বইয়ের রাজ্য

সময়কে কাজে লাগানোর উপায়

সময়কে কাজে লাগানোর উপায়

মনে করুন অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যে আপনাকে প্রতিদিন একটি বড় এবং জীবিত ব্যাঙ খেতে হবে । আপনাকে এটা খেতেই হবে যে কোন কিছুর মূল্য এখন এই ব্যাঙ আপনি দিনের কোন সময় খেতে পছন্দ করবেন? ব্রায়ান ট্রেসি যিনি একটি সফল কোম্পানির সিইও, কনসালটেন্ট এবং এই বইয়ের লেখক তিনি বলেন এটা করার সবথেকে উপযুক্ত সময় হবে একেবারে সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথে । কেননা ব্যাঙ খাওয়া আপনার দিনের সবথেকে খারাপ কাজ হবে। নরমালি এতটা খারাপ আপনার সাথে আর কিছু যেন না হয়। সবথেকে ভালো হয় দিনের সবথেকে খারাপ কাজ টি আপনি সবার আগে শেষ করে দিন ।যাতে করে আপনি আপনার পুরোটা দিন টেনশন ফ্রি থাকতে পারেন । এখানে ব্যাঙ খাওয়াটা একটি উদাহরণ ছিল। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন আপনার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সবার প্রথমে করে ফেলা উচিত যেটা করা আমাদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় আমরা কঠিন কাজ কে পরে করব বলে রেখে দেই। কিছুটা এরকম যে আপনি ওই ব্যাঙটাকে বসে বসে দেখছেন আর ভাবছেন আমাকে ব্যাঙটা খেতে হবে কিন্তু আমি এখন খাব না পরে খাব । এটা আর কিছুই নয় শুধু আমাদের টেনশন বাড়ায় । সকালবেলা কঠিন কাজ শেষ করার আরেকটি পারফেক্ট উদাহরণ হতে পারে – সকালবেলা আমাদের শরীরের এনার্জি বেশি থাকে এবং মাথা অনেক ঠান্ডা থাকে যার ফলে আমরা অনেক কঠিন কাজ সহজে করে ফেলতে পারি। আপনি হয়তো খেয়াল করে থাকবেন আমরা যখন কোন কঠিন কাজ শেষ করি তখন আমাদের রিলাক্স ফিল হয়। সফল হওয়ার জন্য একটা বড় কারণ হতে পারে ।এই কঠিন কাজ শেষ করার পর আমাদের যে ভালোলাগা অনুভূতি হয় তাকে আমরা একটা অভ্যাসে পরিণত করতে পারি । সময়ের সঠিক ব্যবহার করে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজকে প্রতিদিন শেষ করার বিষয়টা আমাদেরকে অনেক ভালোলাগা অনুভব করাবে এবং সাথে সাথে আমাদের কনফিডেন্স অনেক বেড়ে যাবে । এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার জন্য লেখক অনেক বাস্তব উদাহরণ দিয়েছেন যা আমি আপনাদের জন্য লিখব। যাতে করে আপনি আপনার সময়ের সঠিক ব্যবহার করে আপনার সকল লক্ষ্য পূরন করতে পারেন ।

কনফিউশন

একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যার কারণে আমরা আমাদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারি না আর তা হচ্ছে কনফিউশন এবং ক্লিয়ারিটি । উদাহরণস্বরূপ আমি যতক্ষণ কনফিউসড থাকি আমার পরবর্তী লেখা কি নিয়ে হবে ততক্ষণ আমি আমার অন্য কাজ থেকে ডিস্ট্রাক্ট হয়ে যাই , অনেক সময় নষ্ট করে ফেলি । আর যখনই আমি ডিসিশন নিয়ে নেই এবং ক্লিয়ার হয়ে যাই আমার পরবর্তী লেখা কি নিয়ে হবে তখন আমি আমার সময়ের খুব ভালো ব্যবহার করতে পারি। এভাবেই আপনি ও যদি আপনার সময়ের প্রপার ব্যবহার করে সফল হতে চান তাহলে সবার আগে ক্লিয়ার হয়ে যান আপনার লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে।

এই কাজটি করার জন্য আপনাকে কিছু রুলস মেনে চলতে হবে যা আমি আপনাদের জন্য নিচে দিয়ে দিয়েছি।

১ নোট করুনঃ শুধু মাত্র 3 শতাংশ লোক নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নোট করে রাখে আর ওই তিন শতাংশ লোকের নিজেদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ করার সম্ভবনা ৫ থেকে ১০ শতাংশ বেড়ে যায় । আমাদের ব্রেন ইনফর্মেশন ধরে রাখার জন্যে এতো ভালো নয় যতটা নতুন আইডিয়া আর ইনফর্মেশন বানানোতে ।সুতরাং যতটুকু সম্ভব আপনার আইডিয়া এবং সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি নোটে লিখে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২ নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করুনঃ আপনার সব লক্ষ্য-উদ্দেশ্য লেখার পরে আপনি একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করে ফেলুন কেননা কোন কাজ সঠিক সময়ে শেষ করার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তা না হলে আমরা ওই কাজটি কখনোই সময় মত করতে পারি না।

৩ লিস্ট তৈরি করুনঃ আপনার লক্ষ্য পূরণ করার জন্য আপনাকে যত কাজ করতে হবে তার একটা লিস্ট তৈরি করে ফেলুন আর ওই লিস্ট কেমন হবে তা আমি আপনাদেরকে পরের প্রিন্সিপালে খুব ভালোভাবে বর্ণনা করব।

৪ পরিকল্পনা তৈরি করুনঃ লিস্টে আপনার যা মাথায় আসে সব লিখে ফেলুন এবং ভালোভাবে পরিকল্পনা সাজান লিস্টে লেখা কাজগুলো কিভাবে শেষ করবেন।

৫কাজ করা শুরু করে দিনঃ প্ল্যান তৈরি করার পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয় আপনার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করা শুরু করে দিন । কারন এই শুরু করাটাই আপনাকে সব কিছুর ফলাফল এনে দিবে।

৬ সমস্যার সমাধান করুন: বই পড়ুন , অভিজ্ঞ মানুষের কাছ থেকে শিখুন, নতুন স্কিল তৈরি করুন যা আপনাকে আপনার লক্ষ্য পূরণ করার জন্য সহযোগিতা করবে । এবং আপনি আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন নূন্যতম এমন একটি কাজ করুন যা আপনাকে আপনার লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যাবে ।এই ছিল কিছু প্রিন্সিপাল যা আপনাকে আপনার লক্ষ পূরণ করতে অনেক সাহায্য করবে।

অগ্রিম পরিকল্পনা করুন

কাজ শুরু করার আগে কয়েক মিনিটের পরিকল্পনা আপনার বেশ কয়েক ঘণ্টা বাঁচিয়ে দিতে পারে । এবং আপনার কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করিয়ে দিতে পারে। পরিকল্পনা না থাকা অনেক সময় কনফিউশন তৈরি করে যা আমাদেরকে ঐ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে । এখন আসা যাক কাজ করার উপায় নিয়ে আমরা কিভাবে পরিকল্পনা করে কাজ শেষ করতে পারি ।এটা করার জন্য আপনাকে সবার প্রথমে লিস্ট তৈরি করতে হবে যা আমি আপনাদেরকে প্রথম প্রিন্সিপাল এ বলেছিলাম। এখন আমরা চারটি লিস্ট বানাবো কাজের পরিকল্পনা সাজানোর জন্য।

A MASTER LIST: মাস্টার লিস্টে আপনাকে ঐ সকল কাজের লিস্ট লিখতে হবে যা আপনি আপনার পুরো জীবনে অর্জন করতে চান। যেমন নিজের একটি কোম্পানি শুরু করা ওয়ার্ল্ড ট্যুর এ যাওয়া, পারফেক্ট বডি বানানো ,মানুষকে সাহায্য করার জন্য সংস্থা খোলা ETC।

B MONTHLY LIST: এই লিস্টে আপনি ঐ সকল কাজ লিখবেন যা আপনাকে সামনের মাসে করতে হবে আর মনে রাখবেন এই লিস্টে অন্তত এমন একটা কাজ থাকতেই হবে যা আপনাকে আপনার মাস্টার লিস্ট থেকে যেকোনো একটি লক্ষ্য অর্জন করতে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

C WEEKLY LIST এই লিস্টে আপনি ঐ সকল কাজ লিখবেন যা আপনাকে আগামী এক সপ্তাহের ভিতরে করতে হবে । এই লিস্টে এমন কাজ থাকবে যা আপনাকে আপনার মান্থলি কাজগুলো ধীরে ধীরে করতে সহযোগিতা করবে।

D DAILY LIST: আগের মতই এই লিস্টে আপনি ঐ সকল কাজ নিয়ে লিখবেন যা আপনাকে আজকে শেষ করতে হবে । ঐ সকল কাজ যা আপনার WEEKLY LIST লিস্টের কমপক্ষে একটি কাজ শেষ করে দিবে। তবে হ্যাঁ এসব লিস্টে আপনাকে আপনার বাকি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এবং ঘরের সকল কাজে যুক্ত করতে হবে যেমন বিদ্যুৎ বিল দেয়া শপিং করা , বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়া ETC,,,

অবশ্যই মনে রাখবেন আপনাকে সকল লিস্ট সব সময় আগে তৈরি করে রাখতে হবে মানে আপনি কালকে কি কি কাজ করবেন যা আপনার কালকের ডেইলি লিস্ট হবে তা আপনাকে আজকে রাত্রে শোয়ার আগে রেডি করে রাখতে হবে । একইভাবে WEEKLY LIST এবং বাকি লিস্ট আপনাকে আগে রেডি করে রাখতে হবে।

ABCDE টেকনিক

3 ABCDE টেকনিক : ABCDE টেকনিক খুব সাধারণ এবং খুব এফেক্টিভ টেকনিক যা আমাদেরকে সিওর হইতে সাহায্য করবে, আমরা আমাদের সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে পারছি কি না । যখন আপনি সব লিস্ট তৈরি করে ফেলবেন, এখন আপনাকে যা করতে হবে, আপনাকে লিস্টে লেখা প্রত্যেকটা কাজকে ABCDE মার্ক দিয়ে ফুল ফিল্ম করতে হবে । A দিয়ে ঐসকল কাজ মার্ক করতে হবে যে কাজ না করলে আপনাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে । B দিয়ে মার্ক করা কাজগুলা অই রকম কাজ হবে যা গুরুত্বপূর্ণ এবং ওই কাজগুলো না করলে আমাদের মোটামুটি সমস্যায় পড়তে হবে । C দিয়ে মার্ক করা কাজগুলা হবে অই রকম কাজ যা করতে পারলে আমাদের জন্য ভালো আর যদি না করতে পারি তাহলে আমাদের তেমন বড় কোন সমস্যা হবে না। D দিয়ে ঐ সকল কাজ মার্ক করতে হবে যা আমরা অন্যদেরকে দিয়ে করাতে পারি বা যেই কাজ আমাদের নিজেদের থেকে করা ততটা জরুরী নয়। E দিয়ে মার্ক করা কাজগুলা হবে হচ্ছে এরকম কাজ যা না করলেও আমাদের কোন সমস্যাই হবে না,যা আমরা আজকের জন্য বাদ ও দিতে পারি । লিস্ট এর সকল কাজ করার পরে আপনার পাইরোটি সবসময় এটাই হওয়া দরকার আপনার A দিয়ে মার্ক করা কাজ আপনি সবার আগে শেষ করে ফেলুন । A দিয়ে মার্ক করা কাজটা আপনার কাছে ব্যাঙ খাওয়ার মত হবে যা আপনার সকাল সকাল খেয়ে ফেলা ভালো । যদি এরকম দুইটা কাজ হয় যা আপনার সকাল-সকাল শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ এবং যা করতে না পারলে আপনাকে অনেক বেশি সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। তো ওই দুইটা কাজের একটি কে A1 দিয়ে মার্ক করুন এবং দ্বিতীয় টি কে A2 দিয়ে মার্ক করুন । দুটি কাজের ভিতর যেই কাজ সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে সেইটা আপনি আগে শেষ করবেন…

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Bengali BN English EN Hindi HI