ক্যারিয়ার আত্মউন্নয়ন

ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়ার ৫ টি প্রধান কারণ

ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ

মানুষ ভুল করবেই, কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। ভুল পুরোপুরি অ্যাভয়েড করা কখনও সম্ভব হবে না, আপনি একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে চেষ্টা করবেন ভুল যত কম করা যায়। কারণ যখন আপনি একজন উদ্যোক্তা, যখন আপনি আপনার বিজনেস দাঁড় করাচ্ছেন, তখন দুই একটা ছোট্ট ভুল কিন্তু ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে ,এমন ভয়াবহ বিপর্যয় হয়তো আপনি তখন বুঝবেন না। যখন ভুলটা হবে তখন আপনার কাছে এটা তেমন বড় কোন কিছু মনে নাও হতে পারে, কিন্তু লং ট্রামে এগুলা আপনার অনেক ক্ষতি করবে।

আজকে আমি আপনাদের সাথে কিছু বিজনেস মিসটেক নিয়ে আলোচনা করবো, যে ভুলগুলো সবথেকে বেশি হয় এবং সবার আগে এগুলো অ্যাভয়েড করা উচিত। নতুন যারা ব্যবসা দাঁড় করাচ্ছে, অথবা যারা ব্যবসা কিভাবে দাঁড় করানো যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করছেন তাদের মধ্যে এই ব্যাপারটা খুব কমন এবং আমি মোটামুটি ভাবে শিওর আপনারা যারা এই আর্টিকেল পড়ছেন তাদের মধ্যেও অনেকেই আছেন, যারা এধরণের ভুল গুলো করে ফেলতে পারেন।

চলুন প্রাথমিক ভুলগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক,

একা সব কিছু করা

একা সব কিছু করা

আমার মনে হচ্ছে এই ব্যাপারটা একটা উদাহরন দিয়ে বুঝালে আপনাদের বুঝতে সহজ হবে। মনে করেন আপনি একটি কাপড়ের দোকান দিবেন, একটু চিন্তা করেন কাপড়ের দোকান দিতে কি কি লাগে, প্রথমে একটা ঘর লাগবে ঘর বানাইতে ইট,বালু, সিমেন্ট ইত্যাদি লাগবে তারপর হচ্ছে ঘরের রং করাতে হবে, দোকানের ভিতর ইন্টেরিয়র ডিজাইন করানো লাগবে, চেয়ার টেবিল কিনতে হবে ইত্যাদি। এখন ধরেন আপনি যদি এক বছর সময় দেন আপনি ঘর বানানো থেকে শুরু করে যাবতীয় যা কিছু লাগে এগুলোতে মোটামুটি একটা ধারণা নিতে পারবেন, হয়তো আপনার সময় একটু বেশি বা কম লাগতে পারে কিন্তু কোনটাই এমন বিশাল জটিল কিছু না যে আপনি একেবারেই করতে পারবেন না। এখন আপনি একটু চিন্তা করেন আপনার মূল টার্গেটটা কি, আপনার মূল টার্গেট হচ্ছে ব্যবসা করা , আপনার মূল টার্গেট এটা হওয়া কখনই উচিত হবে না যে কিভাবে দোকান বানাতে হয় কিভাবে ইন্টেরিয়র ডিজাইন করতে হয় কিভাবে চেয়ার-টেবিল সাজাতে হয় এগুলো নিয়ে চিন্তা করা। আপনি যদি চিন্তা করেন সবকিছু আপনি একা একাই করবেন আলটিমেটলি আপনার ব্যবসাটাই করা হচ্ছে না । এখন আপনি মনে মনে চিন্তা করতে পারেন যে আমি এরকম কথা কেন লিখছি , আপনি তো আর কাপড়ের দোকান করবেন না, আপনি করবেন অনলাইনে বিজনেস,ফ্রিল্যান্সিং , ব্লগ সাইট বানানো , অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি । আপনি যদি একটু চিন্তা করেন দেখবেন কনসেপ্টটা কিন্তু একই । ধরেন আপনি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট বানাচ্ছেন , এখন ব্লগ ওয়েবসাইট বানাতে কি কি লাগে? একটা ওয়েবসাইট ডিজাইন করা লাগে, লোগো লাগে,কন্টেন্ট লাগে , এসইও করা লাগে , ব্লগ মার্কেটিং করতে হয় ।এখন আপনি যদি চিন্তা করেন সবকিছু আপনি একাই করবেন তাহলে কি হচ্ছে ব্যাপারটা ! ব্লগ থেকে আপনি যে যে উপায় ইনকাম করবেন চিন্তা করছিলেন সেটা থেকে কিন্তু আপনি অনেক দূর চলে যাচ্ছেন।নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আপনার করা উচিত, যে ডিজা্ইনে ভাল তাকে দিয়ে ডিজাইন করানো যে লোগোতে ভাল তাকে দিয়ে লোগো ডিজাইন করানো, যে ভাল কনটেন্ট লিখতে পারে তাকে দিয়ে কনটেন্ট লেখানো,যে ভালো মার্কেটিং করতে পারে তাকে দিয়ে মার্কেটিং করানো ।এতে করে আপনার সুবিধা হবে আপনি সবগুলো বিষয়ে মনিটরিং করতে পারবেন এবং যে বিষয়টাতে আপনার মনে হবে যে আরেকটু বেশি এফোর্ড দেয়া দরকার ওই বিষয়ে আরো বেশি এফোর্ড দিয়ে আপনার একচুয়াল ইনকামটা করে নিতে পারবেন ।এই ব্যাপারটায় ঠিক হয়তো আপনার হিউজ বাজেট নাও থাকতে পারে কিন্তু আপনাকে একটু চিন্তা করতে হবে প্রত্যেকে যখন ব্যবসা শুরু করে একটা নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে শুরু করে ।এই ক্ষেত্রে আমি আপনাকে যে সাজেশন দিব , সেটা হচ্ছে আপনি অন্য কোনভাবে আপনার টাকা ম্যানেজ করার চেষ্টা করুন । সেইটা হতে পারে আপনার রেগুলার ব্যবসা ,হতে পারে চাকরি, অথবা টিউশনির টাকা ।কারণ আপনাকে বুঝতে হবে আপনি আপনার স্বপ্নের জন্য কাজ করছেন , আপনি আপনার স্বপ্নের ব্যবসাটা দাঁড় করানোর জন্য কাজ করছেন ,একটু কষ্ট একটু ত্যাগ তো স্বীকার করতেই হবে/পারেন।

খুব বেশি চিন্তা করা

খুব বেশি চিন্তা করা

অনেকে আছে যারা অনেকদিন থেকে ব্যবসার করার কথা চিন্তা করে, অনেক দিন থেকে ব্যবসার প্ল্যান সাজায় । প্ল্যান করা ভালো জিনিস কিন্তু আপনি যদি প্ল্যানিংয়ে নিমজ্জিত হয়ে যান, শুধু প্ল্যানই করে গেলেন আলটিমেটলি কোন কাজ করলেন না ,তাহলে কিন্তু আপনার ঐ ব্যবসা কখনোই দাঁড়াবে না । এই ব্যাপারটা আপনাকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে , কারণ এই ব্যাপারটা ব্যবসা শুরু করার পরেও হতে পারে । একটা উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করছি , ধরেন আপনি একটি ব্লগ সাইট শুরু করেছেন এবং আপনি ব্লগ সাইটের জন্য কঠিনভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা শুরু করেছেন , কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে করতে আপনি ছয় মাস সময় নষ্ট করে ফেলেছেন। ঠিক একই সময়ে আপনার কম্পিটিটর চিন্তা করলো সেও একটা ব্লগ সাইট তৈরি করবে এবং সে আপনার মতো কিওয়ার্ড রিসার্চ এ এত লং সময় ব্যয় না করে মোটামুটি একটা রিসার্চ করে লেখালেখি শুরু করে দিয়েছে এবং কন্টিনিউয়াসলি তার ব্লগ সাইটে পাবলিশ করছে । এখন আপনি চিন্তা করুন এই 2 জনের ভিতর সফল হওয়ার সম্ভাবনা কার বেশি, ওভার থিংকিং খুব খারাপ একটা জিনিস, যে অনেক চিন্তা করে, নট নেসেসারি যে তার ব্যবসায় খুব ভালো চলবে ,প্রকৃতপক্ষে যে বেশি একশন নেয় এবং মোটামুটি লেভেলের চিন্তা করে তার ব্যবসা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
মনে রাখবেন “Perfection is the enemy of progress.”

পুরনো ক্লায়েন্টকে ধরে না রাখা

পুরনো ক্লায়েন্টকে ধরে না রাখা

যারা নতুন উদ্যোক্তা ব্যবসা মাত্র শুরু করছেন অথবা করার চিন্তা করছেন আপনারা হয়তো এই সমস্যাটার সম্মুক্ষিন এখনই নাও হতে পারেন তবে ভবিষ্যতে যেন সাবধান থাকতে পারেন যেন এই ভুলটা না করেন সে জন্যই এই বিষয়টা নিয়ে লেখা । একটা নতুন ক্লায়েন্ট পাওয়া একটা পুরনো ক্লায়েন্টকে ধরে রাখা থেকে অনেক কষ্টকর, সাধারণত নতুন ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য পাঁচগুণ বেশি কষ্ট করতে হয় পুরনো ক্লায়েন্ট রেখে দেয়ার থেকে, মনে করেন আপনার যদি ফাহিম নামে কোন ক্লায়েন্ট থাকে আপনি যদি তাকে একটু কষ্ট করে রেখে দিতে পারেন ,সেটা দেলোয়ার নামে অন্য একটা ক্লায়েন্টকে পাঁচ গুণ কষ্ট করে আনার থেকে অনেক ভালো এবং সহজ । কিন্তু আমরা দেলোয়ার কে আনার জন্য যত কষ্ট করি ফাহিম কে রেখে দেয়ার জন্য ততটা কষ্ট করিনা। তার কারণ দেলোয়ার কে আনাটা অনেক বেশি এক্সাইটিং । নতুন একটা ক্লায়েন্ট পাচ্ছি অনেক মার্কেটিং হচ্ছে মার্কেটিং করে নতুন ক্লায়েন্ট আনবো নতুন ক্লায়েন্ট আনার জন্য মার্কেটিং প্যানেল সাজাবো এই করবো সেই করবো এ ব্যাপার গুলো অনেক এক্সাইটিং এই ব্যাপার গুলু নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে আমাদের ভালো লাগে । এই ব্যপারগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে আমাদের আরাম লাগে । আমাদের মনে হয় যে আমরা অনেক কিছু করে ফেলছি , আমরা অনেক সময় নতুন ক্লায়েন্ট পাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বিজ্ঞাপন দেই কিন্তু আমরা আমাদের পুরনো ক্লায়েন্ট ধরে রাখার জন্য অনেক সময় তেমন কিছুই করি না। আপনাকে সব সময় মনে রাখতে হবে ক্লায়েন্টকে ধরে রাখার সহজ নতুন ক্লায়েন্ট আনা থেকে।

অনেক কিছু একসাথে করার চেষ্টা করা

অনেক কিছু একসাথে করার চেষ্টা করা

মনে করেন একই সাথে আপনি ওয়েবসাইট ডিজাইনার , লোগো ডিজাইনার , এসইও এক্সপার্ট , কনটেন্ট রাইটার ,অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার । আপনি একটু চিন্তা করে দেখেন এত সব কিছুতে আপনি যদি একসাথে সময় দিতে যান আলটিমেটলি কোন সেক্টরে আপনি ততটুকু সময় দিতে পারবেন না যতটুকু সময় আপনার ওই সেক্টরে দেয়া দরকার । আপনি যদি একজন নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন তাহলে একটার বেশী ইন্ডাস্ট্রিতে একসাথে সময় দেয়াটা কখনোই ভালো আইডিয়া হবে না । আপনি একসাথে সবকিছু শুরু না করে একটা একটা করে শুরু করুন ,আপনার কাছে যখন মনে হবে একটা বিজনেস একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন তখন আপনি অন্য আরেকটা শুরু করতে পারেন ।ঠিক একইভাবে আপনি যখন সেকেন্ড বিজনেস একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবেন ,যখন আপনার কাছে মনে হবে আপনি সেকেন্ড বিজনেস এ আগের মত সময় না দিলেও এই ব্যবসাটা ধসে পড়ে যাবে না তখন আপনি তৃতীয় টা শুরু করতে পারেন এবং তারপর আপনি এভাবে আস্তে আস্তে আগাতে থাকবেন। Doing too many things at once is not a good idea.

বিজনেস থেকে কুইট করা

বিজনেস থেকে কুইট করা

উদ্যোক্তাদের জীবন কিন্তু খুব সহজ না, উদ্যোক্তা জীবন বেশ কষ্টের জীবন বেশ hard-working একটা জীবন। অনেক কঠোর শ্রম দিতে হয় । এবং এটা লোনলি একটা জব ,আপনি উদ্যোক্তা হিসেবে যখন একা একটি ব্যবসা শুরু করছেন তখন আপনার ব্যবসা-বাণিজ্য রিলেটেড সকল চিন্তা ভাবনা আপনি একাই করছেন ।যদি আপনারা দুই-তিনজন মিলে একটা কোম্পানি দাঁড় করাচ্ছেন তাহলে সেম চিন্তাগুলা দুই-তিনজন মিলে করছেন , কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেটা হয় ,একাই আপনি কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা করছেন আর কেউই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করছে না সে ক্ষেত্রে হয় কি আপনার আইডিয়া বিকশিত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে । কারণ আপনি যা চিন্তাভাবনা করছেন তা ঠিক নাকি ভুল এইগুলা অন্য কারো সাথে শেয়ার করাটাও অনেক টাফ ।এসব ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা অলমোস্ট কুইট স্টেজে চলে যায় । তারা মনে করে আমি যা করছি তা হয়তো ঠিক না আগের টাতেই ফেরত যাই । আপনি আপনার আশেপাশে তাকালেই দেখবেন এরকম অনেক মানুষ এই আছে যারা একটি ওয়েবসাইট শুরু করেছে কিন্তু সেটা কন্টিনিও করে নাই , একটি ফেসবুক পেজ শুরু করেছে কিন্তু সেটা কন্টিনিও করে নাই , একটি ব্যবসা শুরু করেছে কিন্তু সেটা কন্টিনিউ করে নাই ।এইরকম মানুষগুলো যদি একটু কষ্ট করে তাদের ওয়েবসাইট , তাদের পেজ , তাদের ব্যবসা টা আরো ২-৩ বছর কন্টিনিউ করত তাহলে তাদের লাইফটা পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে যেত । আপনাকে একটা বিষয় বুঝতে হবে উদ্যোক্তা জীবনটা লিনিয়ার গ্রাফ হয়না উদ্যোক্তা জীবনটা হয় এক্সপোনেনশিয়াল গ্রাফ । মানে হল এমনটা নয় যে আপনি আজকে 5 টাকা ইনকাম করলেন কালকে 10 টাকা এর পরের দিন 20 টাকা , এরকম হয়না উদ্যোক্তা জীবন।উদ্যোক্তা জীবন হলো আপনি প্রথম এক বছর জিরো টাকা দ্বিতীয় বছর 10 টাকা তৃতীয় বছরে গিয়ে 1000 টাকা এরকম হয় । জিনিসটা এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ হয় সুতরাং আপনাকে কষ্ট করে তৃতীয় বছর পর্যন্ত যেতে হবে ।প্রথম বছর আপনি যেরকম কষ্ট করেছেন দ্বিতীয় বছর তৃতীয় বছর আপনাকে সেই কষ্টটাই করে যেতে হবে । যদি ও আপনার রিটার্ন না ও আসে । কুইট করা উদ্যোক্তাদের একটি রোগ এবং এটি নতুন উদ্যোক্তাদের মাঝে অনেক বেশি দেখা যায়।

উপরের এই বিজনেস মিসটেক গুলো যদি আপনি এভোয়েড করতে পারেন আপনার যেই ক্যারিয়ারই হোক, হতে পারে আপনি একজন উদ্যোক্তা, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার ,চাকরিজীবী আপনি যেই হোন না কেন আপনি যদি এই প্রবলেম গুলা মাথায় রাখেন ,আপনি ভুল গুলো এড়িয়ে গিয়ে সফল হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI