঠামােও ফুসফুসের গঠন দুটোই এ সাফল্যের পথে অন্তরায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করতেন। দুহাজার বছর পার হয়ে গেল এভাবেই। তারপরই এল এক শুভদিন। একজন মানুষ প্রমাণ করলেন যে, বিশেষজ্ঞদের এ ধারণা ভুল তারপর ঘটল আরাে অলৌকিক ঘটনা। রজার ব্যানিস্টার প্রথম ৪ মিনিটে এক মাইল দৌড়ের রেকর্ড স্থাপন করার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই জন ল্যান্ডি পুরাে ২ সেকেন্ডের ব্যবধানে ব্যানিস্টারের রেকর্ড ভঙ্গ করে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেন। আর তারপর এ পর্যন্ত হাজারের বেশি দৌড়বিদ ৪ মিনিটের রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। যখন অসম্ভব মনে করা হতো, তখন কেউই পারেননি । আর একবার করা সম্ভব বিশ্বাস করার পর রেকর্ড ভাঙ্গার হিড়িক পড়ে যায়। বর্তমান রেকর্ডধারী দ্রুতমানব উসাইন বোল্ট ঘন্টায় প্রায় ২৭ মাইল গতিতে ছুটতে পারেন।

দুই. বিজ্ঞানী টমাস এডিসন বিশ্বাস করতেন যে, তিনি একটি সঠিক বৈদ্যুতিক বাতি তৈরি করতে পারবেন। এই বিশ্বাসই তাকে গবেষণার ক্ষেত্রে দশহাজার বার ব্যর্থতার পরও এগিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি সক্ষম হয়েছিলেন সঠিক ধাতু প্রয়ােগ করে যথার্থ বৈদ্যুতিক বাতি নির্মাণ করতে। বিমান আবিষ্কারক রাইট ভ্রাতৃদ্বয় বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু অসংখ্য বিজ্ঞানীর সাফল্য তাদের আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের ফলেই অর্জিত হয়েছে।

তিন. নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ নাট্যকার জর্জ বানার্ডশ মাত্র ৫ বছর স্কুলে লেখাপড়া করেছেন। দারিদ্রতার কারণে মাত্র ১৫ বছর বয়সে মাত্র ৪০ টাকা বেতনে কেরানীর কাজ নেন। কিন্তু তিনি লেখক হতে চেয়েছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন একদিন তিনি একজন বড় লেখক হবেন। এমনকি সেক্সপিয়ারকেও তিনি অতিক্রম করবেন। তাই তিনি প্রতিদিন নিয়মিত লেখাপড়া শুরু করেন। বাধ্যতামূলকভবে প্রতিদিন ১০ পৃষ্ঠা, কোনদিন না পারলে পরের দিন বিশ পৃষ্ঠা। লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে তার ৯ বছর সময় লেগেছিল। লেখক জীবনের প্রথম ৯ বছর তার লেখা থেকে আয় হয়েছিল আমাদের টাকার হিসেবে মাত্র ৩০০ টাকা। কিন্তু তার বিশ্বাসই তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। লেখক হিসেবেই পরবর্তী জীবনে উপার্জন করেছেন লাখ লাখ টাকা। তার চাইতেও বড় কথা বিশ্বব্যাপী শাশ্বতকালের খ্যাতি তার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার।

চার. মার্কিন ধনকুবের এন্ড্রু কার্নেগীর কথাই ধরুন। তিনি তার সময়ের সবচেয়ে বড় ধনকুবের ছিলেন। শুধু কি তাই, তার প্রেরণায় আমেরিকাতে হাজার হাজার বিলােনিয়ার তৈরি হয়েছে। কিন্তু এক সময় তিনি ছিলেন বস্তির ছেলে। ১২ বছর যখন তার বয়স, তার পােশাক এত মলিন ও নোংরা ছিল যে, দারােয়ান তাকে পাবলিক পার্কে প্রবেশ করতে দেয়নি। তখন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে একদিন তার টাকা হবে সেদিন তিনি এই পার্কটি কিনে ফেলবেন। তিনি সে পার্কটি কিনেছিলেন। পার্কে নতুন একটি সাইনবাের্ড লাগিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, আজ থেকে দিনে বা রাতে যে কোন সময়ে যে কোন মানুষ যে কোন পােশাকে এই পার্কে প্রবেশ করতে পারবে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার সকল সম্পদ জনহিতকর কাজে দান করে যান।

পাঁচ. মনের শক্তি দিয়ে মানুষ যে রােগ ও দৈহিক পঙ্গুত্বকেও অস্বীকার করতে পারে তার প্রমাণ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। লিখতে পারেন না, কথা বলতে পারেন না, দুরারােগ্য মােটর নিউরন ব্যাধিতে ক্রমান্বয়ে নিঃশেষ হওয়ার পথে এগিয়ে যেতেও তিনি বিশেষভাবে তৈরি কম্পিউটারের সহযােগিতায় রচনা করেছেন বর্তমান যুগের বিজ্ঞান জগতের সবচেয়ে আলােড়ন সৃষ্টিকারী গ্রন্থ ‘এ ব্রীফ হিস্ট্রি অব টাইম’। যেটি বেষ্ট সেলারের আখ্যা পেয়েছে ইতােমধ্যেই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ কপি। হুইল চেয়ার থেকে তুলে যাকে বিছানায় নিতে হয়, তিনি অবলীলায় মহাবিশ্ব পরিভ্রমণ করে উপহার দিয়েছেন বিশ্ব সৃষ্টির নতুন তত্ত্ব। আইনস্টাইনের পর তাকেই মনে করা হচ্ছে বিশ্বের প্রধান বিজ্ঞানী।

ছয়. কাফেরদের অত্যাচারে তখন মুসলমানেরা পবিত্র কাবার পাশেও দাঁড়াতে পারে না। এত অত্যাচার আর কতদিন সহ্য করা যায়। রাসূল (সা) কে গিয়ে এক সাহাবী কাতর কণ্ঠে বললেন “আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে?” বিশ্বাসে বলীয়ান রাসূল (সা) রাগম্বিত হয়ে গেলেন অনেক কথার পর বললেন, “অবশ্যই ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে এবং তখন সমগ্র আরব ভূভাগে মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার মতাে কেউ থাকবে না।” মাত্র পনের বছর পরেই তার ইন্তেকালের সময় তার ইসলামী রাষ্ট্রের আয়তন হয়েছিল প্রায় ত্রিশ লক্ষ বর্গ কিলােমিটার।

©felicia-buitenwerf

নিউরাে সাইন্টিস্টরা বলেন, মানব মস্তিষ্ক সর্বাধুনিক কম্পিউটারের চেয়েও কমপক্ষে দশ লক্ষ গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। তাই দামের হিসাব করলে একটি কম্পিউটারের দাম যদি ৫০ হাজার টাকা হয় তাহলে আমাদের একেকজনের ব্রেনের দাম দাঁড়াচ্ছে কমপক্ষে ৫,০০০ কোটি টাকা। আমরা সব সময় কমপক্ষে পাঁচহাজার কোটি টাকার মূল্যের সম্পদ নিজ ঘাড়ের উপরই বয়ে বেড়াচ্ছি। এরপরও যদি আমি আপনি গরিব থাকি তাহলে আমাদের দারিদ্র্যের কারণ অভাব নয়, স্বভাব। কারণ আমরা ব্রেনের মাত্র ৪ থেকে ৫ শতাংশ ক্ষমতার ব্যবহার করছি। আর প্রতিভাবানরা- সফল ব্যক্তিরা এই ব্রেনের ক্ষমতাই ব্যবহার করছেন। আপনিও যদি ব্রেনের এই ক্ষমতাকে এদের মত ব্যবহার করতে পারেন তাহলে নিঃসন্দেহে সফল ও খ্যাতিমান হতে পারবেন। তাহলে চলুন না আজ থেকেই লেগে পড়ি। স্বপ্ন দেখুন, স্বপ্ন সত্যি করার জন্য পরিশ্রম শুরু করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI