ক্যারিয়ার

ভাইরাল কন্টেন্ট তৈরী করার ৩ টি উপায়

লেখা ভাইরাল করার উপায়

আপনি যদি কোন অলাভজনক অথবা সামাজিক সংস্থার সাথে জড়িত থাকেন তাহলে ও আপনার প্রতিষ্ঠান অথবা সংস্থার প্রচারণার দরকার হবেই |
কিন্তু কখনও কখনও প্রচার করাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে যায়,ভাগ্যক্রমে আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার কল্লানে প্রচার প্রচারণা আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে,সম্প্রতি একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে ৯৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তরুণ অনলাইনে একটি ব্র্যান্ড কে অনুসরণ করে,অনলাইনে ভাইরাল হওয়া টা অনেক ঝামেলার তবে কয়েকটি সিক্রেট অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজেই সবার কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন,

টার্গেটেড অডিয়েন্স নির্ধারণ করুন

টার্গেটেড অডিয়েন্স

আপনার অডিয়েন্সের প্রত্যাশা অনুযায়ী লিখতে পারাটাই হচ্ছে আপনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি | আপনি ঠিক কি ধরনের অডিয়েন্স টার্গেট করে লিখবেন তা যদি একবার ঠিক করে ফেলতে পারেন তাহলে আপনার কনটেন্ট খুব অল্প সময়ে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স এর কাছে পৌঁছে দেয়া সহজ হয়ে যাবে | একটু খেয়াল করে দেখুন আপনার কম্পিটিটররা ( যারা আপনার মতই একই অডিয়েন্স দের টার্গেট করছে ) কিভাবে লিখছে। আপনি যদি একটু ভালো করে খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন তারা নির্দিষ্ট কিছু শব্দ ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে লিখছে এবং মোটামুটি সবাই তাই করে | কম্পিটিটরদের পোস্ট খেয়াল করুন পোষ্টের নিচে অডিয়েন্স কি ধরনের কমেন্ট করতেছে এগুলো এনালাইসিস করলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স কি চাচ্ছে সে অনুযায়ী লিখতে পারলে খুব অল্প সময়ের ভিতর আপনার লেখা মানুষ গ্রহণ করবে এবং আপনার লেখা মানুষের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যাবে |

আকর্ষণীয় হেডলাইন তৈরি করুন

আকর্ষণীয় হেডলাইন

আপনার হেডলাইন কি সঠিক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে? আপনার হেডলাইন কি আপনার অডিয়েন্সকে আপনার লেখা পড়তে এবং শেয়ার করতে উৎসাহিত করে? লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে হেডলাইন, টার্গেটেড অডিয়েন্স আপনার লেখা শেষ অব্দি পড়বে এরকম একটা হেডলাইন নির্বাচন করুন । অডিয়েন্সের মনের ভিতরে পড়ার কৌতুহল তৈরি করবে এবং পড়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে এমন হেডলাইন নির্বাচন করতে হবে | ইংরেজিতে একটি কথা আছে First impression is the last impression একোর্ডিং টু গুগোল ৮০% অডিয়েন্স আপনার হেডলাইন টি পড়বে যেখানে কেবল ২0% অডিয়েন্স আপনার পুরো লেখাটি পড়বে । হেডলাইন টা এমন ভাবে তৈরি করুন যেন একজন রিডার হেডলাই দেখে বুঝতে পারে লেখায় তার শেখার, বুজার, আনন্দ, ভাল লাগার কিছু আছে এবং এতেই নির্ভর করবে রিডার আপনার পুরো লেখাটা পড়বে কিনা ।

ইমোশনাল কানেকশন তৈরি করুন

ইমোশনাল কানেকশন

আবেগ হলো যা মানুষকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে, কিছু মানুষ আছে যারা ইমোশনাল থাকলে বেশি বেশি খায় আবার কিছু মানুষ আছে যারা অনুপ্রেরণামূলক স্পোর্টস মুভি দেখার পর জিমে যায় | ইমোশনাল কিছু দেখার, সোনার, অথবা পড়ার পর যে অনুভূতি পাওয়া যায় তা আপনার আচরণ কে সরাসরি প্রভাবিত করে | এটির পিছনে বিজ্ঞান আছে

মনোবিজ্ঞানী রবার্ট প্লাচিক তার আবেগ ধারণাটির জন্য পরিচিত, উপরের চিত্রটি আবেগের প্রাথমিক আট টি ধারণা তুলে ধরে ।

  1. আনন্দ
  2. বিশ্বাস
  3. আশঙ্কা
  4. বিস্ময়
  5. বিষণ্ণতা
  6. প্রত্যাশা
  7. বিরক্তি
  8. অশ্রদ্ধা

উপরোক্ত প্রিন্সিপাল গুলো মেনে আপনি যদি কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্সদের সাথে আপনার আরও বেশি কানেক্টেড হওয়ারটা অনেক সহজ হয়ে যাবে | আবেগকে ব্যবহার করে অ্যাকশনে রূপান্তর করার দুর্দান্ত উদাহরণ হিসেবে আপনি নিচের ভিডিওটি একবার দেখতে পারেন ।

ভিডিওটি এই প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল যে কিভাবে প্রাকৃতিক এবং তাজা খাবার কে কৃত্তিম এবং ফরমালিন যুক্ত খাবারের রূপান্তর করা হচ্ছে ভিডিওটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখলে বুঝতে পারবেন উপরে বর্ণিত প্রায় সবগুলো প্রিন্সিপাল টাচ করা হয়েছে |

ভিডিওটি দেখার পর,
  • আপনি ভীত হয়ে উঠতে শুরু করবেন এবং আপনি খাচ্ছেন এমন খাবারের মধ্যে কি আছে তার উপরে বিশ্বাস হারাতে শুরু করবেন ।
  • জোর করে মুরগি মোটাতাজাকরণ এবং গুরু গুলুর করুন দৃশ্য দেখে আপনি একই সাথে ক্রোধ, ঘৃণা,এবং দুঃখ, অনুভব করবেন ।
  • আপনি শেষের দিকে আনন্দিত বোধ করবেন যখন দেখবেন তাজা খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে এবং মানুষ তাজা খাবারের দিকে আস্তে আস্তে ঝুঁকছে

ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আপনি কিভাবে আরো বেশি ইমোশনাল, ভিজুয়াল, শব্দ আপনার কনটেন্ট এ অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন তার দিকে মননিবেশ করুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI