ক্যারিয়ার

ব্যবসা নাকি চাকরি কোনটি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করবেন

ব্যবসা নাকি চাকরি

একজন প্রফেসর তার স্টুডেন্টদের প্রশ্ন করলেন, “বল রিস্ক কাকে বলে?” একজন স্টুডেন্ট বললো “রিস্ক মানে উদ্যোক্তা হওয়া, ব্যবসা করা” এবং তার সাথে তার ক্লাসের সব ছেলে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল । এবং আমি শিওর আপনাদের মাঝেও অনেক লোক এতে সম্মতি জানাবেন কারণ আমরা মোটামুটি এইরকম একটা পরিবেশের ভিতরে বড় হয়েছি যেখানে ব্যবসা বলতেই আমাদের মাথায় সবথেকে বেশি আসে রিস্ক। একটু পরেই প্রফেসর এমন একটি কথা বলেছেন যা শোনার পর সব স্টুডেন্টস চিন্তায় পড়ে গেল । প্রফেসর একজন উদ্যোক্তার উদাহরণ দিয়ে তার চিন্তাভাবনা বাচ্চাদের সামনে তুলে ধরলেন যখন ওই উদ্যোক্তাকে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল যে রিস্ক কাকে বলে । তখন ঐ উদ্যোক্তা বলেছিলেন রিস্ক তাকে বলে যখন আপনি শুধুমাত্র একটি ইনকাম এর উপর নির্ভর করে চলবেন । বলতে পারেন যারা চাকরি করে তারা অনেক বেশি রিস্ক এ থাকেন ব্যবসায়ীদের তুলনায় । কেননা ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা সাধারণত নিজের জন্য অনেক ইনকাম সোর্স বানিয়ে রাখে যেখানে জব করা মানুষের ইনকাম শুধুমাত্র একটি হয়ে থাকে। মানে চাকরিজীবী যতক্ষণ কাজ করে ততক্ষণ সে টাকা আয় করতে পারেন ।আর যদি কোনো কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায় তখন টাকা আসা বন্ধ হয়ে যায়। সত্যি কথা বলতে এর থেকে ভয়ঙ্কর বিষয় আর কি হতে পারে! এর বাস্তব উদাহরণ হচ্ছে একটু খেয়াল করলেই দেখবেন করোনা ভাইরাস এর সময় কত মানুষ তাদের চাকরি হারিয়েছেন যারা চাকরির উপর নির্ভর করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতেন। বেশিরভাগ মানুষ অনেক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তাদের জীবন পার করেছেন । এই দিক থেকে একজন ব্যবসায়ী একজন উদ্যোক্তা যিনি নিজেদের জন্য অনেকগুলো ইনকাম সোর্স বানিয়ে রেখেছিলেন তারা চাকরিজীবীদের থেকে অনেক ভালো জীবনযাপন করতে পারছেন । ইন্টারনেটে ঘুরতে ঘুরতে একটা ব্লগে এই লেখাটা পড়লাম পড়ে আমার কাছে অসম্ভব ভালো লেগেছে লেখাটা এরকম ছিল “একজন বড় কর্মচারী হওয়া থেকে একজন ছোট মালিক হওয়া অনেক ভালো ,কারণ চাকরি করে আপনি জীবনযাপন করতে পারবেন আর যদি শখ পূরণ করতে চান তাহলে ব্যবসা করুন ” এই কথা আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করি । এজন্যই আপনি দেখবেন আমাদের ব্লগে ব্যবসা সংক্রান্ত কথাবার্তা বেশি লেখা হয় কারন আমরা চাই মানুষ ব্যবসা করুক এবং উদ্যোক্তা হোক। কিন্তু আপনাকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে ব্যবসা করা খুব সহজ কিছু না। ব্যাপারটা কোনোভাবেই এত সহজ নয় যে আপনি গেলেন , দেখলেন আর জয় করে ফেলেন। আবার সব চাকরিও কিন্তু খারাপ নয় । চাকরি এবং ব্যবসার দুইটার ভিতরে কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে আপনাকে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কখন আপনাকে কোনটা করতে হবে । আমি আপনাদের সাথে ব্যবসা করার কিছু সুবিধা নিয়ে আলোচনা করব আশা করছি এই ব্যাপার গুলো আপনাকে একজন ব্যবসায়ী একজন উদ্যোক্তা হতে উৎসাহ প্রদান করবে।

স্বাধীনতা

যদি আমি কোন মানুষকে বলি আমি তোমাকে এত টাকা দিব আসো তুমি আমার কাজের লোক হয়ে যাও । হতে পারে অনেকের কাছে আমার এই কথাটা খারাপ লাগবে হতে পারে অনেকে আমাকে বকাবকি করবে । কিন্তু অনেক মানুষ আমাকে তেমন কিছুই বলবেনা যদি আমি কথাটা একটু ঘুরিয়ে বলি । যদি বলি আমার কাছে একটা ভালো চাকরি আছে আমি আপনাকে প্রতি মাসে এত টাকা বেতন দিব আপনি কি আমাদের এখানে চাকরি করবেন। এই কথায় কেউ খারাপ কিছু মনে করবে না । হতে পারে অনেকেই চাকরিতে জয়েন করতে চাইবেন। কেন ? কারণ আপনি যদি চাকর বলে কাউকে কাজ অফার করেন তাহলে এটা শুনতে তার কাছে ভালো লাগবে না । কিন্তু আপনি যদি চাকরি বলে কাজ অফার করেন তাহলে সে খুব সহজেই মেনে যাবে । যদি একটু চিন্তা করে দেখেন দুটাই কথা একি অর্থ বহন করে ।ভেবে দেখুন ব্যবসা করার সবথেকে বড় সুবিধা হচ্ছে এতে আপনি আপনার বস , আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন আপনাকে কি কাজ করতে হবে কি কাজ করতে হবে না । কেউ আপনার উপরে কথা বলার থাকবে না । আমার মতে এটা অনেক বড় একটা কারণ মানুষকে চাকরি করার পরিবর্তে নিজের ব্যবসা শুরু করার । চাকরিতে আপনার স্বাধীনতা মালিকের হাতে থাকে যেখানে ব্যবসায় আপনি নিজেই নিজের মালিক ।আপনার নিজের কাছে নিজের সব কাজ ইচ্ছেমতো করার স্বাধীনতা থাকবে। এজন্যই এক নাম্বার সুবিধা হচ্ছে স্বাধীনতা। ব্যবসা আপনাকে স্বাধীনতা দেয়।চাকরি আপনাকে বেঁধে রাখে কয়েদীর মত।

লাইফ স্টাইল

অনেক লোকের কাছে ফর্মাল ড্রেস পরাটা পছন্দের না প্রতিদিন টাই পড়াটা অনেকের কাছে বড় বিরক্তির কারণ । কিন্তু তার পরেও তাকে এটা প্রতিদিন পরতে হয় কারণ তার চাকরিতে এটা বাধ্যতামূলক । দেখুন ব্যবসায় আপনার লাইফ স্টাইল আপনার হাতে । আপনি পছন্দ করতে পারেন আপনাকে কখন কি কাজ করতে হবে , কতক্ষণ কাজ করতে হবে , আপনি আপনার ফ্যামিলিকে হিসেব অনুযায়ী সময় দিতে ছুটি নিতে পারেন বস এর অনুমতি ছাড়াই । আপনি যদি অনলাইনে ব্যবসা করেন তাহলে আরো অনেক ভালো তখন আপনি ঘরে বসে বসে কাজ করতে পারেন । এজন্যই দুই নাম্বার সুবিধা হচ্ছে যা প্রথম সুবিধার খুব কাছাকাছি তা হচ্ছে ব্যবসায় আপনি আপনার নিজের লাইফ স্টাইল নিজেই ঠিক করতে পারবেন যেভাবে আপনি চান।

তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়া

দ্য মিলিয়নিয়ার ফার্স্ট লেন বইয়ের লেখক বলেছিলেন আজকের দিনে তাড়াতাড়ি বড়লোক হওয়ার সবথেকে বেস্ট অপশন হচ্ছে উদ্যোক্তা হওয়া ।কেন? কারণ একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উন্নতি করার অনেক রাস্তা খুঁজে পাবেন। যদি আপনি অতিরিক্ত কাজ করেন তাহলে ওই জিনিসটা আপনার উন্নতিতে আরো বেশি সহযোগিতা করবে । অন্যদিকে আপনি চাকরিতে যত পরিশ্রম করুন না কেন আপনি একটা লিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন । এজন্যই তিন নাম্বার সুবিধা হচ্ছে আপনি ব্যবসা করে খুব তাড়াতাড়ি উন্নতি করতে পারবেন । যা চাকরিতে অনেক সময় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে যায় । ব্যবসায় আপনার কাছে অনেক রাস্তা থাকে উন্নতি করার যেমন আপনি যদি বেশি পরিশ্রম করেন অথবা এমন একটা সিস্টেম বিল্ড করে দিতে পারেন যাতে অন্য মানুষ কে দিয়ে খুব সহজে কাজ করিয়ে নেয়া যায়। তাহলে আপনি অনেক বড় বড় কাজ অনেক কম সময়ে শেষ করতে পারবেন। যার কারণে আপনি প্রতি সপ্তাহে , প্রতিমাসে, প্রতি বছরে উন্নতি দেখতে পাবেন । অন্যদিকে চাকরিতে আপনি যতই পরিশ্রম করেন না কেন আপনি একজন ব্যবসায়ীর মত ইনকাম করতে পারবেন না । এটা হচ্ছে ব্যবসা করার তিন নাম্বার সুবিধা ।

নিজের উন্নতি

আমার এক পরিচিত ব্যক্তি যিনি চাকরি করেন রিসেন্টলি উনি অনেক পরিশ্রম করে ওনার বসের জন্য 10 লাখেরও বেশি টাকা প্রফিট করে দিয়েছেন তাও আবার দুই মাসের ভিতরে । কিন্তু তারপরেও উনি ওই দুই মাসে তত টাকা বেতন পেয়েছেন যা তিনি প্রতি মাসে পেয়ে থাকেন । যদি এই পরিশ্রম উনি নিজের ব্যবসার জন্য করতেন তাহলে পুরা টাকাটা উনি নিজেই পেতেন । এজন্য ব্যবসায়ের 4 নাম্বার সুবিধা হচ্ছে এখানে আপনার পরিশ্রমের ফল আপনি নিজেই ভোগ করবেন।

অর্থ সাশ্রয়

রবার্ট কিয়োসাকি নিজের বই রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড এ বলেছেন কিভাবে উনি বিজনেস অর্গানাইজেশন কে ব্যবহার করে অনেক ট্যাক্স বাঁচান।যিনি চাকরি করেন সাধারণত তিনি বেতনের পুরো টাকার ট্যাক্স দিয়ে থাকেন।ট্যাক্স দেয়ার পরে থাকা টাকা দিয়ে নিজের জীবন পরিচালনা করেন । অন্যদিকে একজন ব্যবসায়ী নিজের প্রয়োজনে খরচ করার পরে যা থাকে তার উপরে ট্যাক্স দিয়ে থাকেন।

শিক্ষার সুযোগ

চাকরিতে শিক্ষার সুযোগ অনেক কম যদি আমরা ব্যবসার সাথে কম্পেয়ার করি। একজন চাকরিজীবী ততটুকুই কাজ করে যে কাজের জন্য তাকে নিয়োগ করা হয়েছে। এতে আপনার জ্ঞান বাড়ে তবে একটা সীমিত গন্ডির বিতরে । অন্যদিকে ব্যবসায় আপনাকে অনেক ভিন্ন ভিন্ন জিনিষ সামলাতে হয় যাতে করে আলাদা আলাদা ফিল্ডে জ্ঞান বৃদ্ধি পায় আর ওই নলেজ ভিন্ন ভিন্ন অপরচুনিটি বুঝতে সহযোগিতা করে এবং যা দিয়ে একজন ব্যবসায়ী ভিন্ন ভিন্ন অনেক কিছু ট্রাই করতে পারেন।যাতে করে তার বুঝতে সুবিধা হয়ে কোন জিনিসটাতে বেশি সময় দিয়ে বেশি আয় করা সম্ভব। স্টিভ জবস বলেছেন আপনার কাজ আপনার জীবনের অনেক বড় একটি অংশ । আপনি অনেক বেশি আয় করতে পারবেন যদি আপনি খুঁজে বের করতে পারেন কোন কাজটি করতে আপনি মন থেকে ভালবাসেন।

সাধারণত চাকরিতে নিজের ভাললাগার কাজটা খুঁজে পাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয়ে হয় না । কিন্তু ব্যবসায় আপনি ওই লিমিট ওভারকাম করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI