ইতিহাস

মানুষের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

মানুষের উৎপত্তি

অনেকদিন থেকেই ভাবছি মানুষের বিবর্তন নিয়ে কিছু লিখবো ফাইনালি আজকে শুরু করে দিলাম সম্ভবত এই লেখার কয়েকটা পার্ট থাকতে পারে আশা করি আপনারা পড়ে মজা পাবেন এবং সত্যিকারের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন, আজকের লেখায় আমি আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করব মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে এবং সর্ব প্রথম আফ্রিকাতে মানুষের আবির্ভাব কিভাবে হয়েছিল এবং পুরাতত্ত্ববিদরা ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নেয়ার জন্য কিভাবে মানুষের হাড্ডি এবং পাথর নিয়ে গবেষণা করেছিল | পুরাতত্ত্ববিদ বিজ্ঞানীরা আদি মানবদের জীবনধারণ সম্পর্কে জানার জন্য অনেক গবেষণা চালিয়েছিল তারা এটা জানার জন্য চেষ্টা করছিল যে তারা কি রকম ঘরে থাকতো, তারা কিভাবে গাছের লতা ,পাতা এবং জীবজন্তু শিকার করে নিজেদের ভরণ পোষণ করত এবং তারা কিভাবে নিজেদের ভাব বিনিময় করত , আপনি এ আর্টিকেল পড়লে জানতে পারবেন মানুষ সৃষ্ট আগুন এবং ভাষা কবে এবং কিভাবে শুরু হয়েছিল আপনি আরও জানতে পারবেন বর্তমানে যারা গাছের ফল মূল এবং জীবজন্তু স্বীকার করে জীবন নির্ধারণ করছে তাদের উপরে রিচার্জ করে আদিম মানবের সম্পর্কে জানা যাবে কিনা ।

মানুষ বিবর্তনের ইতিহাস

মানবদেহ সম্পর্কে তথ্য এবং মানবদেহের অঙ্গসমূহ সম্পর্কে জানতে এই লেখাটি পড়ুন

মানুষ কখন আর কিভাবে নিজের অস্তিত্বে এসেছে এটা বলা অনেক কঠিন ,কিন্তু এটা মনে করা হয় যে আনুমানিক ৫৬ লক্ষ বছর আগে এমন এক প্রজাতির উদ্ভব হয়েছিল যাকে আমরা মানুষ বলতে পারি | এরপরে আদিমানুষের অনেক রূপ পরিবর্তন হয়েছে এবং কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ,আজকে আমরা মানুষকে যেভাবে দেখছি যাকে আমরা আধুনিক মানব বলি এরকম মানুষের জন্ম ১ লক্ষ ৬০ হাজার বছর আগে হয়েছিল এই লম্বা সময় মানুষ অন্যের দ্বারা এবং স্বাভাবিকভাবে ও মারা গিয়েছিল | আদি মানবরা জীবজন্তু স্বীকার করে অথবা গাছের ফলমূল খেয়ে নিজেদের জীবন ধারণ করতো ,ধীরে ধীরে তারা পাথর দিয়ে হাতিয়ার বানাতে শিখে এবং নিজেদের মধ্যে ভাব বিনিময় করতে শিখে যদিও পরে নিজেদের ভরণপোষণের অনেকগুলা মাধ্যম তারা তৈরি করেছিল তবে ফলমূল এবং শিকার করার পদ্ধতি ও চালু ছিল | আজও দুনিয়াতে এরকম কিছু শিকারি সমাজ আছে যাদের আমরা hunter-gatherers সোসাইটি নামে চিনি | যারা শিকার এবং ফলমূল সংগ্রহ করে নিজেদের জীবন ধারণ করে, আর এইজন্যই বিজ্ঞানীদের মনে হয় আজকের এই ধরনের শিকারি সোসাইটির জীবনধারণের বিশ্লেষণ করে আমাদের আদিম মানুষের জীবনধারণ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে ,এখনকার সময়ে আদিম মানুষদের ইতিহাস সম্পর্কে আমরা জানতে পারি আদি মানুষদের জীবাশ্ম ,পাথরের তৈরি অস্ত্র এবং গুহার ভিতরে চিত্রকর্ম দেখে | শুরুতেই বিজ্ঞানীদের আদিম মানুষদের চিত্রকর্ম আঁকা এবং পাথর দিয়ে হাতিয়ার বানানো সম্পর্কে অবিশ্বাস ছিল অনেক গবেষণা করার পর বিজ্ঞানীরা পাথরের তৈরি হাতিয়ার এবং গুহার চিত্রকর্ম আদি মানুষদের বলে স্বীকার করে | মানুষের বিবর্তন ক্রমে ক্রমে হয়েছিল এই কথার সাক্ষী হচ্ছে মানুষদের ওই প্রজাতি স্পিসিস জীবাশ্ম থেকে মিলে যা এখন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে ওদের কিছু বিশেষণ এবং শারীরিক লক্ষণ বিবেচনা করে মানুষ কে ভিন্ন ভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে | জীবাশ্ম সম্পর্কে জানার জন্য বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং আদিম মানুষদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিস বিশ্লেষণ করে বের করে থাকেন , একবার যদি জীবাশ্মের মূল বিষয়টা সম্পর্কে জানা যায় তাহলে মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে জানা এমন কঠিন কিছু থাকেনা , আজ থেকে ২০০ বছর আগে যখন এরকম খোঁজ করা হচ্ছিল তখন অনেক বিজ্ঞানী এটা মানার জন্য তৈরি ছিল না যে খোদাই করে পাওয়া জীবাশ্ম , পাথরের তৈরি হাতিয়ার এবং গুহার দেয়ালে আঁকা চিত্রকর্মের সাথে আদিম মানুষের কোন সম্পর্ক ছিল,

আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে

মানুষের বিবর্তনের কাল ৩৬০ থেকে ২৪০ লক্ষ বছর আগ পর্যন্ত খুজা যায় , একটা সময় ছিল যখন এশিয়া অথবা আফ্রিকায় প্রাইমেট নামক প্রাণের উদ্ভব হয়েছিল , তারপরে আনুমানিক ২৪০ লক্ষ বছর আগে প্রাইমেট শ্রেণীতে একটি প্রজাতির উদ্ভব হয়েছিল যাকে hominid বলা হত। এই প্রজাতিতে বানর ও শামিল ছিল , তারপর অনেক বছর পরে আনুমানিক ৫৬ লক্ষ বছর আগে আমাদের প্রথম hominid প্রাণীর অস্তিত্ব মিলেছিল Hominid Burke hominid উপজাতি থেকে উৎপন্ন হয়েছিল এদের ভিতর অনেক মিল পাওয়া যায় আবার অমিল রয়েছে , hominid দের মস্তিষ্ক Hominoids এর তুলনায় অনেক ছোট হত , Hominoids রা চার পা বিশিষ্ট ছিল , কিন্তু তাদের শরীরের সামনের অংশ মানে সামনের দুইটা পা অনেক নমনীয় হতো এর বিপরীতে hominid সোজা দাঁড়িয়ে দুই পায়ের উপর ভর দিয়ে চলত , এদের হাত বিশেষ রকমের হত যার সাহায্যে তারা হাতিয়ার বানাতে পারত এবং হাতিয়ারের ব্যবহার করতে পারত , দুই প্রজাতির মধ্যে মনে করা হয় hominid এর উদ্ভব আফ্রিকাতে হয়েছিল , এর কারন প্রথমত আফ্রিকার বানরের সাথে অনেক গভীর সম্পর্ক রয়েছে দ্বিতীয়তঃ সবথেকে প্রাচীন hominid এর জীবাশ্ম পূর্ব আফ্রিকা তে পাওয়া গিয়েছিল , এবং তার সময় আনুমানিক ৫৬ লক্ষ বছর আগের মনে করা হয় , এর বিপরীতে আফ্রিকা মহাদেশের বাহিরে পাওয়া জীবাশ্ম ১৮ লক্ষ বছরের অধিক পুরোনো নয়, hominid Hominidae নামক পরিবারের সদস্য ছিল, এই পরিবারের সব রকমের মানুষের সংযোগ ছিল , hominid পরিবারের অনেক বিশেষত ছিল যেমন মস্তিষ্কের বড় আকার। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর বিশেষ ক্ষমতা । দুই পায়ের উপর দাঁড়ানো এবং হাতের বিশেষ ক্ষমতা যা দিয়ে তারা অস্ত্র বানাতে পারত এবং ব্যবহার করতে পারত , Hominido দেরকে অনেক শাখায় বিভাজন করা যায় এই শাখাগুলোকে জিনাস বলে , এই শাখায় Australia Pathik এবং Homo অনেক গুরুত্বপূর্ণ,এই শাখায় অনেক প্রজাতি ছিল । Australopithecus এবং homo এর ভিতরে বড় পার্থক্য হচ্ছে তাদের মাথার আকার, দাঁতের ধরনের ভিতর পাওয়া যায়,Australopithecus এর মাথার আকার Homo এর তুলনায় কিছুটা বড় হয়ে থাকে ,এবং দাঁত ও অনেক বড় হত । বৈজ্ঞানিকরা এই প্রজাতি গুলোর যে নাম দিয়েছিলেন নাম গুলো সাধারনত ল্যাটিন এবং ইউনানী ভাষা দিয়েই তৈরি করা হয়েছে , উদাহরণস্বরূপ Australopithecus এর নাম লেটিন ভাষায় Astral এবং ইউনানী ভাষায় পৃথ্বীকাছ মানে বানরের সাথে সামঞ্জস্য করে দেয়া হয়েছে ,এই নামগুলো এজন্যই দেয়া হয়েছে কেননা মানুষের আদিম রূপ বানরের সাথে অনেক মিল ছিল,যেমন homo এর তুলনায় মস্তিষ্ক অপেক্ষাকৃত ছোট হওয়া ,পিছনের দাঁত বড় হওয়া, এবং হাতের দক্ষতা সীমিত হওয়া, এবং সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে চলার ক্ষমতা অধিক ছিল না ,কেননা সে নিজের অনেক সময় গাছের উপরে থাকত আর এজন্যই গাছের উপরে জীবন ধারন করার জন্য অনেক কিছু মজুদ ছিল,পরে পরে যখন অস্ত্র বানানো এবং পা চালিয়ে দ্রুত চলার উন্নতি হচ্ছিল তখন মানসিক বিকাশ ও হচ্ছিল। আদিম মানুষদের পাওয়া জীবাশ্ম গুলো ভিন্ন-ভিন্ন প্রজাতিতে ভাগ করা হয়েছিল ওই প্রজাতি গুলা কে হাড্ডির উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতিতে ভাগ করা হতো , উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,আদিম মানুষদের কে তাদের মাথার খুলির আকার এবং চামড়ার বিশেষতার উপর নির্ভর করে ভাগ করা হয়েছিল ,এই বিশেষতা পজিটিভ ফিডব্যাক মেকানিজম এর উপর ভিত্তি করে বিকশিত হয়েছিল , উদাহরণস্বরূপ দুই পায়ের উপর দাঁড়িয়ে চলার ক্ষমতার কারণ, হাত বাচ্চা এবং জিনিসপত্র উঠানোর জন্য যথেষ্ট ছিল । আর যখন যখন দুই হাতের ব্যবহারের ধরন বাড়তেছিল তখন তখন দুই পায়ের উপর দাঁড়িয়ে চলার কৌশল ও বাড়তে ছিল,এতে হাত দিয়ে বিভিন্ন কাজ করার লাভ তো হচ্ছিলই সাথে দুই পায়ের উপরের দাঁড়ানোর কারনে শারীরিক শক্তি আগের তুলনায় কম ব্যবহৃত হচ্ছিল ,কিন্তু দৌড়ানোর সময় এর ফল পুরোপুরি উল্টো হয়ে গেল । Le Tuli Tanzania তে পাওয়া hominid এর পায়ের চিহ্ন এবং Hadar Ethiopia থেকে পাওয়া হাড্ডি বিশ্লেষণ করে এটা বুঝে গিয়েছিল যে আদিম মানুষেরা দুই পায়ে ভর দিয়ে চলাফেরা করত । আনুমানিক ২৫ লক্ষ বছর আগে বরফ জমাট বেঁধে যখন পৃথিবীর বড় বড় অংশ বরফে ঢেকে গিয়েছিল তখন জলবায়ুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছিল তাপমাত্রা কম হয়ে যাওয়ার কারণে জঙ্গল কমে গিয়েছিল সমান্তরাল ভূমি বেড়ে গিয়েছিল যার পরিণামে Australopithecus আদিম রূপ যাদের জঙ্গলে থাকার অভ্যাস ছিল ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের জায়গায় তাদের নতুন প্রজাতি এসেছিল যারা ওই পরিবেশে খুব ভালোভাবে থাকতে পারতো । এতে Genus Homo আদিম প্রতিনিধি শামিল ছিল homo ল্যাটিন ভাষার একটি শব্দ যার অর্থ হচ্ছে পুরুষ যদিও এটাতে পুরুষ এবং মহিলা দুটোই শামিল ছিল , বিজ্ঞানীরা Homo কে অনেক প্রজাতিতে ভাগ করেছিল ওই প্রজাতিগুলো কে তাদের বিশেষত অনুযায়ী আলাদা আলাদা নাম দিয়েছিল যেমন homo habilis মানে অস্ত্র বানানোর কারিগর , homo erectus মানে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পায়ের উপর ভর দিয়ে চলা , homo sapiens মানে বুদ্ধিমান মানুষ রূপে ভাগ করা হয়েছিল | কিছু জীবাশ্মের নাম ওই স্থানের উপর নির্ভর করে দেয়া হয়েছিল যা ওই স্থানে সর্বপ্রথম পাওয়া গিয়েছিল যেমন জার্মানির শহর Heidelberg এ পাওয়া যাওয়া জীবাশ্ম কে homo heidelbergensis বলা হয় , নিআন্ডার ঘাঁটিতে পাওয়া যাওয়া জীবাশ্ম কি homo neanderthalensis বলা হয়। এদুটা জীবাশ্ম Homo sapiens প্রজাতির জীবাশ্ম | Heidelberg মানুষ আনুমানিক ৮ লক্ষ বছর আগে অনেক দূরে দূরে বসবাস করত তাদের জীবাশ্ম আফ্রিকা এশিয়া এবং ইউরোপে পাওয়া গিয়েছিল Neanderthals মানুষ আনুমানিক ১ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার বছর আগে ইউরোপ পশ্চিম , পশ্চিম পর্বত আর মধ্য এশিয়ার মধ্যে বসবাস করত , এরা পশ্চিম ইউরোপে আনুমানিক ৩৫ হাজার বছর আগে হঠাৎ বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল সামান্য কিছু Australopithecus এর তুলনায় homo দের মস্তিষ্ক বড় হতো আর দাঁত ছোট হত , ওদের মস্তিষ্ক অনেক বুদ্ধিমান এবং স্মৃতিশক্তি অনেক প্রকট ছিল।

আজকেরে আর্টিকেলে আমরা জানলাম মানুষের বিবর্তন এবং আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ সম্পর্কে সামনের আর্টিকেলে আমরা আধুনিক মানুষ সম্পর্কে জানব এবং এরসাথে আমরা এটাও জানব তারা খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করত, ওদের থাকার জন্য কি কি অবলম্বন ছিল এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ওরা কিভাবে অস্ত্র বানানো,

Reference

2 Comments

  1. আমি ক্লাস ১১ এ পরি আমার মানব প্রজাতির বিবর্তন বাদে ডারউইনের মতবাদ এই নোট টা লগবে

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI